বিতর্কে ককরোচ পার্টি, বিদেশি অর্থ ও পাকিস্তান যোগের অভিযোগ মোদী সরকারের
ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের দাবি, বিদেশ থেকে বেআইনি পথে অর্থ এনে ভারতে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছেন ককরোচ পার্টির সঙ্গে জড়িত কয়েকজন।
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক দল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর বিরুদ্ধে বিদেশ থেকে অর্থ পাওয়া এবং পাকিস্তানের সঙ্গে যোগসূত্র থাকার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।
বুধবার বেঙ্গালুরুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভারতের জীতেন্দ্র সিং এই অভিযোগ তোলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
জিতেন্দ্র সিংয়ের দাবি, বিদেশ থেকে বেআইনি পথে অর্থ এনে ভারতে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছেন সিজেপি’র সঙ্গে জড়িত কয়েকজন। তবে বিরোধীদল কংগ্রেসের পাল্টা দাবি, তেমন যদি হয় প্রমাণ দেখাক সরকার। দলের মুখপাত্রদের কথায়, সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললেই এমন কাহিনী খাড়া করতে চায় সরকার।
জিতেন্দ্র বলছেন, ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং তাদের প্রধান কৌশলপ্রণেতা আশুতোষ রাঙ্কার সঙ্গে বিদেশি অর্থদাতাদের যোগাযোগের অকাট্য প্রমাণ রয়েছে।
তিনি বলেন, “অননুমোদিত উৎস এবং দেশ-বিদেশের ভারতবিরোধী বিভিন্ন সংগঠন তাদের পেছনে অর্থ ঢালছে। বিদেশি তহবিলে চলা কিছু এনজিও এবং ‘ডিপ স্টেট’ চক্রান্তকারীরা এই ন্যারেটিভ তৈরি করছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, “অভিজিৎ দীপকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দাতাদের কাছ থেকে অর্থ নিচ্ছেন। আর আশুতোষ রাঙ্কাকে সরাসরি টাকা দিচ্ছেন পাকিস্তানি রাজনীতিকরা।”
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-কে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র তুহিন এ সিনহা বলেন, গত এক মাসে সিজেপির কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল উৎসবের মৌসুমে রাজধানীতে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা। তিনি বলেন, প্রতিবাদের আড়ালে পরিকল্পিতভাবে অরাজকতার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা হয়েছে।
তিনি বলেন, “গত এক মাস ধরে সিজেপির কৌশল ছিল সমাজে বিদ্রোহ তৈরি করা। রাজধানীতে অরাজকতা সৃষ্টি করার পেছনে নিশ্চিতভাবেই তাদের অসৎ উদ্দেশ্য ছিল।”
তুহিন সিনহা সিজেপিকে বিরোধী দল কংগ্রেসের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, দুটি দলই একই সময়ে বিচার বিভাগকে আক্রমণ করছে।
তুহিন বলেন, গুরুত্বপূর্ণ শুনানির ঠিক মাঝপথে রাহুল গান্ধী যেভাবে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে পদযাত্রা করেছিলেন, তা কোনোভাবেই সমীচীন নয়। শুনানির ঠিক আগে এমন প্রতীকী অভিশংসন করা কোনো স্বাভাবিক আচরণ হতে পারে না। ভারতের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি নষ্ট করতে এটি একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্ত।
নেতাদের তলব ও যন্তর মন্তরের ঘটনা
রাজনৈতিক এই উত্তেজনার মধ্যেই সিজেপি’র দুই মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সমন পাঠিয়েছে দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ।
সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা, অনুমতি ছাড়া যন্তর মন্তরে ঢোকা এবং অন্যের সম্পত্তিতে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
পুলিশ জানায়, গত ১০ অক্টোবর দাস ও রাঙ্কাকে আটক করা হয়েছিল। তখন ৫০ হাজার রুপির মুচলেকা দিয়ে তারা ছাড়া পান। এক বছর শান্তি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তারা।
তবে অভিযোগ উঠেছে, এর ৭২ ঘণ্টার মাথায় গত ১৩ অক্টোবর তারা সেই শর্ত ভাঙেন। সিজেপির আরেক সদস্য অজিনক্য শিন্ডেকে সঙ্গে নিয়ে তারা ব্যারিকেড টপকে যন্তর মন্তরে ঢুকে পড়েন।
উল্লেখ্য, যন্তর মন্তরকে আগেই বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থান হিসেবে বাতিল (ডিনোটিফাই) করেছিল প্রশাসন। সেখানে তারা নির্বাচন কমিশনের ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর), অর্থাৎ ভোটার তালিকা নিবিড় সংশোধন কার্যক্রমের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। একই সঙ্গে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন।
বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জনসংযোগ বিষয়ে পাস করা অভিজিৎ দীপকে গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বসেই সিজেপি-র ওয়েবসাইট ও সামাজিক মাধ্যমের পাতাগুলো খোলেন। তিনি একে রাজনৈতিক ব্যঙ্গ বা স্যাটায়ার বলে দাবি করেন। ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আম আদমি পার্টির (আপ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন দীপকে।
বিজেপির দাবি ওড়াল বিরোধীরা
কেন্দ্রীয় সরকারের এই বিদেশি ষড়যন্ত্রের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিরোধী দলগুলো।
বেঙ্গালুরুতে কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং গোয়েন্দা সংস্থা আইবি ও ‘র’-এর সক্ষমতা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেন।
তিনি বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বিজেপি নেতারা দাবি করছেন কংগ্রেসের পেছনে বিদেশি অর্থায়ন রয়েছে। অথচ তারা এক টুকরো কাগজ বা প্রমাণও হাজির করতে পারছেন না। এতেই অমিত শাহ, জয়শঙ্কর এবং ‘র’-এর দক্ষতার দৌড় বোঝা যায়।”
খাড়গে প্রশ্ন তোলেন, “আইবি ও ‘র’ আসলে কী করছে? কিসের ভিত্তিতে এসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে?”
সম্প্রতি একটি অনলাইন জরিপ চালিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে প্রকাশ্য বিতর্কের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। সেই উদ্যোগকে সমর্থন জানান প্রিয়াঙ্ক খাড়গে।
খাড়গে প্রস্তাব দেন, বিতর্কের সঞ্চালক করা হোক বিজেপির আদর্শিক অভিভাবক আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতকে। তার উপস্থিতিতেই কংগ্রেস, বিজেপি এবং আরএসএস, সবার তহবিলের উৎস নিয়ে খোলামেলা বিতর্ক হোক।
