পশ্চিমবঙ্গে ‘বাড়িতে মজুত আতশবাজির বিস্ফোরণ’, এক পরিবারের ৮ সদস্যের মৃত্যু
বণিক পরিবারের ১১ সদস্যের মধ্যে দুর্ঘটনার সময়ে দুই ভাই চন্দ্রকান্ত ও তুষার এবং তাদের মা বাড়িতে ছিলেন না।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বাড়িতে মজুত করে রাখা আতশবাজির বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে চার শিশুসহ একই পরিবারের ৮ জন মারা গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার গভীর রাতে পাথরপ্রতিমা এলাকার বণিক বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।
আনন্দবাজার জানিয়েছে, বণিক পরিবার আতশবাজির ব্যবসা করে। তাদের বাড়িতে মজুত বাজি বিস্ফোরিত হয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, সোমবার রাতে চন্দ্রকান্তদের বাড়িতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের শব্দ শোনের তারা। পরে পুরো বাড়িতে আগুন ধরে যায়।
চন্দ্রকান্তদের পরিবারে মোট ১১ জন সদস্য ছিলেন। দুর্ঘটনার সময়ে দুই ভাই এবং তাদের মা বাড়িতে ছিলেন না।
ঘটনার পরে বণিক পরিবারের দুই সদস্য চন্দ্রকান্ত ও তুষারের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করেছে ঢোলাহাট থানা।
ঘরে বিপজ্জনক দাহ্য বস্তু মজুত, অনিচ্ছাকৃত খুনের ধারাসহ মোট ছ’টি ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে তাদের বাড়ির পাশে একটি ঘর থেকে বাজি তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে। বাড়ির কাছে একটি মাঠেও বাজির উপকরণ পড়ে থাকতে দেখা গেছে ।
বণিক পরিবারের বাজি তৈরির অনুমোদনপত্র (লাইসেন্স) রয়েছে বলে জানিয়েছেন পাথরপ্রতিমার বিধায়ক সমীর জানা। তবে গ্রামবাসীরা বলছেন, অনুমোদনপত্র থাকলেও সেখানে অবৈধ বাজিও তৈরি হত।
সমীর বলেছেন, বাড়ির কাছেই একটি জায়গায় চন্দ্রকান্তেরা বাজি তৈরি করতেন। তবে বাড়িতেও বেশ কিছু বাজি মজুত ছিল।
আবাসিক এলাকায় কীভাবে বাজি মজুত থাকে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসীরা। পুলিশ এবং প্রশাসনের নজরদারি নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন তারা।
পাথরপ্রতিমায় এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর ভারতের গুজরাটে একটি আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৭ শ্রমিক নিহত হয়।
