Published : 14 Feb 2026, 02:35 PM
গণভোটে বেশিরভাগ মানুষ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দেওয়ায় সংবিধান সংস্কারের পথ খুলেছে।
আর সেই কাজে হাত দিতে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দুটি শপথ নিতে হবে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রীয়াজ শনিবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সংবিধান সংস্কার আদেশ ২০২৫-এ স্পষ্টভাবে বলা আছে যে, জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের দ্বারাই সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে।
“তারা দুটি শপথ গ্রহণ করবেন—একটি জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে এবং অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে। এই পরিষদের মেয়াদ ১৮০ দিন। ‘নোট অব ডিসেন্ট’এখন একটি জনরায়ে পরিণত হয়েছে এবং জনগণ চায় এগুলো বাস্তবায়ন হোক। আমরা আশা করি সংখ্যাগরিষ্ঠ দল এবং অন্যান্য সব দল জনরায়ের এই আকাঙ্ক্ষা বিবেচনা করবেন।”
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটে জুলাই সনদের সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত ৪৮ দফা বাস্তবায়নে বেশিরভাগ ভোটার সম্মতি দিয়েছেন।

এর ফলে যেসব পরিবর্তন আসবে—
>> গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ার ফলে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন হলে প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কিছুটা কমার পাশাপাশি কিছু-কিছু ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়বে।
>> আসাংবিধানিক পদে নিয়োগ হবে ক্ষমতাসীন দল, বিরোধী দল ও ক্ষেত্রবিশেষে বিচার বিভাগের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে।
>> সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে আগে কোনো এমপি তার দলের সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিতে পারতেন না। এখন এই আইন সংশোধন হতে যাচ্ছে। এর ফলে কোনো বিষয়ে সংসদে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতার আওতা বাড়বে।
>> হ্যাঁ ভোট জয়ী হওয়ায় আগামী সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট। সংবিধান সংশোধন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসবে। যেকোনো দলের চাওয়ার একক চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সংবিধান সংশোধন করা কঠিন হবে।
গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হওয়ায় এখন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হবে। নির্বাচিতরা সংসদ সদস্যের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
সংস্কার পরিষদ প্রথম অধিবেশন শুরুর দিন থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের ফলাফল অনুসারে সংস্কার সম্পন্ন করবে। তবে পরিষদ নির্দিষ্ট সময়ে সংবিধান সংস্কার না করলে কী হবে, তা বাস্তবায়ন আদেশে স্পষ্ট করা হয়নি।
গণভোটে উচ্চকক্ষ গঠন নিয়ে যে রায় এসেছে, সেটি আইনগতভাবে মানতে রাজনৈতিক দলগুলো বাধ্য কি না, এই প্রশ্নের জবাবে আলী রীয়াজ বলেন, “গণভোটটি হয়েছে সার্বভৌম জনগণের অভিপ্রায়ের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে।
“এটি কেবল সংখ্যার বিচার নয়, বরং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। তাই আইনি বিবেচনার চেয়েও রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর একটি নৈতিক ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা থাকে এই রায় বাস্তবায়নের।”