Published : 02 Apr 2026, 09:11 PM
এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সব কক্ষে বসানো হবে সিসি ক্যামেরা; সেইসঙ্গে নকল বা জালিয়াতি ঠেকাতে কেন্দ্রের টয়লেটগুলোতেও তল্লাশি চালানো হবে।
পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের ট্রাংকে এসব নির্দেশনা লিখিত আকারে কেন্দ্রসচিবদের পাঠানোর কথা জানিয়েছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক, ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার।
চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আগামী ২১ এপ্রিল থেকে। বাংলা প্রথম পত্র দিয়ে পরীক্ষা শুরু হবে, যা (তত্ত্বীয়) শেষ হবে ২০ মে। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে। তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষে ৭ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত ব্যাবহারিক পরীক্ষা চলবে।
পরীক্ষা সংক্রান্ত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পাঁচ বা ছয় ফুট লম্বা প্রতি বেঞ্চে দুজন এবং চার ফুট লম্বা বেঞ্চে একজনের আসন ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন কক্ষ পরিদর্শক দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি কক্ষে কমপক্ষে দুজন পরিদর্শক থাকবেন।
শিক্ষা বোর্ডগুলোর পক্ষ থেকে কেন্দ্র সচিবদের এরকম ৩১ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনাগুলো আরও বলা হয়েছে-
>> অনিয়মিত ও মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থীরা ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার সিলেবাস অনুযায়ী প্রণীত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন। নিয়মিত পরীক্ষার্থীরা ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার সিলেবাস অনুযায়ী প্রণীত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেবেন।
>> পরীক্ষা সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হবে।
>> পরীক্ষা শুরুর তিন দিন আগে ট্রেজারিতে, থানা লকারের ট্রাংকে রক্ষিত প্রশ্নপত্রের প্যাকেটের সঙ্গে প্রশ্নপত্রের বিবরণী তালিকা ঠিকভাবে যাচাই করতে হবে। প্রশ্নপত্রের প্যাকেট যাচাইয়ের সময় সংশ্লিষ্ট ট্রেজারি অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কেন্দ্রসচিব এবং পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সদস্যরা অবশ্যই উপস্থিত থাকবেন।
>> প্রশ্নপত্রের দুই সেট করে সৃজনশীল এবং বহুনির্বাচনি সেট, পরীক্ষার তারিখ অনুসারে সেটভিত্তিক আলাদা করে নিরাপত্তা খামে প্যাকেট করতে হবে।
>> প্রশ্নপত্রের প্যাকেট যাচাইয়ের দিনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তারিখভিত্তিক প্রশ্নপ্রত্রের প্যাকেট সাজিয়ে নিরাপত্তা খামে আঠা লাগিয়ে এবং কার্টুন টেপে যথাযথভাবে মুড়িয়ে নিতে হবে। নিরাপত্তা খামের ওপর পরীক্ষার তারিখ, বিষয় কোড ও সেট কোড অবশ্যই লিখতে হবে। এ বিষয়ে কোনো ত্রুটি দেখা গেলে তা কেন্দ্রসচিবের দায়িত্বে অবহেলা বলে ধরা হবে।
>> ট্রেজারি থেকে পরীক্ষার দিনগুলোতে ট্রেজারি অফিসারের কাছ থেকে ওই দিনের প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা খাম (সৃজনশীল দুই সেট এবং বহুনির্বাচনি এক সেট) নিতে হবে।
>> অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে থানা বা ট্রেজারি থেকে ‘ট্যাগ অফিসার’ বা পুলিশ পাহারায় প্রশ্নপত্রের প্যাকেট কেন্দ্রে নিতে হবে।
>> মোবাইল ফোনে সেট কোডের এসএমএস পাওয়ার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত ‘ট্যাগ অফিসার’, পুলিশ অফিসারকে দেখানোর পর সেট কোড নিশ্চিত হয়ে প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খুলতে হবে এবং অন্য সেটের প্রশ্নপত্রের প্যাকেট টেবিল থেকে সরিয়ে ট্রাংকজাত করতে হবে। অব্যবহৃত সেটের প্রশ্নপত্রের খাম অক্ষত অবস্থায় বোর্ডে জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সেট কোডের পরিবর্তে অন্য কোনো সেট কোডের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নিলে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
