০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

পোস্টাল ভোটিং: জেলখানায় নিবন্ধন আর ভোট হবে যেভাবে

নিবন্ধনের পর জামিন বা মুক্তি মিললেও এলাকায় ফিরে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকবে না।

বিশেষ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Dec 2025, 08:44 AM

Updated : 26 Aug 2026, 05:24 PM

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে জেলখানায় পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপে নিবন্ধন চলছে, যা শেষ হবে ৩১ ডিসেম্বর।

বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সোয়া সাত লাখের বেশি নাগরিক পোস্টাল ভোটিংয়ের জন্য নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে প্রবাসে প্রায় সোয়া পাঁচ লাখ; আর দেশে আছেন দুই লাখের মতো।

প্রবাসী ভোটার (আউট অব কান্ট্রি ভোটিং-ওসিভি), সরকারি চাকরিজীবী, নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি এবং আইনি হেফাজতে থাকা (ইন-কান্ট্রি পোস্টাল ভোটিং-আইসিপিভি) ভোটারদের জন্য এবার পোস্টাল ভোটিংয়ের ব্যবস্থা করেছে নির্বাচন কমিশন।

সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে বাংলাদেশের কোনো জেলখানায় বা আইনি হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের ভোট দেওয়ার নির্দেশিকা জারি করেছে ইসি।

বুধবার এ সংক্রান্ত নির্দেশনা কারা মহাপরিদর্শকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

যা আছে নির্দেশিকায়

>> ইন-কান্ট্রি পোস্টাল ভোটিং (আইসিপিভি) পদ্ধতিতে নিবন্ধন করে জেলখানায় বা আইনি হেফাজতে আটক থাকা ব্যক্তিরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। 

>> জেলখানায় বা আইনি হেফাজতে আটক ভোটারের তালিকাভুক্তি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অনুমোদন হবে। এ ধরনের ভোটারদের নিবন্ধনের জন্য একটি বিশেষ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম  (https://prisoner.ocv.gov.bd/login) ব্যবহার হবে। 

>>জেলখানা বা আইনি হেফাজত কর্তৃপক্ষ আটক থাকা ভোটারদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য দুজন করে প্রতিনিধি মনোনয়ন দেবে, যারা নিবন্ধনের কাজ পরিচালনা করবেন।

>> আগ্রহী ভোটারদের নিবন্ধন শেষে জেলখানা বা আইনি হেফাজত কর্তৃপক্ষ মুদ্রিত তালিকা সিল ও স্বাক্ষরসহ  নির্বাচন কমিশনে পাঠাবেন। একই সঙ্গে মনোনীত প্রতিনিধিরা নির্ধারিত পোর্টালে ভোটারদের প্রয়োজনীয় তথ্য আপলোড করবেন।

>> জেলখানায় বা আইনি হেফাজতে থাকা নিবন্ধিত ভোটাররা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পোস্টাল ব্যালটের খাম পাবেন। 

>> জেলখানা বা আইনি হেফাজত কর্তৃপক্ষ আটক ব্যক্তিদের ভোটদানের জন্য ভোট কক্ষ বা গোপন কক্ষ প্রস্তুত করে ভোটের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করবে। 

>> পোস্টাল ব্যালটে কোনো প্রার্থীর নাম থাকবে না; শুধু বরাদ্দকৃত প্রতীক ও প্রতীকের পাশে ফাঁকা ঘর  থাকবে। এ কারণে কর্তৃপক্ষ ভোটারদের কাছে নিজ নিজ সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক-সম্বলিত চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা সরবরাহ করবে।

>> সংসদ নির্বাচনের পোস্টাল ব্যালটে ভোটাররা মুদ্রিত প্রতীকের পাশে ফাঁকা ঘরে টিক  চিহ্ন বা ক্রস চিহ্ন দিয়ে ভোট দেবেন। একইভাবে গণভোটের পোস্টাল ব্যালট পেপারে হ্যাঁ/না-এর পাশে ফাঁকা ঘরে টিক চিহ্ন বা ক্রস চিহ্ন দিয়ে ভোট দেবেন।

>> ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার পর ব্যালট পেপার দুটি ছোট খামে রেখে খামটি বন্ধ করবেন।

>> ব্যালট পেপার সম্বলিত খাম এবং স্বাক্ষরিত ঘোষণাপত্র রিটার্নিং অফিসারের ঠিকানা মুদ্রিত হলুদ খামে প্রবেশ করার পর খামটি বন্ধ করে তা সংশ্লিষ্ট জেলখানা বা আইনি হেফাজত কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত স্থানে বা বাক্সে জমা দিতে হবে।  

>> ভোট প্রদান প্রক্রিয়া শেষ করে কর্তৃপক্ষ  সব খাম যতদ্রুত সম্ভব নিকটস্থ ডাক বিভাগের কাছে পাঠাবে বা হস্তান্তর করবে। ডাক বিভাগের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি পোস্টাল ব্যালটের খাম দ্রুততার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের ঠিকানায় পাঠানোর ব্যবস্থা নেবে।

বৃহস্পতিবার সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ বলেন, “২১ থেকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত আইনি হেফাজতে থাকার ব্যক্তিদের নিবন্ধনের সময় ছিল; নিবন্ধন কাজ শুরুও হয়েছে। এখন অ্যাপে নিবন্ধনের সময় ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ চলছে, সারাদেশের একীভূত পূর্ণাঙ্গ তথ্য পরে জানাতে পারব।”

বর্তমানে দেশের ৭৫টি কারাগারে প্রায় ৮০ হাজার বন্দি রয়েছে। নিয়মিত আসা-যাওয়ায় এ সংখ্যা কমবেশি হতে পারে। ভোট দিতে আগ্রহীদের নিবন্ধনের আওতায় আনা হচ্ছে।

পোস্টালে নিবন্ধন করলে ভোটকেন্দ্রে সুযোগ থাকবে না

কারাগারে নিবন্ধনের করার পর ভোটের আগে কেউ জামিনে বা মুক্তি পেয়ে বেরিয়ে এলেও ভোটকেন্দ্রে সশরীরে আর ভোট দিতে পারবেন না।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময়; বাছাই-আপত্তি নিষ্পত্তি শেষে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে ২০ জানুয়ারি। পরের দিন প্রতীক বরাদ্দ পাবেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা।

সেক্ষেত্রে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়া শুরু হবে ২১ জানুয়ারির পর। এ সময়ের পরে প্রবাসী নিবন্ধিত ভোটার দেশে এলে বা কারাগারে নিবন্ধিন করে জামিন বা মুক্তি পেলে তাদের ভোট  দেওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে।

জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, “যিনি প্রবাসে থেকে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন, দেশে এসে আর ভোট দিতে পারবেন না। কারণ ভোটার তালিকায় প্রবাসী পোস্টাল ব্যালটে তার নাম মার্কিং করা থাকবে। 

“জেলখানার ক্ষেত্রেও তাই। আইনি হেফাজতে থাকা অবস্থায় নিবন্ধন করে ফেললে তার জন্য সেখানে পোস্টাল ব্যালট যাবে; তার ঠিকানায় গিয়ে নির্ধারিত সময়ে ভোট দিতে হবে; খামে পাঠাতে হবে। পোস্টালের জন্য নিবন্ধিত হয়ে ভোট সেন্টারে গিয়ে আর ভোট দিতে পারবেন না।”

পরিপত্র জারি: ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর না থাকলে পোস্টাল ব্যালটের 'ভোট

পোস্টাল ভোটিং: কারাগারে ভোটার নিবন্ধনে দুই চ্যালেঞ্জ

তিন দিনে ৭২ হাজার প্রবাসীর ঠিকানায় গেল পোস্টাল ব্যালট

পোস্টাল ভোটিং: অ্যাপে নিবন্ধন ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত