Published : 08 Apr 2026, 01:36 PM
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও এর বিচারকদের নিয়ে ফেইসবুকে 'মিথ্যা তথ্য ও গুজব' ছড়ানোর অভিযোগে ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতাসহ তার ওই পোস্টে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ারকারীদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছে আদালত ।
প্রসিকিউটর শেখ মেহেদীর করা এক আবেদনের শুনানি শেষে মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই আদেশ দেয়।
পরোয়ানা জারি হওয়া এম. এইচ. পাটোয়ারী বাবু ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি।
আদেশে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার সহযোগীদের পাশাপাশি যারা ওই পোস্টে লাইক ও শেয়ার করেছেন এবং সেখানে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন, তাদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে হবে ।
একইসঙ্গে তাদের ব্যবহৃত ডিভাইস জব্দেরও নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল ।
আদেশটি কার্যকর করতে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর পাঠানো হয়েছে ।
অভিযান ও ট্রাইব্যুনালের আদেশ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিশেষ প্রসিকিউটর ও তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "ফেইসবুকে বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর মঙ্গলবার আমি নিজেই এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালে শুনানি করি। এরপর আদালতের আদেশ পেয়ে মঙ্গলবার সারারাত রাজধানীর উত্তরখান ও মিরপুর এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে। আমি নিজেই এই অভিযান পরিচালনা করেছি এবং আমাদের এই অভিযান এখনও চলমান রয়েছে।"
গুজব ছড়ানো ও তা প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, "এখানকার সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে, এই পোস্টের সাথে যারা যারা যুক্ত আছেন—অর্থাৎ যারা লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করেছেন এবং যেসব ইন্টারকানেক্টেড ডিভাইস ব্যবহার করে এগুলো আদান-প্রদান করা হয়েছেন, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।"
ফেইসবুক পোস্টে যা ছিল
ট্রাইব্যুনালের নজরে আসা ওই ফেইসবুক পোস্টে ‘M. h. Patoary babu’ নামের আইডি থেকে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, আইনজীবী শিশির মনির, ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম ও বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারকে জড়িয়ে ১২ হাজার কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয় ।
পোস্টে লেখা হয়, “দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে সাজানো মামলায় মৃত্যুদণ্ড দিতে বিভিন্ন দেশ ও গোষ্ঠীর নিকট থেকে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা খেয়েছে আসিফ নজরুল, শিশির মনির, তাজুল ইসলাম, বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব করে কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভ পরিবর্তন করে ইতিমধ্যে অবৈধ ক্যাঙ্গারো কোর্টের অবৈধ প্রসিকিউটর তাজুল পালিয়েছে! যেকোনো সময় অন্যরাও পালিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।”
ওই পোস্টে বর্তমান সরকার এবং বিচারব্যবস্থা নিয়ে লেখা হয়, “ভদ্রবেশী উচ্চশিক্ষিত এই সকল ধুরন্ধর জালিয়াতচক্র যদি বিনা বিচারে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়, তার দায় দায়িত্ব সম্পূর্ণ বর্তমান সরকারকে নিতে হবে। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী কেউ আইন ও বিচারের ঊর্ধ্বে নয়। গত ২০ মাস অবৈধ সরকারের অবৈধ আইন উপদেষ্টা মিথ্যাবাদী আসিফ নজরুল, আইনজীবী শিশির মনির, প্রতারক অবৈধ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম ও বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার এরা বাংলাদেশের বিচার আইন আদালত নিয়ে যে তামাশা করেছে অবশ্যই তারা শাস্তি পাওয়ার যোগ্য।”
আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, এম. এইচ. পটোয়ারী বাবুর ঠিকানা ঢাকার মিরপুর-১২১৬ এর পশ্চিম সেনপাড়ার ১১ নম্বর বাড়ি ।
তার ওই পোস্ট 'বিভ্রান্তিকর' ও 'আদালত অবমাননাকর' উল্লেখ করে ট্রাইব্যুনালকে প্রসিকিউশন বলেছে, বিপুল সংখ্যক মানুষ এই পোস্টে লাইক, শেয়ার ও কমেন্ট করেছেন।
১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনের ১১(৪) ধারায় আদালত অবমাননার অভিযোগে এই পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।