>> কেন্দ্রসচিব ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন, ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। ছবি তোলা যায় না, এমন মোবাইল ফোন কেন্দ্রসচিব ব্যবহার করতে পারবেন।
>> পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা কক্ষে অবশ্যই প্রবেশ করানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এ সময়ের পর কোনো পরীক্ষার্থী আসলে কেন্দ্রসচিব বিশেষ বিবেচনায় রেজিস্টার খাতায় রোল নম্বর ও অন্যান্য তথ্য লিপিবদ্ধ করে কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দিতে পারবেন। পরীক্ষা শেষে বোর্ডে রেজিস্টার খাতাটি জমা দিতে হবে।
>> পরীক্ষা শুরুর আগে পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে পরীক্ষার্থী, অভিভাবক বা অন্য কেউ যাতে জটলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনে হ্যান্ড মাইক ব্যবহার করতে হবে, সিসি ক্যামেরা বসাতে হবে।
>> বোর্ড থেকে সরবরাহ করা নকল প্রতিরোধমূলক পোস্টার পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রবেশ পথের দৃশ্যমান স্থানে লাগাতে হবে।
>> কেন্দ্রসচিবদের তার কেন্দ্রের আওতাভুক্ত বিদ্যালয়ের প্রবেশপত্র শিক্ষা বোর্ড থেকে নেবেন। পরীক্ষা শুরুর অন্তত দশ দিন আগে প্রবেশপত্র প্রতিটি বিদ্যালয় প্রধানের নিকট পাঠানো নিশ্চিত করবেন।
>> পরীক্ষার প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী শিক্ষাবোর্ডের নির্ধারিত তারিখে অবশ্যই নিতে হবে।
>> ত্রুটিপূর্ণ উত্তরপত্র পরীক্ষার্থীদের সরবরাহ করা যাবে না।
>> শিক্ষাবোর্ড অনুমোদিত ক্যালকুলেটর ছাড়া অন্য কোনো ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে না।
>> পরীক্ষার দিন প্রশ্নপত্র গ্রহণ, পরিবহন ও কেন্দ্রসচিবের কক্ষে প্যাকেট খোলাসহ সকল কাজের সঙ্গে ট্যাগ অফিসারের সংশ্লিষ্টতা থাকতে হবে। ট্যাগ অফিসারের যাতায়াত ও সম্মানী কেন্দ্রসচিব কেন্দ্র ফি থেকে ব্যবস্থা করবেন।
>> পরীক্ষার্থীর হাজিরা শিটে উপস্থিতির স্বাক্ষর নিতে হবে। কোনো পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকলে নির্দিষ্ট তারিখ ও বিষয় লাল কালি দিয়ে অনুপস্থিত লিখে দিতে হবে।
>> নির্দিষ্ট তারিখে পরীক্ষার সময়সূচি মোতাবেক পরীক্ষা নিতে হবে। উত্তরপত্রের প্যাকেট বোর্ডের পরীক্ষা শাখার স্ক্রিপ্ট রুমে বস্তায় সিলগালা করা অবস্থায় পৌঁছাতে হবে।
>> পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র পরিবহন কাজে পুলিশের সংশ্লিষ্টতা থাকতে হবে।
>> পুরনো ও নতুন সিলেবাস অনুসারে ৫০টি করে উত্তরপত্র ‘করোগেটেড শিটে’ প্যাকেট করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই নতুন ও পুরনো সিলেবাসের উত্তরপত্র একত্রে প্যাকেট করা যাবে না।
>> উত্তরপত্রের প্যাকেটের গায়ে কোনো চিহ্ন বা অতিরিক্ত কিছু লেখা থাকলে তার জন্য কেন্দ্রসচিব দায়ী থাকবেন।
>> প্রতিটি বিষয়ের উত্তরপত্রের জন্য ভিন্ন ভিন্ন প্যাকেট করতে হবে। ইংরেজি ভার্সনের পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই ইংরেজি ভার্সনের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নিতে হবে। ইংরেজি ভার্সনের পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্রের প্যাকেট আলাদা হবে।
>> পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্রে কোনো ত্রুটি থাকলে তা অবশ্যই প্রবেশপত্র গ্রহণের ৫ কর্মদিবসের মধ্যে শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে সংশোধন করে নিতে হবে।
>> পরীক্ষা চলাকালে বিদ্যালয়ের সব ক্লাস বন্ধ রাখতে হবে। তবে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরে এবং সময়সূচিতে যেদিন পরীক্ষা নেই সেদিন নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম চালু রাখা যাবে।
>> পরীক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন কার্ড এবং প্রবেশপত্রে থাকা বিষয়ের বাইরে অন্য কোনো বিষয়ের পরীক্ষা গ্রহণ করা যাবে না। এ বিষয়ে কোনো জটিলতা তৈরি হলে সে জন্য কেন্দ্র সচিব দায়ী থাকবেন।
>> পরীক্ষা চলার সময় স্কুলের সব ক্লাস বন্ধ রাখতে হবে। তবে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরে এবং সময়সূচি যেদিন পরীক্ষা নেই সেদিন শ্রেণি কার্যক্রম চালু রাখতে হবে।