Published : 27 Jan 2026, 12:12 AM
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর পর সপ্তাহ না পেরোতেই বিএনপি, জামায়াত, স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয়েছে নির্বাচনী সংঘর্ষ; ভোটের দিনে পৌঁছাতে সামনে এখনও দুইসপ্তাহের পথ বাকি।
এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসন ও পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে নালিশ যাচ্ছে নির্বাচন কমিশনে। নাখোশ দলগুলো ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরিতে ইসির ভূমিকা নিয়ে কথা তুলছে।
তবে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নেই–এমন অভিযোগ মানতে নারাজ ইসি। পরিস্থিতি সামলে রাখতে দল ও প্রার্থীদের সহযোগিতা চাইছে কমিশন। সেই সঙ্গে ঢালাও অভিযোগ না করে নির্বাচনি তদন্ত কমিটিকে সুনির্দিষ্টভাবে জানানোর পরামর্শ দিচ্ছে।
নির্বাচনি প্রচারকে কেন্দ্র করে রোববার লক্ষ্মীপুরে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

একই দিন ময়মনসিংহের ভালুকায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের আলমডাঙ্গা উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। সেখানে উভয়পক্ষের ১৩ জন আহত হওয়ার কথা বলা হচ্ছে।
ঢাকা-১৮ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং ১০ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী আরিফুল ইসলাম আদীবের জনসংযোগে হামলায় দুজন আহত হয়েছেন।
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য আব্দুল আলীম বলেন, “লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা কেন বলা হচ্ছে–তা বুঝতে হবে। কেউ ছোট অভিযোগ করলেও এটা নির্বাচন কমিশনের বিবেচনায় নিতে হবে। এটা কি নিছকই অভিযোগ, নাকি বাস্তব ভিত্তি আছে–সেটা দেখতে হবে কমিশনকে।”
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “ইসির অবশ্যই করার রয়েছে। সব সময় বলে রিটার্নিং অফিসার, মাঠ প্রশাসন রয়েছে। তারা ঠিক মত কাজ করছে কিনা, সেটা মনিটরিংয়ের কাজটা নির্বাচন কমিশনের।”
গোলযোগের পাশাপাশি আচরণবিধি মানানোর ক্ষেত্রেও যে দুর্বলতা থেকে যাচ্ছে, সে কথাও বলেন এ নির্বাচন বিশেষজ্ঞ।
“গণমাধ্যমের তথ্য বলছে এ পার্টিকে ভোট দেওয়া ইমানি দায়িত্ব; তাহলে তো ধর্মকে ব্যবহার করা হয়ে গেল। আচরণবিধি অনুযায়ী ধর্মকে ব্যবহার করে প্রচার নিষিদ্ধ। এখন এটা ছোট বিষয়, কিন্তু এটা নিয়ে অ্যাকশনের সুযোগ রয়েছে। এভাবে প্রত্যেকটা বিষয় খতিয়ে দেখে এড্রেস করতে হবে।”

আব্দুল আলীম বলেন, কেবল বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি নয়, কোনো ছোট দলও যদি অভিযোগ নিয়ে সামনে আসে, কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী যদি বাধা পাওয়ার কথা বলেন, তা দেখার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের।
“আমলে না নিলে পারসেপশন তৈরি হবে যে কমিশন দায়িত্ব পালন করছে না। মানুষ যেন মনে না করে যে তাদের ‘গা ছাড়া ভাব’ রয়েছে। এজন্য কনটিনিউয়াস মনিটরিং করতে হবে এবং টিমগুলোকে অ্যাকটিভ করতে হবে। প্রতিদিনের প্রতিবেদন দেখে কাজ করতে হবে।”
বিভিন্ন এলাকায় প্রচারে গোলযোগের মাত্রা তুলে ধরে আব্দুল আলীম জানান, ইতোমধ্যে বিএনপি-জামায়াত-স্বতন্ত্র মিলে অন্তত তিনটি জায়গায় সহিংসতায় জড়িয়েছে।
“আগে ছিল স্বতন্ত্র, এখন বিএনপি-জামায়াত; এটা যদি বেড়ে যায়, পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাবে। এখনও যা আছে ঠিক আছে, ফাইন। কিন্তু এটাকে ধরে রাখতে হবে, যেন কেউ সুযোগ নিয়ে পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে।”
১২ ফেব্রুয়ারির এ নির্বাচনে প্রার্থী রয়েছেন প্রায় দুই হাজার। একই দিনে গণভোটও হবে।

‘ধর্মীয় অনুভূতি’ ব্যবহারের অভিযোগ
সোমবার সকালে গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা এবং তাদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী-সমর্থকরা ‘ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার করে’ নির্বাচনি প্রচার চালাচ্ছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত এ ধরনের কিছু পোস্ট ও ভিডিও নজরে আসার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “সেখানে বলা হচ্ছে, তাদের প্রতীককে জয়লাভ করানো মানে নিজের ঈমানকে জয়লাভ করানো এবং জান ও মাল দিয়ে সেই প্রতীককে জয়লাভ করানো ঈমানী দায়িত্ব।
“বলা হচ্ছে যে… কবরে গিয়ে বলা যাবে দ্বীন কায়েমের জন্য সেই নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দেওয়া হয়েছে। ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে ভোট চাওয়ার এই অপপ্রয়াস অনাকাঙ্ক্ষিত।”
এ ধরনের কর্মকাণ্ড গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ‘সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ এবং আইন অনুযায়ী ‘শাস্তিযোগ্য অপরাধ’ দাবি করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র।
জামায়াতে ইসলামীর দিকে ইংগিত করে মাহদী আমিন বলেন, “একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারী ভোটারদের এনআইডি কার্ডের কপি, মোবাইল নম্বর এবং বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছেন। এ বিষয়ে আমরা নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করেছিলাম এবং বিষয়টি আমলে নেওয়ায় আমরা নির্বাচন কমিশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।
মুখপাত্র বলেন, এ ধরনের কাজ ভোটার তালিকা আইন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী ‘দণ্ডনীয় অপরাধ’।
“তাই আমরা নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানাই, দ্রুত যেন এসব বিআইনি কর্মকাণ্ড বন্ধ করা হয় এবং এনআইডি তথ্যের অপব্যবহার রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়।”
জামায়াতের উদ্বেগ
জামায়াত ইসলামীর একটি প্রতিনিধি দল সোমবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে নিজেদের ‘উদ্বেগের কথা’ জানিয়ে এসেছেন।
দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের পরে সাংবাদিকদের বলেন, “গত চার দিনে উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠার সাথে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, বিভিন্ন জায়গায় আচরণবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে, হামলা হচ্ছে। এটা যদি নিয়ন্ত্রণ করা না হয়, তাহলে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত পরিস্থিতিটা আরও খারাপ হতে পারে।”
তিনি অভিযোগ করেন, গত কয়েকদিনে তাদের নারী কর্মীরা যখন নির্বাচনী কার্যক্রমে বের হচ্ছেন, তখন ‘দেশের বিভিন্ন জায়গা’ তাদের ওপর ‘হামলা’ হচ্ছে।
“তাদেরকে নাজেহাল করা হচ্ছে। তাদের অপদস্ত করা হচ্ছে। এবং কোনো কোনো জায়গায় লজ্জাজনকভাবে তাদের নেকাব খোলার জন্য বলা হচ্ছে। তাদের অনেকের হাত থেকে মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে।”
এ জামায়াত নেতা বলেন, “আমরা উনাদেরকে (ইসি) অনুরোধ করেছি, এই সমস্ত বিষয়ে একটা বড় উদ্বেগ কাজ করছে। দুঃখজনক হল সত্য যে একটি দলের পক্ষ থেকে আমাদের নারী কর্মীদের উপর মারাত্মক ধরনের আচরণ করা হচ্ছে, যেটা একটা উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠা তৈরি করেছে। আমরা বিস্তারিত বলেছি, নির্বাচন কমিশনকে আমরা অনুরোধ জানিয়েছি।”
কিছু রিটার্নিং অফিসার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ যারা মাঠে আছেন, তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেও স্থানীয়ভাবে কিছু অভিযোগ করার কথা বলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল।
