Published : 20 Aug 2025, 09:29 PM
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে দেশের দশটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হচ্ছে ‘জাতীয় নীতি প্রতিযোগিতা’।
বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে এ প্রতিযোগিতার বিস্তারিত তুলে ধরেন যুব ও ক্রীড়া সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম।
‘বাংলাদেশ ২.০: তারুণ্যের নেতৃত্বে আগামীর পথে’ এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে প্রথমবারের মতো এমন প্রতিযোগিতা হবে।
মাহবুব-উল-আলম বলেন, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীরা ধারণাপত্র জমা দিয়ে শুরু করবে এবং নির্বাচিত দলগুলো পূর্ণাঙ্গ নীতিপত্র প্রস্তুত ও উপস্থাপনা করবে।
বিজয়ীদের পুরস্কৃত করার পাশাপাশি তাদের নীতি প্রস্তাবগুলো সরকারিভাবে পলিসি প্রণয়নের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
তিনি বলেন, “রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণী বিষয়সহ রাষ্ট্র পরিচালনার সকল ক্ষেত্রে তারুণ্যের অন্তর্ভুক্তি ও অংশগ্রহণ অপরিহার্য। এটা নতুন একটি উদ্যোগ। উপদেষ্টা পরিষদ থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
“আগামীতে যে তরুণরা নেতৃত্বে আসবে, তাদেরকে নীতি প্রণয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে তারুণ্যের উৎসবের অংশ হিসাবে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন।”
যুব ও ক্রীড়া সচিব বলেন, “এটি কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি আগামী প্রজন্মের নেতৃত্বে বিনিয়োগ। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, তরুণদের বুদ্ধিবৃত্তিক অংশগ্রহণই আমাদের রাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেবে এবং বাংলাদেশ ২.০-কে বাস্তবায়নের ভিত্তি গড়ে তুলবে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ইস্টওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এবারের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন।
প্রতিযোগিতার সমন্বয়ক যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব জোবায়েদ হোসেন বলেন, “প্রতিটি দলে একজন নারী শিক্ষার্থীসহ তিনজন থাকবেন। আমরা একটা ধারণাপত্র আহ্বান করেছি। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঁচটি দলকে বেছে নেওয়া হবে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়ী দল ৪৫ হাজার টাকা করে পাবেন, ক্রেস্ট পাবেন। প্রথম রানার আপ ৩০ হাজার দ্বিতীয় রানার আপ ১৫ হাজার টাকা। পাঁচটি দলের সব অংশগ্রহণকারী ক্রেস্ট ও সনদ পাবেন।”
নীতি প্রতিযোগিতার বিষয়গুলো হল-
১. রাজনীতিতে তরুণদের অংশগ্রহণ ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ
২. জুলাই পরবর্তীতে সময়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি: জাতীয় স্বার্থ ও বৈদেশিক সম্পর্কের পুনঃসংজ্ঞায়ন
৩. নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ: শিক্ষা ও দক্ষতার রূপান্তর
৪. দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সাংস্কৃতিক সংযোগ: জুলাই অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশি তরুণদের ভূমিকা
৫. গুজব প্রতিরোধে বাংলাদেশের করণীয় ও বাংলাদেশের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি
৬. জুলাই গণভুত্থান ও সাংবিধানিক পুনর্গঠন: তরুণদের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ
৭. বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণ: সম্ভাবনার ব্যবহার ও নতুন চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা প্রস্তুতি
৮. সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা অর্জনের পথে: ব্যবস্থা পুনর্গঠন ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ
৯. চতুর্থ শিল্প বিপ্লব: বাংলাদেশের উদ্বোধনী সম্ভাবনা ও প্রয়োগের ক্ষেত্র
১০. কৃষি, নদী উন্নয়নের গতিপথ: বঙ্গীয় ব-দ্বীপের পুনরাবিষ্কার।