Published : 29 Jan 2026, 08:02 PM
প্রার্থী তালিকায় ৮ ফেব্রুয়ারির যুক্ত হলে পোস্টাল ব্যালটে তার নাম কিংবা মার্কা যুক্ত করার সুযোগ থাকবে না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বৃহস্পতিবার এ সিদ্ধান্তের কথা জানান নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ।
১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হবে। সেক্ষেত্রে ৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দেশের ভেতরে সাড়ে ৭ লাখ পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এসব ব্যালটে আসনভিত্তিক প্রার্থীর নাম ও মার্কা থাকবে।
এরই মধ্যে প্রবাস থেকে পোস্টাল ব্যালট দেশেও আসছে। প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালটে ১১৮টি প্রতীক রয়েছে। সাড়ে ৭ লাখের বেশি নিবন্ধিত প্রবাসীর মধ্যে প্রায় ৫৫ হাজারের ব্যালট পেপার ফেরত খামে দেশে পৌঁছে গেছে।
বাছাই ও আপিল শেষে ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ছিল। এরপর অনেকে আদালতের আদেশে প্রার্থিতা ফেরত পান। এখন ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী রয়েছে ২০১৭ জন।
বিরাজমান পরিস্থিতি নতুন করে প্রার্থী যোগ হওয়ায় বেশ কিছু আসনে পোস্টাল ব্যালট নিয়ে জটিলতায় পড়ে ইসি।
বৃহস্পতিবার এ নিয়ে কমিশনের আলোচনার পর পোস্টাল ব্যালটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ বিকালে ব্রিফিংয়ে জানান, প্রশ্ন এসেছে কত সময় পর্যন্ত নতুন প্রার্থী সংযোজন করা যেতে পারে, যেন পোস্টাল ব্যালটের ভোটটা যেন নিশ্চিত করা যায়।
“এখানে একটা প্রাসঙ্গিক সময়ের ব্যাখ্যা দরকার ছিল। কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আদালত যদি কারোর প্রার্থিতা বহfল, পুনর্বহাল করেন বা দেন; তাহলে সেই পর্যন্ত আমরা এটা পোস্টাল ব্যালটে তাদেরকে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টা বিবেচনায় নেব বা নেওয়া যেতে পারে।”
ইসি সচিব বলেন, “কিন্তু ৮ ফেব্রুয়ারির পরে যদি কারো প্রার্থিতা পুনর্বহাল হয়, সেক্ষেত্রে পোস্টাল ব্যালট তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়ার সুযোগ নেই। কেননা, ব্যালট ছাপিয়ে তাদেরকে পাঠিয়ে তারপরে রিটার্নিং অফিসারের কাছ থেকে ফেরত পেতে যে সময়টুকু দরকার, সে সময়টুকু থাকবে না।“
৭ আসনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ চায় না জামায়াত; ইসি বলছে, সুযোগ নেই
১১ দলীয় জোটের সঙ্গে সমঝোতার কারণে এবার অনেক আসনে প্রার্থী দেয়নি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। কোনো কোনো আসনে প্রার্থী থাকলেও পরে তারা সরে দাঁড়ার।
এর মধ্যে সাতটি আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থীরা সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর। এই সাতটি আসনের ব্যালটে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক না রাখতে ইসিকে অনুরোধ জানায় জামায়াত ইসলামী।
তবে ইসি বলেছে, প্রতীক প্রত্যাহারের সুযোগ আর নেই।
বৃহস্পতিবার ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের সই করা এ সংক্রান্ত চিঠি জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলের কাছেও পাঠানো হয়।
ওই সাত আসনের মধ্যে রয়েছে- চট্টগ্রাম-৮, নরসিংদী-২, ভোলা-২, নরসিংদী-৩, নারায়ণগঞ্জ-৩, সুনামগঞ্জ-১ ও চট্টগ্রাম ১২।
চট্টগ্রাম-৮ ও নরসিংদী-২ এনসিপিকে, ভোলা-২ ও চট্টগ্রাম-১২ এলডিপি, নরসিংদী-৩ ও নারায়ণগঞ্জ-৩ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও সুনামগঞ্জ-১ নেজামে ইসলাম পার্টিকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে জামায়াত।
সাংবাদিক কার্ডের ‘ম্যানুয়াল’ আবেদনও নেওয়া হবে
নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের জন্য এবার অনলাইনে ‘সাংবাদিক কার্ড’ দিচ্ছে কমিশন। কিন্তু কিছু সাংবাদিকের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সেটা আগের মতো ‘ম্যানুয়ালি’ আবেদনের ভিত্তিতে দেওয়া হবে।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, সকালে সাংবাদিকরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং অনলাইন আবেদনের জটিলতা নিরসনের দাবি তোলা হয়।
ইসি সচিব বলেন, “আজকে আপনারা সকালে মাননীয় প্রধান নির্বাচন কমিশনার স্যারের সাথে দেখা করে নিবন্ধনের বিষয়ে কথা বলেছেন। আমরা আপনাদের দাবির প্রতি সমর্থন রেখে কার্ড ব্যবস্থা প্রত্যাবর্তন করব। অনলাইনে যারা আবেদন করেছেন, যেগুলো হয়ে গেছে, সেটা তো আছে। কিন্তু আপনারা অতীতে যেভাবে পেতেন, সেভাবে পাবেন, সে ব্যবস্থাটা করা হবে। তবে একটু সময় দেবেন।”
আরও পড়ুন