Published : 13 Jan 2026, 10:33 PM
ঢাকার রাজাবাজারে বাসা থেকে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার লাশ উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ বলছে, সিসিটিভি ভিডিওতে দুইজনকে গ্রিল কেটে ঢুকতে দেখা গেছে।
পুলিশের ধারণা, সোমবার মধ্যরাতে ঘরে চোর ঢুকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে রাখায় তার মৃত্যু হয়েছে।
৬৬ বছর বয়সী আনোয়ার উল্লাহ জামায়াতের শেরেবাংলা নগর দক্ষিণ থানার পশ্চিম রাজাবাজার ওয়ার্ডের সহ-সভাপতি ছিলেন।
পেশায় হোমিও চিকিৎসক আনোয়ার রাজাবাজারের ৫৮/১ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলায় স্ত্রীসহ বসবাস করতেন।
শেরেবাংলা নগর থানার ওসি মনিরুল ইসলাম মঙ্গলবার সকালে বলেছিলেন, চোর এসে কাপড় দিয়ে মুখ বেঁধে রাখলে তার মৃত্যু হয়।
আনোয়ারকে বাসা থেকে উদ্ধার করে স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ থানার লক্ষণপুর গ্রামে।
পরে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর আনোয়ারের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কথা জানিয়েছেন শেরেবাংলা নগর থানার পরিদর্শক আজিজুর রহমান।
তিনি বলেন, “স্বজনরা লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়ি গেছে, তারা ফিরলে মামলা করা হবে। তবে পুলিশ জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে, এখনো কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা যায়নি।”
জামায়াত নেতা আনোয়ারের স্বজনদের বরাতে পুলিশ বলেছে, তার বাসা থেকে আট ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৫ লাখ টাকা খোয়া গেছে।
এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়ে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি মুহাম্মদ রেজাউল করিম।
দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই হত্যার সাথে জড়িত সকলকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তারা।
এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোন রাজনৈতিক যোগসাজস রয়েছে কি-না জানতে চাইলে পরিদর্শক আজিজ বলেন, “আমরা তদন্ত করছি, তদন্তের পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
তবে সিসিটিভি ফুটেজে দুইজনকে গ্রিল কেটে ঢুকতে দেখা গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “রাত ২টার পর দুইজন গ্রিল কেটে বাসায় ঢুকতে দেখা গেছে। ঘণ্টা দুয়েক পর তারা একই পথ দিয়ে বেরিয়ে যায়। গ্রিল কেটে সাধারণত চোরই ঢুকে। আমরা তাদের গ্রেপ্তারে কাজ করছি।”
আগের খবর: