Published : 30 Apr 2026, 10:23 AM
দেড় সপ্তাহ আগে মার্কিন বাহিনীর হাতে জব্দ ইরানি কনটেইনার জাহাজ তৌস্কার ছয় ক্রু ছাড়া পেয়েছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা তাসনিম।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট এ সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ক্রু’দের মুক্ত করতে ইরানি কর্তৃপক্ষের টানা চেষ্টার ফলস্বরূপ ৬ ক্রু’কে ছাড়া হয়েছে বলে বুধবার তারা জানতে পেরেছে।
ইরানগামী তৌস্কা মার্কিন বাহিনীর হাতে আটক হওয়ার সময় নৌযানটিতে মোট ২৮ ক্রু ছিলেন। বাকিদের মুক্ত করতেও ইরানি কর্তৃপক্ষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
“জলদস্যুতার নিদর্শনস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী প্রশাসন সম্প্রতি ইরানি কনটেইনার জাহাজ তৌস্কা হাইজ্যাক করেছে, ২৮ ইরানি ক্রু নিয়ে যে জাহাজটি ইরানের দিকে আসছিল,” লিখেছে তাসনিম।
ইরানি ক্রু ও তাদের পরিবারের সদস্যরা থাকায় জাহাজটিকে মুক্ত করতে সেনা পাঠানো থেকে তেহরান বিরত রয়েছে বলেও ইরান আগে ঘোষণা করেছিল।
তার মধ্যেই সরকারি চ্যানেলে ক্রু’দের মুক্ত করতে চেষ্টা ও প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে; এই চেষ্টার ধারাবাহিকতায় ৬ ইরানি ক্রু মুক্ত হন এবং তারা এখন ইরানেই আছেন বলে তাসনিমের এক প্রতিবেদক জানতে পারেন।
এখন বাকি ২২ ক্রু’কে মুক্ত করার চেষ্টা অব্যাহত আছে, বলেছে সংবাদমাধ্যমটি।
তৌস্কা জব্দের খবর আসার পর ইরানের যুদ্ধকালীন কমান্ড খাতামুল আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদরদপ্তর বলেছিল, ক্রু’দের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ওমান উপসাগরে ইরানি কনটেইনার নৌযানে মার্কিন নৌ আক্রমণের পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত রাখা হল।
ক্রু ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পর ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ‘সন্ত্রাসী মার্কিন সামরিক বাহিনীর’ বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল তারা।
চীন থেকে ইরান যাওয়ার পথে মার্কিন বাহিনীর সদস্যরা তৌস্কাকে আটক করে তার নিয়ন্ত্রণ নেন।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড পরে জানায়, জাহাজটি বন্দর আব্বাসের দিকে যাচ্ছিল। কনটেইনারবাহী এ নৌযানের ‘ইঞ্জিনরুম খালি করতে’ ছয় ঘণ্টা ধরে একের পর এক সতর্কবার্তা দেওয়ার পরও তারা তা শোনেনি বলেও অভিযোগ করেছে তারা।
তৌস্কা জব্দের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সামরিক বাহিনী ওই এলাকায় থাকা একাধিক মার্কিন সামরিক নৌযান লক্ষ্য করে ড্রোন ছুড়েছিল, বলছে তাসনিম।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানো শুরু করার পর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হানা শুরু করে তেহরান; পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওই জলপথ দিয়ে নৌযান চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ দেয়।
এতে বিশ্বের এক পঞ্চমাংশ তেল-গ্যাস সরবরাহের পথটি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। বেড়ে যায় তেলের দাম, অস্থির হয়ে ওঠে বিশ্ব অর্থনীতি। এর পাল্টায় পরে ওয়াশিংটনও ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেয়। ওই অবরোধের অংশ হিসেবেই তৌস্কাকে জব্দ করা হয় বলে জানিয়েছিল মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড।
যুক্তরাষ্ট্র এখন এ অবরোধের পরিধি বাড়ানোর কথা ভাবছে বলেও সম্প্রতি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক খবরে বলা হয়েছে।