Published : 27 Jul 2026, 09:37 AM
সেঞ্চুরির সুবাস নিয়ে দিন শুরু করা কাভেম হজ থমকে গেলেন শুরুতেই। সেঞ্চুরির আরও কাছে গিয়েও দেখা পেলেন না শেই হোপ। পরে শতরানের হাতছানিতেই দিন শেষ করলেন শান মাসুদ, নেতৃত্ব হারিয়ে দলে জায়গা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ নিয়ে নেমেছেন যিনি। সব মিলিয়ে জমজমাট লড়াইয়ের একটি দিন শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে একটু এগিয়ে রাখা যায় পাকিস্তানকে।
ত্রিনিদাদ টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ৩১১ রানে। হজ ফেরেন ৮৪ রানে, হোপ কাটা পড়েন ৯২ রানে।
পাকিস্তানের সফলতম বোলার মোহাম্মাদ আলি। আগের চার টেস্টে ছয় উইকেট শিকারি পেসার এবার চার উইকেট নেন ৫০ রানে।
পাকিস্তান রোববার দিন শেষ করে ৩ উইকেটে ১৯৯ রানে। ইমাম-উল-হাক আউট হন ৬৩ রানে। মাসুদ অপরাজিত ৮৮ রানে। ১৩৭ বলের ইনিংসে চার মেরেছেন তিনি ১১টি।
মাসুদের ইনিংস অবশ্য খুব মসৃণ ছিল না। ইনিংসের শুরুতে একবার জীবন পান তিনি। বল অল্পের জন্য ব্যাটের কানা স্পর্শ করেনি বেশ কবার। ব্যাটের কানায় লেগেই এসেছে তার অর্ধেক বাউন্ডারি। তার পরও টিকে গেছেন এবং নিজের মতো খেলে শতরানের কাছে পৌঁছে গেছেন।
ব্রায়ান লারা স্টেডিয়ামে বৃষ্টিবিঘ্নিত প্রথম দিনে ৩ উইকেটে ১৯৯ রান করা ক্যারিবিয়ানদের দ্বিতীয় দিন শুরু হয় বড় ধাক্কায়। ৮৩ রানে অপরাজিত থাকা হজ আর একটি রান যোগ করেই বিদায় দেন খুররাম শাহজাদের বলে। হোপের সঙ্গে তার জুটি থামে ৯১ রানে।
এরপর এক প্রান্তে লড়ে গেছেন হোপ। আরেক প্রান্তে তাকে সঙ্গ দিনে পারেননি কেউ। পরের ছয় জুটির একটিও ৩৫ স্পর্শ করতে পারেনি। হোপ নিজেও জীবন পান আলির বলে। আজান আওয়াইস ক্যাচটি নিতে পারলে ক্যারিবিয়ানদের অবস্থা হতো আরও করুণ।

জাস্টিন গ্রেভসকে ১৫ রানে বিদায় করেন আলি। দ্বিতীয় নতুন বলে মোহাম্মাদ আব্বাসের শিকার ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক রস্টন চেইস।
শেষ দিকে ১৩ বলে ২৩ রান করেন পেসার শামার জোসেফ। লাঞ্চের পর দ্বিতীয় বলে বাউন্সারে তাকে থামান আলি। এই পেসারের পরের ওভারেই ভেতরে ঢোকা দারুণ ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ হোপ।
ওই ওভারেই শেষ ব্যাটসম্যান জেডেন সিলসকে বোল্ড করে ইনিংস শেষ করে দেন আলি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ শেষ তিন উইকেট হারায় সাত রানের মধ্যে।
পাকিস্তান ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই হারায় ওপেনার আজান আওয়াইসকে। দুই মাস আগে অভিষেক টেস্টে বাংলাদেশে সেঞ্চুরি করা ওপেনার এবার শূন্য রানে বোল্ড হন কিমার রোচের বলে।
তবে এরপরই ক্যারিবিয়ানদের লম্বা সময় হতাশ করে বড় জুটি গড়ে তোলেন ইমাম ও মাসুদ। বারবার পরাস্ত হওয়ার ফাঁকেও শট খেলা চালিয়ে যান মাসুদ। ৯ চারে ফিফটি করেন ৪৬ বলেই। পরে তিনি অনেকটা ধীরস্থির হয়ে উইকেট আগলে রাখেন।
ইমামের ফিফটি আসে ৮১ বলে। ৬৩ রানে আউট হন তিনি শামারের বলে স্লিপে গ্রেভসের দারুণ ক্যাচে। জুটি থামে ১৫৫ রানে।
এরপর সদ্য সাবেক অধিনায়ক মাসুদ ও অধিনায়কত্ব ফিরে পাওয়া বাবর আজম দিনটা পার করে দেবেন বলেই মনে হচ্ছিল। শেষ বেলায় সিলস ফিরিয়ে দেন বাবরকে।
ওই উইকেটই নতুন দিনের জন্য ক্যারিবিয়ানদের একটু প্রেরণা। মাসুদ তৃতীয় দিন শুরু করবেন ক্যারিয়ারের সপ্তম শতরানের আশায়।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ৯৮.৫ ওভারে ৩১১ (আগের দিন ১৯৪/৩) (হজ ৮৪, হোপ ৯২, গ্রেভস ১৫, চেইস ১০, রোচ ৩, শামার ২৩, ওয়ারিক্যান ১*, সিলস ০; আব্বাস ২৬-৬-৬৩-৩, শাহজাদ ২৩-৫-৬৬-২, আলি ২১.৫-৫-৫০-৪, উসমান ১৩-১-৩৫-০, জামাল ১৫-১-৮১-১)।
পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৪৮ ওভারে ১৯৯/৩ (আজান ০, ইমাম ৬৩, মাসুদ ৮৮*, বাবর ২৩, সালমান ০*; রোচ ৮-১-৩৩-১, সিলস ১৩-৩-৪৮-১, শামার ৯-০-৩৩-১, গ্রেভস ৪-১-১৮-০, ওয়ারিক্যান ১৪-০-৪৯-০)।