Published : 24 Jul 2026, 06:26 PM
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন-বিএডিসির সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি কালভার্ট নির্মাণের তিন মাসেই ধসে পড়েছে সংযোগ সড়ক।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সংযোগ সড়কের কাজ শেষ হওয়ার আগেই ঠিকাদার প্রায় সব টাকা তুলে নিয়েছেন। এ ছাড়া কাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। তবে ঠিকাদারের দাবি, বৃষ্টির কারণে হয়ত সংযোগ সড়ক ধসে পড়েছে।
নির্মাণকাজে কোনও ত্রুটি পাওয়া গেলে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন বিএডিসি ঝালকাঠির সহকারী প্রকৌশলী মো. জামাল উদ্দিন।
সরেজমিনে দেখা যায়, কালভার্টের দুই পাশের সংযোগ সড়কের মাটি দেবে গিয়ে ইট ছড়িয়ে পড়েছে। এতে এ পথ দিয়ে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যথাযথভাবে মাটি ভরাট না করেই সংযোগ সড়ক নির্মাণ করায় অল্প সময়ের মধ্যেই এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া কালভার্টটি ভালোভাবে ফিনিশিং না দিয়ে রং করে দিয়েছেন ঠিকাদার।
বিএডিসি ঝালকাঠি জেলা কার্যালয় থেকে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলার মোল্লারহাট ইউনিয়নের মালুহার এলাকায় প্রকল্পটির জন্য ২৪ লাখ ৭৬ হাজার ৫৪০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পটির কাজ ২০২৫ সালের মার্চে শুরু হয়ে জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু নির্মাণ কাজ শেষ হতে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত সময় লেগে যায়। এর মধ্যে সংযোগ সড়কের কাজ শেষে হওয়ার আগেই প্রকল্পের ২৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকার বিল তুলে নেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
প্রকল্পটির মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দিনাজপুরের রাম নগরের ‘তারমিন এন্টারপ্রাইজ’। প্রতিষ্ঠানটি কাজ বাস্তবায়নের জন্য সাব-ঠিকাদার হিসেবে দায়িত্ব পান ঝালকাঠি সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এজাজ হাসান।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত একটি প্রকল্প এত দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া দায়িত্বশীলদের গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন তারা। প্রকল্পটির মান তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত পুনর্নির্মাণের দাবি জানান তারা।
সংযোগ সড়ক ধসে পড়ার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সাব-ঠিকাদার এজাজ হাসান বলেন, “ঠিকমতই কাজ করা হয়েছে। বর্ষার কারণে হয়তবা সংযোগ সড়ক ধসে পড়েছে।”
বিএডিসি কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কী কারণে এমন হয়েছে, তা তদন্ত করা হবে। কাজে ত্রুটি পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই প্রকল্পের ঠিকাদারের অর্থ তুলে নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি জামাল উদ্দিন।