Published : 27 Jan 2026, 12:46 AM
দেশের ভেতরে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো শুরুর তথ্য দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ।
সোমবার নির্বাচন ভবনে তিনি বলেন, দেশের ভেতরে যারা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে নিবন্ধন করেছেন তাদের ঠিকানায় ব্যালট পাঠানো শুরু হয়েছে। এটি পাবেন নির্বাচনি দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মচারী, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও আইনি হেফাজতে থাকা নিবন্ধিত ভোটাররা।
ইতোমধ্যে ইসি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, দেশের অভ্যন্তরে যেসব ভোটার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেবেন, তাদের জন্য পাঠানো ব্যালটগুলো হবে প্রচলিত ব্যালটের মতই আসনভিত্তিক। এতে সংশ্লিষ্ট আসনের প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ইসি সচিব বলেন, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফল এবার এক সঙ্গেই প্রকাশ করা হবে।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে ও প্রবাসে পোস্টাল ভোট দেওয়ার জন্য মোট নিবন্ধন করেছেন ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন।
এর মধ্যে দেশের অভ্যন্তরে নিবন্ধন করেছেন ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪২ জন। এদের মধ্যে আইনি হেফাজতে থাকা ভোটার ৬ হাজার ২৪০ জন।
প্রবাস থেকে নিবন্ধন করেছেন ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪২ জন ভোটার।
প্রতীক বরাদ্দের দিন ২১ জানুয়ারি থেকে প্রবাসীরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়ে তা ফেরত পাঠাতে পারছেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ভোটের দিন বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত যেসব পোস্টাল ব্যালট পৌঁছাবে শুধু সেগুলোই গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
ভোটে সাংবাদিকদের পরিচয়পত্রের আবেদন অনলাইনে
এবারের ভোটে সংবাদকর্মীদের পরিচয়পত্র সরবরাহের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হবে, যে কার্যক্রম শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন।
আগ্রহীদের ৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্ধারিত পোর্টালে আবেদন করতে হবে।
সোমবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জনসংযোগ শাখার সহকারী পরিচালক আশাদুল হক এ তথ্য দেন।
এবার প্রথমবারের মত অনলাইনে সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র ও স্টিকার দেওয়ার প্রক্রিয়া নিল ইসি।
একই সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের সহযোগিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশনা দিয়ে বিশেষ পরিপত্র জারি করেছে নির্বাচন কমিশন।
ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে সাংবাদিকরা নির্বিঘ্নে সংবাদ সংগ্রহ করতে পারবেন। কোনো প্রকার বাধা দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
পরিপত্রে যা বলা হয়েছে-
১) অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য নির্বাচনি সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত সাংবাদিক/গণমাধ্যমকর্মীদের দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে নির্বাচন কমিশন সাংবাদিক নীতিমালার ক্রমিক নম্বর ৪ অনুযায়ী সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র প্রদান করে।
২) গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের অনুচ্ছেদ ২৯(গ) অনুযায়ী রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি পাওয়া সাংবাদিকরা স্ব-স্ব পরিচয়পত্রসহ নির্বাচনি সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করবেন।
৩) নির্বাচনি সংবাদ সংগ্রহে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংবাদিক/গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য নীতিমালা-২০২৫ এর ক্রম ১০ অনুসারে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রদত্ত বৈধ কার্ডধারী সাংবাদিকরা সরাসরি ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন।
৪) সাংবাদিক পরিচয়পত্র ও গাড়ির স্টিকারের জন্য https://pr.ecs.gov.bd/ পোর্টালে আবেদন করতে পারবেন। অনুমোদনপ্রাপ্ত আবেদনকারীরা অনলাইনে নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সম্বলিত কিউআর কোডযুক্ত পরিচয়পত্র ও গাড়ির স্টিকার ডাউনলোড ও মুদ্রণ করে নিতে পারবেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত পত্রের মাধ্যমে অবহিত করা হবে।
৫) নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রাধিকারপ্রাপ্ত অন্যান্য কর্মকর্তারা কিউআর কোড সম্বলিত পরিচয়পত্র ও গাড়ির স্টিকারের যথার্থতা যাচাই করতে পারবেন।
৬) গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের অনুচ্ছেদ ৮৪(ক) অনুসারে নির্বাচনি সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত নির্বাচন কমিশনের অনুমোদিত কোনো গণমাধ্যমকর্মী/প্রতিনিধিকে যদি কোনো ব্যক্তি বাধা দেন বা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং তার শারীরিক কোনো ক্ষতি করেন বা করার চেষ্টা করেন অথবা তার দায়িত্ব পালনে ব্যবহার্য সরঞ্জামের ক্ষতি সাধন করেন তাহলে এই বিধান অনুযায়ী উক্ত ব্যক্তি অপরাধী সাব্যস্ত হলে যথাযথ দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
৭) নির্বাচনি সংবাদ সংগ্রহে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংবাদিক/গণমাধ্যমকর্মী নীতিমালা ২০২৫ অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে নির্বাচনি সংবাদ সংগ্রহে ও নিরাপত্তা বিধানে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন।
৮) নির্বাচনি সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত বৈধ কার্ডধারী সাংবাদিকদের প্রিজাইডিং অফিসার সংবাদসংগ্রহের ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রের ভেতরের স্থান সংকুলানের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুকুল পরিবেশ বজায় নিশ্চিত করে সংবাদকর্মীদের সংবাদ সংগ্রহে সহযোগিতা প্রদান করবেন।
আরও পড়ুন