Published : 06 Oct 2025, 06:15 PM
গাজীপুরের টঙ্গীতে রাসায়নিকের গুদামে আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ার ফাইটার নুরুল হুদার প্রাণহানির ১২ দিন পর তার ঘরে এল আরেক সন্তান।
সোমবার সকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার স্ত্রী আসমা খাতুন একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন বলে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসীম জানিয়েছেন।
এটি নুরুল হুদার তৃতীয় সন্তান। তার ১০ বছরের এক মেয়ে ও তিন বছরের এক ছেলে রয়েছে। তার বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে। মা ও নবজাতক সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর দগ্ধ ফায়ার সার্ভিস কর্মী নুরুল হুদা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরদিন সকালে গফরগাঁও উপজেলার সালটিয়া ইউনিয়নের ধামাইল গ্রামের বাড়িতে তাকে দাফন করা হয়।
নুরুল হুদা টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসে ফায়ার ফাইটার পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি ২০০৭ সালের ২৯ মার্চ চাকরিতে যোগ দেন। তিনি মা, বাবা, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীসহ এক মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন। নুরুল হুদার বাবার নাম আবুল মুনসুর। তিনি পেশায় একজন চামড়া ব্যবসায়ী। মৃত্যুর সময় নূরুল হুদা অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আসমা খাতুন, ১০ বছরের মেয়ে নুসরাত নেহা ও তিন বছরের ছেলে আবিদ হাসানকে রেখে গেছেন।
স্বজনরা জানান, রোববার দুপুরে নূরুল হুদার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আসমা খাতুনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার সঙ্গে ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের লোকজনও ছিলেন। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ছেলে সন্তানের জন্ম দেন আসমা খাতুন। এ সময় ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দীসহ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পরিবারটির পাশে ছিলেন।

আসমা খাতুন বলেন, “ছেলে ও আমি ভালো আছি, সবাই দোয়া করবেন। তবে আফসোস হচ্ছে, ছেলের মুখ দেখে যেতে পারলো না তার বাবা। ছেলে যেন তার বাবার মতো দেশপ্রেমিক হয়।”
নূরুল হুদার বাবা আবুল মুনসুর বলেন, “আমি ছেলে হারাইলাম, আমার ছেলের সন্তান জন্ম নিলো এতিম হয়ে। সে তার সন্তানকে দেখে যেতে পারল না। আল্লাহ সব পরিকল্পনাকারী, তিনিই আমার নাতীকে দেখে রাখবেন।”
ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী বলেন, “শহীদ ফায়ার ফাইটার নুরুল হুদার স্ত্রীর অসুস্থতার খবর পেয়ে স্টেশন কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেনের মাধ্যমে গ্রামের বাড়ি থেকে আমাদের এখানে নিয়ে আসি।
“প্রথমে অফিসে রেখেই আমার একটি দল হাসপাতালে পাঠাই। সবকিছু নিশ্চিত করার পর আমি সঙ্গে গিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক জাকিউল ইসলামের মাধ্যমে ভর্তি করাই।”
তিনি বলেন, নুরুল হুদার স্ত্রীকে ভিআইপি মর্যাদায় লেভার ওয়ার্ডে স্পেশাল একটা কক্ষের ব্যবস্থা করে এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি দল গঠন করে। এর মাধ্যমে তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

উপ-পরিচালক জাকিউল ইসলাম বলেন, “সকালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নুরুল হুদার স্ত্রীর ছেলে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। মা ও নবজাতক দুজনেই ভালো আছেন। পরে হাসপাতালের পরিচালকসহ আমরা নবজাতক ও মায়ের খোঁজখবর নিয়েছি।”
এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর বিকালে টঙ্গীর সাহারা মার্কেট এলাকায় একটি রাসায়নিকের গুদামে আগুন নেভাতে গিয়ে গুরুতর দগ্ধ হয়েছিলেন নুরুল হুদা। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয় তাকে। সেখানে দুদিন চিকিৎসা চলার পর ২৪ সেপ্টেম্বর মারা যান তিনি।
একই ঘটনায় দগ্ধ হয়ে ফায়ার সার্ভিসের আরও দুই সদস্য শামীম আহমেদ ও ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর খন্দকার জান্নাতুল নাঈমও প্রাণ হারান।