Published : 03 Jan 2026, 12:18 AM
ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটার দেখছেন, আগেই তার ভোট কেউ দিয়ে ফেলেছে; কিংবা ভোট দিতে আসা ব্যক্তি আগে ভোট দিয়েছেন বলে প্রার্থী বা এজেন্ট দাবি করলেই বা কী করবেন প্রিজাইডিং অফিসার?
ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে ‘টেন্ডার্ড ব্যালট পেপার’ ও ‘চ্যালেঞ্জড ব্যালট পেপারে’ ভোট নেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে এ টেন্ডার্ড ব্যালট পেপার গোনা না হওয়ায় একে ‘সান্ত্বনা ভোট’ হিসেবে দেখা হয়। আর ‘চ্যালেঞ্জড’ বা আপত্তিকৃত ভোট গণনা করার বিধান রয়েছে।
কেন্দ্রে যাওয়ার আগেই ভোট হয়েও যাওয়ার ঘটনা ‘নিশিরাতের ভোট’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া একাদশ সংসদ নির্বাচনে অহরহই ঘটেছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে ‘টেন্ডার্ড ব্যালট পেপারে’ তার ভোট নেওয়া হয়।
অবশ্য একে সান্ত্বনা ভোট বলাতে আপত্তি রয়েছে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকারের।
তার কথায়, “এটি আলাদা খামে প্রিজাইডিং অফিসার সিলগালা করে সাবমিট করবে; এটা আউট অব কাউন্ট।
“এ ধরনের ভোটকে সান্ত্বনা ভোট বলা যাবে না, আরপিও তে যেভাবে বলা রয়েছে, সেভাবেই বলা হোক।”
আরপিওর ৩২ এর (১) অনুচ্ছেদে বলা আছে––“যদি কোনো ব্যক্তি ব্যালট পেপারের জন্য আবেদন করিয়া অবগত হন যে, অন্য কোনো ব্যক্তি ইতঃপূর্বে নিজেকে উক্ত ভোটার হিসাবে ঘোষণা করিয়া আবেদনকারীর নামে ভোট প্রদান করিয়াছেন, তাহা হইলে তিনি অন্য যে কোনো ভোটারের ন্যায় একই পদ্ধতিতে এই অনুচ্ছেদের বিধান সাপেক্ষে, একটি ব্যালট পেপার (অতঃপর ‘টেন্ডার্ড ব্যালট পেপার’ বলিয়া উল্লিখিত) পাইবার অধিকারী হইবেন।”
এ ভোট দেওয়ার পর তা ব্যালট বাক্সে ফেলার সুযোগ নেই; আলাদা খামে রাখেন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “টেন্ডার্ড ভোট হল-একজন ভোট দিয়ে গেছেন…ধরুন যদি একজন গিয়ে আরেকজনের ভোট দিয়ে গেছেন; কিন্তু একজন গিয়ে বললেন, তিনি আসল ভোটার। তখন ঝামেলা এড়ানোর জন্য বলা হয়, ‘আচ্ছা ঠিক আছে, একটা ভোট দিয়ে যান’। আসলে ভোটটা গণনা হয় না।”
আরেকটা ভোট রয়েছে চ্যালেঞ্জড বা আপত্তিকৃত নামে, যেটি গোনা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, “এ ব্যালট পেপারে আপত্তি দিয়ে রাখা হবে। গণনাও হবে। যেমন একজন গিয়ে বললেন, ‘আমি এক্স’; এজেন্ট বললেন, ‘উনি এক্স নয়, ওয়াই’।
“তখন আমরা ভোট দিতে দেব, গণনাও হবে। একটা চ্যালেঞ্জ থাকল, এটা আপত্তি ভোট। এজন্য ১০০ টাকা অর্থসহ দরখাস্ত দিলে তাহলে গুরুত্বপূর্ণ হবে।”

চালেঞ্জড ভোট কখন নেওয়া হয়, তার ব্যাখ্যায় নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য আব্দুল আলীমও বলছিলেন, “আমি কেন্দ্রে গেলাম, আমাকে বলা হল- আমার ভোট আমি দিয়ে এসেছি। কিন্তু আমি প্রমাণ করলাম- আমি ভোট দিইনি, আঙ্গুলে অমোচনীয় কালি নেই।
