Published : 14 Jul 2026, 09:29 PM
বগুড়ায় একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল–২০২৬’ পাস হয়েছে জাতীয় সংসদে।
মঙ্গলবার সংসদে বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন; পরে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
এর মধ্য দিয়ে ২০০১ সালে করা ‘বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন’ রহিত হল। ওই আইনে বিশ্ববিদ্যালয়টির কার্যক্রম শুরু হয়নি।
বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল পাসের বিলটি জনমত যাচাইয়ের জন্য প্রচার এবং বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব দেন বিরোধী দলের একাধিক সংসদ সদস্য। এসব প্রস্তাব ও বিলের সাধারণ নীতির ওপর আলোচনা শেষে প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ তুলে ধরা বিবৃতিতে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালের ১৫ জুলাই ‘বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন’ গেজেট আকারে প্রকাশিত হলেও তা কার্যকর করা হয়নি।
তিনি বলেন, বাস্তবতার নিরিখে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবর্তে বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, প্রকৌশল, কারিগরি, কলা, সামাজিক বিজ্ঞান, ব্যবসায় প্রশাসন, আইন, কৃষি ও চিকিৎসাবিজ্ঞানসহ জ্ঞান-বিজ্ঞানের নতুন নতুন ক্ষেত্রে শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ তৈরির প্রয়োজন রয়েছে। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং বগুড়ায় একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির পরিপ্রেক্ষিতে নতুন আইনটি করা হয়েছে।
বিলের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে কয়েকজন সংসদ সদস্য বগুড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তবে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান, গবেষণা, শিক্ষক নিয়োগ এবং প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
যশোর-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গোলাম রছুল বলেন, ২০০১ সালে আইন হওয়ার পরও বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এবার প্রতিষ্ঠানটি চালু হলে শিক্ষক নিয়োগে দলীয়করণের বদলে যোগ্যতা ও মান যাচাই নিশ্চিত করতে হবে।
সংরক্ষিত নারী আসনের জামায়াতে ইসলামীর এমপি সাবিকুন নাহার বলেন, “মানুষ আর কাগজে বিশ্ববিদ্যালয় দেখতে চায় না। তারা এমন প্রতিষ্ঠান চায়, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, গবেষণাকে এগিয়ে নেবে এবং উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে।”
চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ প্রশ্ন তোলেন, সরকার কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বললেও কেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হচ্ছে।
নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সাত্তার বলেন, বিশ্ব যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবটিকসের দিকে এগোচ্ছে, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবর্তে সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় করার সিদ্ধান্ত আরো পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, “সরকার পরিবর্তনের পর নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিযোগিতা দেখা যায়। এসব প্রতিষ্ঠানে দলীয় সমর্থকদের নিয়োগ দেওয়ার প্রবণতা থাকলে শিক্ষার মান নিশ্চিত হবে না।”
দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়লেও আন্তর্জাতিক র্যাংকিং ও গবেষণায় বাংলাদেশের অবস্থান সন্তোষজনক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আলোচনা শেষে জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাবগুলো নাকচ করে বিলটি পাস করা হয়।