সিরিয়ায় হিজবুল্লাহর অস্ত্র সরবরাহ চেইন ভেঙে দিতে গোপন হামলা জোরদার করেছে ইসরায়েল। গাজার পর হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করতে পারে ইসরায়েল।
Published : 16 Jun 2024, 06:14 PM
সিরিয়ায় অস্ত্র গুদাম, সরবরাহ রুট ও ইরান-সংশ্লিষ্ট কমান্ডারদের ওপর গোপন হামলা জোরদার করেছে ইসরায়েল। ইরানের প্রধান মিত্র লেবাননের হিজবুল্লাহ গেরিলা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার হুমকির মুখে এ হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল। সাত আঞ্চলিক কর্মকর্তা ও কূটনীতিক একথা জানিয়েছেন।
৩ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত ২ জুন আলেপ্পোর কাছে একটি গোপন ও সুরক্ষিত অস্ত্রের গুদাম লক্ষ্য করে বিমান হামলা হয়। ওই হামলায় ইরানের বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) এক উপদেষ্টাসহ ১৮ জন নিহত হন।
আরও ৪ কর্মকর্তা জানান, মে মাসে লেবাননের উদ্দেশে রওনা হওয়া ট্রাকের একটি বহর লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। ওই গাড়িবহরে ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ ছিল। আরও একটি অভিযানে হিজবুল্লাহর কয়েকজন কর্মী নিহত হন।
বছরের পর বছর ধরে সিরিয়া এবং অন্যান্য দেশে চিরশত্রু ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করেছে ইসরায়েল। এসব হামলা এতদিন স্বল্প পরিসরে ছিল। কিন্তু গতবছর ৭ অক্টোবরে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী গোষ্ঠী হামাসের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর এই গোপন হামলার মাত্রা বেড়েছে।
ওয়াশিংটন ইন্সটিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির হিসাব অনুযায়ী, গত বছর ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে ঢুকে হামাসের হামলার আগের দুই বছরে সিরিয়ায় ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) ও হিজবুল্লাহর কয়েক ডজন কর্মকর্তাকে হত্যা করেছে ইসরায়েল।
গত এপ্রিলে দামেস্কে ইরানি কনস্যুলেটে ইসরায়েল বোমা হামলায় লেভান্তে আইআরজিসি'র শীর্ষ কমান্ডার নিহত হন। এর ফলে ওই অঞ্চলে ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনা চরম মাত্রায় পৌঁছায়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে প্রায় ৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে, যার প্রায় সবগুলোই ভূপাতিত করা হয়। এরপর ড্রোন দিয়ে ইরানি ভূখণ্ডে হামলা চালায় ইসরায়েল।
ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে এটিই ছিল প্রথম সরাসরি সংঘর্ষের ঘটনা। তবে এই সংঘর্ষ বড় আকার ধারণ করেনি।
ফরাসি কূটনীতিক সেলিন উইসাল বলেছেন, ইসরায়েল ইরান-সমর্থিতদের বিরুদ্ধে হামলা কিছুটা কমিয়েছে। এপ্রিলে দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার পর ইসরায়েল হামলার গতি ‘মন্থর করেছে।’
কিন্তু লেবাননে ইরানি অস্ত্র হস্তান্তর নিয়ে সন্দেহের কারণে ইসরায়েলের হামলা আবার বাড়ছে। সিরিয়া ও লেবাননে ইরান ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার সরবরাহ চেইন ব্যাহত করার তৎপরতা চলছে।
ইসরায়েলের সিরিয়া অভিযান নিয়ে ৩ সিরীয় কর্মকর্তা, একজন ইসরায়েলি সরকারি কর্মকর্তা এবং ৩ পশ্চিমা কূটনীতিকের সাক্ষাৎকার নিয়েছে রয়টার্স। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্পর্শকাতর এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হন তারা।
২ জুনের হামলাসহ সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আলেপ্পো ও হোমস শহরের চারপাশে ঘটে যাওয়া ইসরায়েলি হামলার লক্ষ্যবস্তু নিয়ে খুঁটিনাটি কিছু তথ্য দিয়েছেন সিরীয় কর্মকর্তারা যেগুলো আগে সামনে আসেনি।
সাক্ষাৎকারে সবাই বলেছেন, ইসরায়েলের পদক্ষেপ থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, তারা সিরিয়ার সীমান্তবর্তী লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যে যুদ্ধ শুরু হতে পারে গাজায় অভিযান থিতিয়ে আসলে।
ইসরায়েলি সরকারি কর্মকর্তা বলেন, “আমাদের নেতাদের বক্তব্য স্পষ্ট যে, লেবাননে খুব শিগগিরই যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে।”
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত সপ্তাহে বলেন, তার দেশ লেবাননের সীমান্তে 'অত্যন্ত শক্তিশালী হামলার' জন্য প্রস্তুত ছিল। ৮ অক্টোবর থেকে সেখানে হিজবুল্লাহর সঙ্গে স্বল্প পরিসরে ইসরায়েলের লড়াই চলছে।
যদিও লেবাননে যুদ্ধ অনিবার্য নয়। ওয়াশিংটন ও ফ্রান্সের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে ইসরায়েলও খোলামেলা ইঙ্গিত দিয়েছে।
কিন্তু হিজবুল্লাহকে দুর্বল করা এবং ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর বিষয়ে তাদেরকে নিরুৎসাহিত করাটাও সিরিয়ায় ইসরায়েলি অভিযানের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলি ওই সরকারি কর্মকর্তা।