Published : 21 May 2026, 04:22 PM
মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের কর্মকাণ্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তির তদন্ত চেয়ে করা রিট আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে হাই কোর্ট।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাই কোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম কে রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
পরে রাষ্ট্রের পক্ষের যুক্তিগুলো তুলে ধরে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, “আমি এই মামলায় রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যে কথাটি বলেছি, সেটা হচ্ছে যে উনি যে সংক্ষুব্ধ হলেন এবং কোনো একটা মামলা করার ক্ষেত্রে সংক্ষুব্ধ হওয়ার যে ‘পেরিফেরি’ আমাদের আইনেই বিধান রয়েছে, তার মধ্যে উনি পড়েন না।
“আমি এও বলেছি যে ওনার উদ্দেশ্যটা কোনো আইনগত প্রতিকার চাওয়া না। মনে হতে পারে যে উনি হয়তো রাজনৈতিক কোনো একটা উদ্দেশ্য কিংবা ‘অবলিক পারপাসে’ (গোপন উদ্দেশ্য) উনি রিট পিটিশনটি দায়ের করেছেন।”
১৯৫৬ সালের আইনের অধীনে কমিশন গঠনের এখতিয়ার বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “সেই আইনে কমিশন গঠন করার ক্ষমতা একমাত্র সরকারের আছে। যেহেতু সরকারের সন্তুষ্টির বিষয় এবং যখন সরকার সন্তুষ্ট হবেন তখন সরকার এটি করবেন। কিন্তু সরকারের সন্তুষ্টির বাইরে গিয়ে আদালতের কাছে এ ধরনের প্রতিকার প্রার্থনার কোনো সুযোগ নেই।”
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “আদালত দুই-একটা বিষয়ে পর্যবেক্ষণ করেছেন, সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ওনারা বলেছেন, এখন একটা ‘ডেমোক্রেটিক্যালি ইলেক্টেড’ নতুন সরকার এসেছে এবং পার্লামেন্ট অত্যন্ত ‘ফাংশনাল এবং ভাইব্রেন্ট’। সংসদ অত্যন্ত কার্যকর রয়েছে এবং সেখানে যে কোনো বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।”
রোববার সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মহসিন রশীদ এই রিট আবেদন করেন।
এই আইনজীবী সাংবাদিকদের বলেন, “ভবিষ্যতে কোনো নির্বাচিত সরকারকে যেন কেউ এসে উৎখাত করতে না পারে, সেজন্য যা কিছু ঘটেছে তার তদন্ত চেয়েছি। তদন্ত কীভাবে হবে, সেটা সরকার ঠিক করবে।”
২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের তিন দিন পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়।
১৮ মাস পর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার গঠন করে।