০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

কফ সিরাপে শিশুমৃত্যু: ইন্দোনেশিয়ায় ওষুধ কোম্পানির সিইওর কারাদণ্ড

আফি ফার্মা এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা ভাবছে।

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Nov 2023, 07:34 PM

Updated : 02 Nov 2023, 07:34 PM

ইন্দোনেশিয়ায় কফ সিরাপে দুই শতাধিক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় একটি ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানির প্রধান নির্বাহীসহ চার কর্মকর্তাকে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। তারা দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন।

যদিও কোম্পানির পক্ষের আইনজীবী বলেছেন, তারা আদালতে অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বুধবারের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা ভাবছেন।

বিবিসি জানায়, আদালত তাদের প্রত্যেককে দুই বছরের কারাদণ্ড এবং এক বিলিয়ন ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়া জরিমানা করা করেছে। আফি ফার্মা নামের ওই ওষুধ কোম্পানিটি তাদের প্রস্তুতকৃত কফ সিরাপে অতিরিক্ত মাত্রায় বিষাক্ত উপাদান থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আফি ফার্মার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ প্রাসেতিয়া হারাহাপের নয় বছর এবাং বাকি আসামীদের প্রত্যেকের জন্য সাত বছরের কারাদণ্ডের সাজা চেয়েছিলেন।

প্রসিকিউটরের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, আফি ফার্মা কফ সিরাপ তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে দুই ব্যাচে প্রোপিলিন গ্লাইকল কিনেছিল। কিন্তু তাদের সরবরাহ করা ওই দুই ব্যাচে প্রোপিলিন গ্লাইকলের পরিবর্তে প্রকৃতপক্ষে ৯৬ শতাংশ থেকে ৯৯ শতাংশ এথিলিন গ্লাইকল ছিল।

প্রোপিলিন গ্লাইকল বিষাক্ত নয় এবং সারা বিশ্বজুড়ে ওষুধ, প্রসাধনী এবং খাদ্য তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে, এথিলিন গ্লাইকল বিষাক্ত এবং এটি সাধারণত রঙ, কলম এবং ব্রেক অয়েল তৈরিতে ব্যবহার হয়।

প্রসিকিউটর জানান, কফ সিরাপ তৈরির আগে আফি ফার্মা তাদের কেনা কাঁচামাল পরীক্ষা করেনি। বরং এজন্য তারা কাঁচামাল সরবরাহকারীদের মান যাচাই ও নিরাপত্তা সনদের উপর চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করেছে।

এ বিষয়ে আফি ফার্মার আইনজীবী সামসুল হিদায়াত বিবিসিকে বলেন, ইন্দোনেশিয়ার ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ওষুধ প্রস্তুতকারকদের কঠোরভাবে কাঁচামালের মান যাচাই করে নেওয়ার নির্দেশ কখনো দেয়নি।

তবে আইনজীবী যতই তার মক্কেলের পক্ষে সাফাই গান, আদালত ওষুধ তৈরিতে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান ধরে রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় আফি ফার্মার চার কর্মকর্তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন।

২০২২ সাল থেকে ইন্দোনেশিয়ায় কফ সিরাপ পানে দুইশ’র বেশি শিশুর মৃত্যু হয়। যাদের বেশিরভাগের বয়স পাঁচ বছরের নিচে। কফ সিরাপ পানের কারণে তাদের কিডনিতে মারাত্মক জটিলতা দেখা দিয়েছিল।

ওই সময়ে ভারত থেকে আমদানি করা কফ সিরাপ পানে গাম্বিয়া এবং উজবেকিস্তানেও শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়।

যার জেরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ভারত এবং ইন্দোনেশিয়ার কোম্পানির তৈরি ছয়টি কফ সিরাপের উপর স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করে।

পুরানো খবর:

রপ্তানির আগে কফ সিরাপ পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করল ভারত
ভারতে তৈরি আরেকটি কফ সিরাপ নিয়ে ডব্লিউএইচওর সতর্কতা
ভারতের নিম্নমানের কফ সিরাপ কীভাবে পৌঁছাল গাম্বিয়ায়?
গাম্বিয়ায় কফ সিরাপে শিশুমৃত্যু: ভারতীয় কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার সুপারিশ