Published : 15 Jul 2025, 03:53 PM
প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে জাতীয় পরিচয়পত্র দিতে আরও পাঁচটি দেশে নিবন্ধনের কাজ শুরুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের এনআইডি উইংয়ের জিডি এএএম হুমায়ুন কবীর মঙ্গলবার এ তথ্য জানান।
নির্বাচন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, “আরও পাঁচটি দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের কাজ শুরু করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সম্মতি পেয়েছি। এরমধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ওমান, দক্ষিণ আফ্রিকা, জর্ডান ও মালদ্বীপ।”
ইতোমধ্যে নয়টি দেশের ১৬টি মিশনে এ কাজ চলছে। দশম দেশ হিসেবে চলতি জুলাই মাসে জাপানে কাজ শুরু হবে।
এনআইডি ডিজি বলেন, “নতুন পাঁচটি দেশে নিবন্ধন শুরুর প্রাথমিক প্রস্তুতি কাজ চলছে। এর জন্য ইকুইপমেন্ট প্রস্তুত করতে হবে, জনবল ও প্রয়োজনীয় দক্ষ লোককে প্রশিক্ষণ, যন্ত্রপাতির ইন্টিগ্রেশনের বিষয়গুলো রয়েছে।”
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে লসএঞ্জেলেসের পাশাপাশি নিউ ইয়র্ক, ওয়াশিংটনসহ যেখানে বাংলাদেশের অফিস রয়েছে, সেখে এ কাজ শুরুর সম্মতি মিলেছে।
বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, ইতালি, কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় ১৬টি মিশন অফিসে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এনআইডি সেবা দেওয়া হচ্ছে।
পর্যায়ক্রমে ৪০টি দেশে এনআইডি সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে ইসির।
জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের ডিজি জানান, এ পর্যন্ত নয়টি দেশে মোট আবেদন করেছেন ৪৮ হাজার ৮০ জন। তাদের মধ্যে আঙুলের ছাপ দিয়ে নিবন্ধন সেরেছেন ২৯ হাজার ৬৪৬ জন। তাদের ১৭ হাজার ৩৬৭ জন ভোটার হয়েছেন।
২০০৭-২০০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন শুরুর সময়ই প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার করা ও এনআইডি দেওয়ার দাবি উঠেছিল।
নানা ধরনের জটিলতা পেরিয়ে ২০১৯ সালের নভেম্বরে মালয়েশিয়ায় অনলাইন নিবন্ধনের কার্যক্রম শুরু করে তৎকালীন কমিশন। কিন্তু এরপর কোভিড মহামারীতে সেই উদ্যোগ থমকে যায়।
পরে আবার সেই কাজে গতি আনার চেষ্টা হয়। গত কমিশনের সময় ২০২৩ সালের জুলাইয়ে ফের শুরু হয় নিবন্ধনের কাজ।
৫ অগাস্টের পটপরিবর্তনের পর আবার স্থবিরতা দেখা দেয় এ কার্যক্রমে। পরে বর্তমান এএমএম নাসির উদ্দিন কমিশন কাজটি এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেয়।