Published : 02 Oct 2025, 12:33 AM
গাজায় ত্রাণ পৌঁছে দিতে যাত্রা করা আন্তর্জাতিক নৌবহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা (জিএসএফ) জানিয়েছে, তারা বুধবার গাজার কাছে ১৫০ ন্যটিক্যাল মাইল দূরের উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পৌঁছায়।
সেখানে তাদের সামনের সারির একটি জাহাজ ‘আলমা’-কে ইসরায়েলের একটি যুদ্ধজাহাজ আগ্রাসীভাবে কয়েকমিনিট ঘিরে ধরেছিল। এ সময় জাহাজের সব নেভিগেশন ও যোগাযোগব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়।
ফ্লোটিল্লার কর্মীরা বলেছে,ইসরায়েলের যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে বুধবার সকালের এই সংঘাতের খবর পাওয়ার পর তারা আবার গাজায় যাওয়ার চেষ্টা করছে।
কর্মীরা আরও জানায়, ইসরায়েলের জাহাজটি ফ্লোটিল্লার কয়েকটি জাহাজের দিকে এগিয়ে গিয়ে ‘বিপজ্জনক ও ভয়ভীতি দেখানোর কৌশল’ নেয়।
আলমা জাহাজের ক্যাপ্টেনকে পালিয়ে যাওয়ার পথ ধরতে বাধ্য করে ইসরায়েলের যুদ্ধজাহাজ। ফ্লোটিল্লার আরেকটি জাহাজকেও তারা হয়রানি করে।
ইসরায়েল আগেই বলে দিয়েছিল যে, তারা ফ্লোটিল্লাকে গন্তব্যে পৌঁছতে দেবে না। গত জুন ও জুলাই মাসে ইসরায়েল ফ্লোটিল্লা কর্মীদের গাজায় ত্রাণ সরবরাহের দুটি চেষ্টা বানচাল করেছে।
সম্প্রতি গাজার দিকে যে সুমুদ ফ্লোটিল্লা অগ্রসর হয়েছে সেই নৌবহরে আছে ৪০টির বেশি বেসামরিক নৌকা, যাতে প্রায় ৫০০ যাত্রী আছে। এর মধ্যে আছেন ইতালির রাজনীতিবিদরা এবং সুইডিশ জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গও।
আলমা জাহাজের যাত্রী থিয়াগো আভিলা বলেছেন, ইসরায়েলের যুদ্ধজাহাজের আগ্রাসী কর্মকাণ্ডে আলমা’র সব যন্ত্রপাতি বিকল হয়ে যায়। এতে ক্যামেরা, সরাসরি সম্প্রচার এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়।
ফ্লোটিল্লা নৌবহরের সাইরিয়াস নামক আরেক জাহাজের যাত্রী লিসি প্রোয়েঙ্কা বলেন, এই জাহাজটিকে ইসরায়েলের জাহাজ প্রায় ১৫ মিনিট ধরে ঘিরে রেখেছিল এবং তাদেরও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়।
উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ ওই এলাকায় ইসরায়েলের নৌবাহিনীর কাছ থেকে বাধার মুখে পড়ার সম্ভাবনার কথা অবশ্য আগেই জানিয়েছিলেন ফ্লোটিল্লার কর্মীরা। ওই সময় ফ্লোটিল্লার নৌবহরের দিকে এগিয়ে আসতে দেখা গিয়েছিল অপরিচিত কয়েকটি জাহাজকে।
এর মধ্যে কয়েকটির লাইট ছিল না। জাহাজগুলো ফ্লোটিল্লা নৌবহরের দিকে সেই এলাকাতেই এগিয়ে আসছিল, যেখানে এর আগের ফ্লোটিল্লাগুলো হামলার শিকার হয়েছিল এবং বাধার মুখে পড়েছিল।
বুধবার স্থানীয় সময় বিকালের দিকে সুমুদ ফ্লোটিল্লা (জিএসএফ) জানায়, তাদের নৌকাগুলো গাজা থেকে ৯০ ন্যটিক্যাল মাইলের কম দূরত্বে রয়েছে। ওই এলাকার আশেপাশেই এর আগের গাজামুখী ফ্লেটিল্লাগুলো ইসরায়েলি বাহিনীর বাধার মুখে পড়েছিল।
জিএসএফ বলেছে, তাদের নৌবহর বৃহস্পতিবার সকালেই গাজার উপকূলরেখায় পৌঁছে যাবে বলে আশা করছে।