তিনি বলেন, “ঢাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বে যারা আছেন, জেলা পর্যায়ে অথবা রিটার্নিং অথবা সহকারী রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে আছেন এমন কয়েকজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির ব্যাপারে আমরা দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি যে, তাদের আচরণে মনে হচ্ছে তারা কোনো দলের পক্ষে নির্লজ্জভাবে ভূমিকা পালন করছে।”
জামায়াত চায় সবগুলো ভোটকেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হোক, যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত অপ্রত্যাশিত বা সন্ত্রাসী কার্যক্রম কেউ করতে না পারে।
পোস্টাল ব্যালট পাঠাতে প্রবাসীদের জন্য ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দিতেও ইসির কাছে দাবি জানিয়েছে দলটি।
জামায়াত এবার কোনো নারী প্রার্থী না দিলেও তাদের নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের নারী প্রার্থীদের সমর্থন দিচ্ছে বলে জানান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
তিনি বলেন, জুলাই সনদ মেনে আগামী নির্বাচনে জামায়াত নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেবে এবং স্থানীয় নির্বাচনেও সংরক্ষিত নারীর সদস্য বাড়ানোর প্রস্তাব রাখবে।
জামায়াতকর্মীরা নারীদের এনআইডি কার্ড, ফোন ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে বলে যে অভিযোগ বিএনপি করছে, সে বিষয়ে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, “সম্পূর্ণ অসত্য একটি কথা এবং অসত্য একটা দাবি যে মহিলারা গিয়ে এনআইডি চেয়েছেন, মহিলারা গিয়ে বিকাশ নম্বর চেয়েছেন–এই ধরনের কোনো ঘটনা কোনো জায়গায় ঘটেনি; আমরা দৃঢ়তার সাথে বলতে চাচ্ছি।
“বরং নারীদেরকে অসম্মান করা হচ্ছে, তাদেরকে অপমানিত করা হচ্ছে, তারা অত্যন্ত সুন্দরভাবে পরিশীলিতভাবে যাচ্ছেন, তাদের নেকাব খুলে ফেলা হচ্ছে, তাদের মোবাইলগুলো নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই সমস্ত বিষয়গুলো যারা করছেন, তারা একটা বড় রাজনৈতিক দলের নেতা।”
‘গায়ে পড়ে’ বিভিন্ন জায়গায় হামলা করা হচ্ছে অভিযোগ করে এই জামায়াত নেতা বলেন, “আমরা মনে করি, প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশন যদি ভূমিকা পালন করে, তাহলে একটা সুন্দর লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। গত চার দিনে যতটুকু হয়েছে, আমরা উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠার সাথে লক্ষ্য করছি, এটা যদি নিয়ন্ত্রণ করা না হয়, তাহলে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত পরিস্থিতিটা আরো খারাপ হতে পারে।”
‘কেন্দ্র দখলের প্র্যাকটিস ম্যাচ’
এনসিপির একটি প্রতিনিধি দলও সোমবার নির্বাচন কমিশনে গিয়ে অভিযোগ জানিয়ে এসেছে।
দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলছেন, ঢাকা-১৮ আসনে তাদের প্রার্থী আরিফুল ইসলাম আদীবের জনসংযোগে হামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা জড়িত।
নির্বাচন কমিশনে বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আজকে আদীব ভাইয়ের উপরে যে ধরনের হামলা হয়েছে এবং চব্বিশ পরবর্তী সময়ে আমাদের নির্বাচনি প্রচার কার্যক্রমে বিএনপির দলীয় পরিচয়ে যেভাবে হামলা হয়েছে, এ ধরনের হামলা কিন্তু পুরো নির্বাচনি কার্যক্রমের ওপর একটা নেতিবাচক বার্তা দেয়।”
“এই বার্তা কেন্দ্র দখল করার বার্তা” মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আজকে প্র্যাকটিস ম্যাচ শুরু হল এবং বিভিন্ন সময় আমরা দেখেছি যে কেন্দ্র দখল করার যে প্রবণতা থাকে, ভয়ভীতি দেখানোর প্রবণতা থাকে এবং আমরা এটাও বলতে শুনেছি যে যদি প্রতীকে ধানের শীষ না থাকে বা সার্টেইন একটা সিম্বল না থাকে, তাহলে প্রয়োজনে বাড়ি থেকে ছাপিয়ে নিয়ে গিয়েও ওই প্রতীকে সিল মারবে।”
