Published : 24 May 2026, 04:27 PM
পশুর ওজনের ভিত্তিতে দাম নির্ধারণের সংস্কৃতি গড়ে উঠলে মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হবে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
তিনি বলেছে, “দেশে এখনো মূলত পশুর গঠন, স্বাস্থ্য, আকৃতি ও বাহ্যিক মান বিবেচনায় দরদামের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় হয়। ফলে একই ধরনের পশুর দাম ভিন্ন হতে পারে।
“ভবিষ্যতে ধীরে ধীরে ওজনভিত্তিক বা লাইভ ওয়েট পদ্ধতিতে পশু বিক্রির সংস্কৃতি গড়ে উঠলে মূল্য নির্ধারণ আরও স্বচ্ছ ও নির্ধারিত হবে।”
রোববার ঢাকার দিয়াবাড়ি পশুর হাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গড়ে ওঠা অনেক খামার এবং অনলাইন কোরবানির বাজারে কয়েক বছর ধরে ‘লাইভ ওয়েট’ পদ্ধতিতে পশু লেনদেন হতে দেখা যাচ্ছে। এ পদ্ধতিতে জ্যান্ত পশুর ওজনের সঙ্গে নির্ধারিত কেজি দর গুণ করে দাম চূড়ান্ত করা হয়।
বাজার সিন্ডিকেট প্রসঙ্গে প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন বলেন, “বাজারে হাজারো বিক্রেতা ও ক্রেতার উপস্থিতির কারণে কোনো ধরনের কৃত্রিম সিন্ডিকেট তৈরি করা কঠিন। বাজারের প্রতিযোগিতা ও চাহিদা-সরবরাহের ভিত্তিতেই পশুর দাম নির্ধারিত হয়।”

দেশের বিভিন্ন পশুর হাটে ব্যবসায়ী, খামারি ও ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘বিশেষ ব্যবস্থা’ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। জাল টাকা শনাক্তে হাটে বিশেষ মেশিন স্থাপনসহ হাট এলাকায় ব্যাংকিং সেবা রাখার কথাও তুলে ধরেন প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী।
এক প্রশ্নের জবাবে আমিন উর রশিদ বলেন, “দেশে কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে এবং এ বছর দেশীয়ভাবে উৎপাদিত পশু দিয়েই কোরবানির চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে।
“দেশের কৃষক ও খামারিরা যে পরিমাণ গরু, ছাগল ও মহিষ উৎপাদন করেছেন, তা দেশের কোরবানির চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট।”
সীমান্তপথে আসা গবাদিপশুর বিষয়ে তিনি বলেন, “সরকার সীমান্তে অবৈধ পশু প্রবেশ রোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোরবানির আগেই আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে সীমান্তরক্ষী বাহিনী, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
হাট থেকে পশু হারিয়ে যাওয়া বা চুরির অভিযোগের বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, “বড় হাটগুলোতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবক দল সার্বক্ষণিক কাজ করছে।
“হারিয়ে যাওয়া পশু উদ্ধারে মাইকিং, তদারকি এবং তাৎক্ষণিক সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই হারানো পশু দ্রুত উদ্ধার করে মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।”
এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহজামান খান, পরিচালক বয়জার রহমান, প্রকল্প পরিচালক আবদুর রহিম ও সফিকুর রহমান।