Published : 29 Jan 2026, 07:49 PM
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রচার শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলো ‘যথেষ্ট সহিষ্ণু’ আচরণ করছে বলে মনে করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
নির্বাচনের আগের বাকি দিনগুলো ‘আরও ভালো’ যাবে বলে আশা করছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে নির্বাচনের আগে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
রাজনৈতিক দলগুলো আইন মেনে চলছে এবং অন্যান্য সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবার প্রাণহানিও কম হওয়ার কথা বলেন শফিকুল আলম।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সপ্তাহ দুয়েক আগে বুধবার শেরপুরে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত এক জামায়াত নেতা মারা যান। এ নিয়ে দুই দলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রেস সচিব বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখনো যথেষ্ট সহিষুতা আছে। একটা দুইটা অবশ্যই আইসোলেটেড ঘটনা ঘটছে; আমরা সেটা অস্বীকার করছি না। কিন্তু আপনি দেখেন নির্বাচনি প্রচার শুরু হয়েছে ২২ জানুয়ারি। আজকে ২৯, হ্যাঁ- আট দিনের মত। তো এইখানে তো আপনারা দেখছেন যে সেই ঘটনা ঘটছে।
“এখন পর্যন্ত আমাদের পুলিশের হিসাবে মারা গিয়েছেন চারজন, এই নির্বাচন সূচি ঘোষণার পরে মারা গিয়েছেন মোট চারজন। আপনি যদি এটা তুলনা করেন আগের নির্বাচনগুলোর সাথে তাহলে দেখবেন যে পরিস্থিতি...। অবশ্য নির্বাচনের এখনো প্রায় দুই সপ্তাহ বাকি আছে; এখনো বলার মত কিছু হয়নি।"
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে সহিংসতায় ১১৫ জনের প্রাণহানি হওয়ার তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, "সে অনুযায়ী আমরা মনে করি যে রাজনৈতিক দলগুলো যথেষ্ট সহিষ্ণু আচরণ করছেন। তারা ভালো প্রচারণা করছেন এবং সত্যিকার অর্থে আপনি দেখবেন যে তারা আইনগুলো মেনে চলছেন।”
রাজনৈতিক দলগুলোর আইন মেনে চলার উদাহরণ হিসেবে পোস্টারের মাধ্যমে প্রচারে নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ টানেন প্রেস সচিব। বলেন, “আপনি খুব কম পোস্টার দেখবেন, পোস্টার কিন্তু আমরা অত দেখছি না। আচরণবিধি খুব ভালোভাবে তারা (রাজনৈতিক দলগুলো) মানছে।
"আমরা আশা করছি আগামী দিনগুলো অনেকটা ভালো যাবে। আর আস্তে আস্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও সদস্য মোতায়েন শুরু হবে। তো সেক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও ভালো হবে, ইনশাল্লাহ।”
জামায়াত নেতার মৃত্যু: মামলা-গ্রেপ্তার হয়নি, ভিডিও বিশ্লেষণ চলছে
বিফ্রিংয়ে উপ-প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে বুধবার বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষে আহত জামায়াতের নেতার মৃত্যুর ঘটনার বিষয়ে বলেন, বিকাল পর্যন্ত মামলা হয়নি এবং কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।
ভিডিও বিশ্লেষণ করে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এ ঘটনায় প্রকৃত দায়ীদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছে পুলিশ বলে তুলে ধরেন তিনি। বলেন, “মামলা যখনই হোক পুলিশ জানিয়েছে তাদের তদন্ত চলমান আছে এবং তারা চেষ্টা করছে ঘটনার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এবং তথ্য প্রমাণ ও সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে যারা প্রকৃতভাবে দায়ী এই ঘটনার জন্য তাদেরকে চিহ্নিত করা সঠিকভাবে এবং চিহ্নিত করে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার।"
তিনি বলেন, এ ঘটনায় সরকার শক্ত পদক্ষেপ নিচ্ছে।