“তখন আমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে ব্যালট পেপার ইস্যু করা হল। তারপর আমি ব্যালট পেপার বাক্সে ফেলতে পারছি না, আলাদাভাবে খামে রাখা হচ্ছে।”
আপত্তিকৃত ব্যালট পেপার বিষয়ে আরপিওর ৩৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে-
>> কোনো ব্যক্তি ব্যালট পেপার নেওয়ার সময় যদি কোনো প্রার্থী বা তাহার নির্বাচনি এজেন্ট(পোলিং এজেন্ট) প্রিজাইডিং অফিসারের নিকট আপত্তি উত্থাপন করেন যে, ইতোপূর্বে এই নির্বাচনে একই বা অন্য কোনো ভোট কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন বা ভোটার তালিকায় লিপিবদ্ধ যে নামের বিপরীতে ভোট দিতে চাচ্ছেন তিনি সেই ব্যক্তি নন।
>> প্রয়োজনে কোনো আদালতে এই অভিযোগ প্রমাণে সম্মত আছেন এবং প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে নগদে নির্ধারিত অর্থ জমা দেন, তাহলে প্রিজাইডিং অফিসার এ ব্যক্তিকে (এর পরিণাম সম্পর্কে সতর্ক করে) মুড়িপত্রে বৃদ্ধাঙ্গুলির ছাপ এবং তিনি শিক্ষিত হলে স্বাক্ষর নিয়ে তাকে একটি ব্যালট পেপার (আপত্তিকৃত ব্যালট পেপার) দেবেন।
>>এক্ষেত্রে প্রিজাইডিং অফিসার এ ব্যক্তির নাম ও ঠিকানা লিখে ‘আপত্তিকৃত ভোট তালিকা’ করবেন। ভোট দেওয়ার পর ব্যালট বাক্সে না ফেলে ‘আপত্তিকৃত ব্যালট পেপার’ লেভেলযুক্ত একটি স্বতন্ত্র খামে রাখবেন।
ইসির সাবেক কর্মকর্তা মিহির সারওয়ার মোর্শেদ প্রায় তিন দশকের অভিজ্ঞতা থেকে বলেন, “টেন্ডার্ড ভোট এখন হয় না বললেই চলে; এগুলো বাদ, এটার কোনো মূল্য নেই।
“আপত্তি ভোটটা হয়। আমিই ভোটার, কিন্তু আপত্তি করছে, ‘আমি এই ভোটার নয়’। তখন আমি হলফনামা দিয়ে বলছি; তখন ভোটটা নেওয়া হয়, গোনা হয়।”
ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, মোটাদাগে টেন্ডার্ড ভোট আর আপত্তিকৃত ভোটের পার্থক্য হচ্ছে—টেন্ডার্ড ভোট গোনা না হলেও আপত্তি ভোট গণনা করা হয়। ফলে সেই ভোট কোনো প্রার্থীর জয়-পরাজয়ে ভূমিকা রাখতে পারে। টেন্ডার্ড ভোটের ক্ষেত্রে ভোটারকে কোনো ধরনের মুচলেকা দিতে হয় না; তবে আপত্তি ভোটের ক্ষেত্রে ১০০ টাকার মুচলেকা দিয়ে ভোট দিতে হয় ভোটারকে।
>>ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে পৌনে ১৩ কোটি ভোটার রয়েছে। সারাদেশে কেন্দ্র থাকছে ৪২ হাজার ৭৬৬টি; এরমধ্যে ভোটকক্ষ থাকছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ১৯৫টি।
>>এবার সংসদ ও গণভোট একসাথে হওয়ায় ভোটাররা দুটি ব্যালট পেপার পাবেন।
>>প্রথমবারের মতো আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিং চালু হয়েছে; পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে ও প্রবাসে ১২ লাখের বেশি ভোটার নিবন্ধিতও হয়েছেন।
আরও পড়ুন