এ এনসিপি নেতা অভিযোগ করেন, “বলা হচ্ছে যে জামায়াতের নারী কর্মীরা যদি ভোট চাইতে আসে, তাদেরকে ট্রিপল নাইনে ফোন দিয়ে যেন পুলিশে দেওয়া হয়।
“এই যে এক ধরনের আক্রমণাত্মক আচরণ এবং প্রতিপক্ষের নির্বাচনি কার্যক্রমকে, প্রচার কার্যক্রমকে এভাবে আক্রমণ করার যে প্রবণতা, তাতে আসলে কতটা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন পরিচালিত হবে, সেটি নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ বলেই আমরা মনে করছি।”
আচরণবিধি লঙ্ঘন হলেও মাঠ পর্যায়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ।
এনসিপির নির্বাচন ও প্রশাসন সমন্বয় উপকমিটির সেক্রেটারি আয়মান রাহাত বলেন, “আমরা দেখতে পাচ্ছি যে অতীতে বিতর্কিত যে নির্বাচনগুলো আমরা দেখেছি, সেখানে যারা বিতর্কিত ভূমিকা যারা পালন করেছেন, তাদের অনেককে প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এটা আমাদেরকে আসলে উদ্বিগ্ন করে যে, ভোটের দিন লেভেল ফিল্ডটা আসলে থাকবে কিনা।”
প্রার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে প্রচার চালাতে পারেন, সেজন্য ইসিকে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানোর কথা বলেন এই এনসিপি নেতা।
ইসি যা বলছে
রাজনৈতিক দলগুলোর পূর্ণ সহযোগিতা পেলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবেই শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ।
সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “আমরা মনে করি রাজনৈতিক দলগুলো সব দিক থেকেই আমাদের পূর্ণ সহযোগিতা করছে এবং আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমরা একটি ভালো নির্বাচন আয়োজন করতে পারব।”
এখন পর্যন্ত নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, “আমরা খুবই আশাবাদী। এখন পর্যন্ত যে পরিবেশ আমরা দেখেছি, তাতে পরিস্থিতি বেশ ভালো বলে মনে হচ্ছে।”
প্রচার শুরুর পাঁচ দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে গোলযোগ, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ থাকলেও ‘সবার জন্য সমান সুযোগ’ আছে বলেই দাবি করছেন নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ।
ইতোমধ্যে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও তা ‘দৃশ্যমান হয়নি’ মন্তব্য করে কোনো বিষয়ে অভিযোগ থাকলে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটিকে জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
সোমবার নির্বাচন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, “অবশ্যই আছে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড। আছে বলেই তো অভিযোগ করতে পারছেন, যদি না থাকত এটা কি হত?”
অভিযোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনে না এসে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটিতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি অ্যান্ড অ্যাডজুডিকেশন কমিটির কাছে আপনারা জানান, জানিয়ে আমাদেরকে কপি দেন। আই উইল ফলো ইট। কিন্তু আমাকে যদি বলেন যে আপনি ঘুরে ঘুরে গিয়ে দেখেন তাহলে এটা আমার প্রতি অবিচার করা হবে।”
আরও পড়ুন
লক্ষ্মীপুরে বিএনপি-জামায়াত কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি, হাসপাতালে ভর্তি ৬
চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীদের সংঘর্ষ, আহত ১৩
ভালুকায় বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ৩০
‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ না থাকলে অভিযোগ করতে পারছে কীভাবে? প্রশ্ন ইসি সচিবের