Published : 26 Jan 2026, 03:33 PM
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রচার শুরুর পাঁচ দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে গোলযোগ, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ থাকলেও ‘সবার জন্য সমান সুযোগ’ আছে বলেই দাবি করছেন নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ।
ইতোমধ্যে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও তা ‘দৃশ্যমান হয়নি’ মন্তব্য করে কোনো বিষয়ে অভিযোগ থাকলে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটিকে জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
সোমবার নির্বাচন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, “অবশ্যই আছে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড। আছে বলেই তো অভিযোগ করতে পারছেন, যদি না থাকত এটা কি হত?”
অভিযোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনে না এসে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটিতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি অ্যান্ড অ্যাডজুডিকেশন কমিটির কাছে আপনারা জানান, জানিয়ে আমাদেরকে কপি দেন। আই উইল ফলো ইট। কিন্তু আমাকে যদি বলেন যে আপনি ঘুরে ঘুরে গিয়ে দেখেন তাহলে এটা আমার প্রতি অবিচার করা হবে।”
ইতোমধ্যে ঢাকা-১১, ঢাকা-১৩ আসনে পোস্টার নজরে আসায় সেগুলো সরিয়ে নিতে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন ইসি সচিব।
তিনি বলেন, “আপনাদের মনে একটা প্রশ্ন থাকতে পারে যে আমরা কি কোনো কাজ করছি না? আসলে এটা দৃশ্যমান হয় না। কিন্তু যদি স্থানীয়ভাবে যেমন দুইটা ঘটনা বলি...
“বিভিন্ন জায়গায় যে সমস্ত আচরণ বিধি ভঙ্গ হচ্ছে, আমি আবারো সবিনয়ে বলছি যে, আপনারা আপনার ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটি ও রিটার্নিং অফিসার, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আছে, তাদের কাছে বলেন, আমাদেরকে কপিতে রাখেন আমরা এটাকে ফলো করতে পারি।”
ইসি সচিবালয়ের পক্ষে সরেজমিনে সব জায়গায় ব্যবস্থা নেওয়া ‘কষ্টসাধ্য’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “সাংবাদিকরা হচ্ছে আমাদের চোখ। ঢাকা শহরে আমার পক্ষে তো সব রাস্তা (দেখা সম্ভব না)...। কমিটির কাছে, আপনারা সেখানে জানান।”
ভোটের ফলাফলে কত বিলম্ব হবে?
ইসি সচিব বলেন, সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে রোববার কূটনীতিকদের ব্রেফ করেছে কমিশন। নির্বাচনি ব্যবস্থা এবং ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সম্পর্কে তাদের অবহিত করা হয়েছে। রাষ্ট্রদূত ও মিশন প্রধান মিলিয়ে ৪১ জন কূটনীতিক সেখানে ছিলেন। সরকারি কর্মকর্তা এবং প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের প্রতিনিধিরাও ছিলেন।
নির্বাচন কমিশনের তরফে অগ্রগতির তথ্য যেমন তুলে ধরা হয়েছে, তেমনি কূটনীতিকরাও বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চেয়েছেন।
আখতার আহমেদ বলেন, “উনারা মূলত যে বিষয়ে আমাদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, প্রথাগতভাবে আমরা কী কাজ করছি এটাকে আমরা ব্রিফ করি। কিন্তু উনাদের কৌতুহল ছিল মূলত সিকিউরিটি অ্যারেঞ্জমেন্ট এবং কমান্ড স্ট্রাকচার। ভোটের ফল দিতে কতক্ষণ লাগবে।
“সিকিউরিটি অ্যারেঞ্জমেন্ট সম্পর্কে স্পেসিফিক্যালি জানানো হয়েছে; পুলিশ বাহিনী, সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী এবং র্যাব আনসার এর সংখ্যাগত হিসাবগুলো এবং কতজন কে থাকবেন এগুলো সম্পর্কে বলা হয়েছে। এবার ভোটকেন্দ্রে ২৫-৩০ হাজার বডিওর্ন ক্যামেরা থাকবে পুলিশের।”
এবার প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রে সংসদ ও গণভোটের ভোটগ্রহণ হবে। একই সঙ্গে দুটি ভোট গণণা চলবে। ফলাফল ঘোষণা করা হবে কেন্দ্রীয়ভাবে।
ইসি সচিব বলেন, “তারা (কূটনীতিক) জানতে চেয়েছেন, ভোটের রেজাল্ট কতক্ষণে হতে পারে? আমরা যেটা বলেছি যে, আমাদের হিসাব মতে, কেন্দ্রের রেজাল্ট সময়মতনই হয়ে যাবে। ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টা বা ৪ ঘণ্টা, ডিপেন্ডিং অন দা নম্বর অফ ভোট কাস্টেড। কিন্তু যেখানে প্রবাসীদের ভোট গণনা হবে, সেখানে আপনার গণনার সময় বেশি লাগবে।”
এর কারণ তুলে ধরে তিনি বলেন, “দুইটা ব্যালট পেপার, একটা প্রবাসীদের জন্য এবং একটা দেশের অভ্যন্তরে যে ব্যালট পেপারটা ব্যবহার করা হয়েছে এটা ভিন্ন ধরনের। আর প্রবাসীদের কাছে যে ব্যালট পেপারটা দেওয়া হয়েছে, সেটা এ ফোর সাইজের দুই পার্টে দুই পাশেই আছে। কাজেই সিম্বল স্ক্যান করতে হবে।”
কোনো আসনে শখানেক কেন্দ্র থাকলেও পুরো সংসদীয় আসনের পোস্টাল ব্যালটের জন্য থাকছে একটি কেন্দ্র। সেখানে সব আসনের পোস্টাল ব্যালট স্ক্যান করে তারপর গণনা করা হবে। যেমন ফেনী-৩ আসনে ১৬ হাজারের বেশি পোস্টাল ব্যালট একটি কেন্দ্রে থাকবে, সেখানে সময়ও লাগবে বেশি।