১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ইরানে ‘ভয়াবহ ও বিপজ্জনক’ পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন ক্রুর সন্ধানে উদ্ধারকারী দল

মার্কিন সামরিক বাহিনীর যুদ্ধকালীন তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযানগুলোকে সবচেয়ে জটিল ও সময়-সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ইরানে ‘ভয়াবহ ও বিপজ্জনক’ পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন ক্রুর সন্ধানে উদ্ধারকারী দল
সিএসএআর মিশনগুলো শত্রু পরিবেষ্টিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশগুলোতে ঘটে। ছবি: রোনিন রেসক্যু

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Apr 2026, 12:04 AM

Updated : 26 Aug 2026, 03:18 PM

ইরানের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের যে এফ-১৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে সেটির পাইলটকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে মার্কিন বাহিনী, প্রাথমিকভাবে এমন খবর পাওয়া যাচ্ছে। যদি এ খবর নিশ্চিত হয় তবে এটি যুদ্ধকালীন যুক্তরাষ্ট্রের তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযানের দীর্ঘ ইতিহাসের সর্বশেষ ঘটনা।   

ওই একই যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় এক ক্রু সদস্যের সন্ধানে ইরানের গভীরে তল্লাশি অভিযান এখনো চলমান বলে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে। 

যুদ্ধকালীন তল্লাশি ও উদ্ধার (সিএসএআর) মিশনগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্র দেশগুলোর সামরিক বাহিনী যত ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে তাদের মধ্যে সবচেয়ে জটিল, সময়-সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 

মার্কিন বিমান বাহিনীর অভিজাত ইউনিটগুলোকে বিশেষভাবে সিএসএআর মিশনের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় আর প্রায়ই সংঘাত এলাকার কাছে যেখানে আকাশযান খোয়া যেতে পারে সেখানে আগেভাগে মোতায়েন করা হয়।  

যুদ্ধকালীন তল্লাশি ও উদ্ধার বা সিএসএআর কী? 

সিএসএআর মিশনগুলো হল নিখোঁজ সামরিক সদস্যদের খুঁজে বের করা, তাদের সাহায্য করা আর যাদের প্রয়োজন তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসা, যাদের মধ্যে বিধ্বস্ত আকাশযানের পাইলটরাও থাকেন।

প্রচলিত তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান প্রচেষ্টা যেখানে মানবিক কার্যক্রম চলাকালে বা দুর্যোগের পর চালানো হয় সেখানে সিএসএআর মিশনগুলো শত্রু পরিবেষ্টিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশগুলোতে ঘটে।

ইরানে যেমনটি ঘটেছে তেমন ক্ষেত্রে এসব অভিযান চালাতে শত্রু দেশের অনেক ভেতরে প্রবেশ করার দরকার হতে পারে।       

সিএসএআর মিশন সাধারণত হেলিকপ্টারের মাধ্যমে চালানো হয়, সঙ্গে থাকে জ্বালানিবাহী বিমান ও অন্যান্য সামরিক বিমান, যেগুলো অভিযান এলাকায় টহল দেয় ও দরকার হলে শত্রুর ওপর আঘাত হানে। 

ইরানে সিএসএআর মিশন যেমন হতে পারে

মার্কিন প্যারা-রেসকিউ জাম্পার্স স্কোয়াড্রনের সাবেক এক কমান্ডার সিবিএস নিউজকে বলেন, ইরানে যে ধরনের অভিযান চলছে বলে জানা যাচ্ছে, সেখানে অন্তত ২৪ জন প্যারা-রেসকিউ জাম্পার্স ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারে করে ওই নিখোঁজ ক্রুকে খুঁজে বের করার জন্য নিবিড় তল্লাশি চালাচ্ছে।  

প্যারা-রেসকিউ জাম্পার্সদের এই দলটিকে প্রয়োজন হলে বিমান থেকে প্যারাসুটযোগে থেকে নামতে হতে পারে। নিচে নামার পর তাদের অগ্রাধিকার থাকবে নিখোঁজ ক্রু সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করা। তাকে খুঁজে পেলে দরকার মতো তার চিকিৎসা করা আর তারপর শত্রুকে এড়িয়ে তাদের যেখান থেকে উদ্ধার করা যেতে পারে সেখানে পৌঁছানোর চেষ্টা শুরু করা। 

“এ রকম পরিস্থিতিকে ভয়াবহ ও মারাত্মক বিপজ্জনক বললে কম বলা হয়,” সিবিএসকে বলেন তিনি।  

তিনি আরও বলেন, “সারা বিশ্বজুড়ে এসব করতেই তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। (এ কারণেই) তারা বিমান বাহিনীর ‘সুইস আর্মি নাইভস’ হিসেবে পরিচিত।” 

ইরান থেকে যা জানা গেছে

শুক্রবার ইরান থেকে আসা যাচাই করা ভিডিওতে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সামরিক হেলিকপ্টার ও অন্তত একটি জ্বালানিবাহী বিমান দেশটির খুজেস্তান প্রদেশের উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে। 

এই অভিযানটি অত্যন্ত সময়-সংবেদনশীল, কারণ সিএসএআর টিমগুলো যে মার্কিন ক্রুর খোঁজ করছে সেই একইজনকে খুঁজে বের করতে ইরানি বাহিনীগুলোকেও সেখানে মোতায়েন করা হতে পারে।

ইরানি কর্মকর্তারা ইতোমধ্যেই ওই এলাকার নাগরিকদের নিখোঁজ মার্কিন ক্রু সদস্যকে জীবিত খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছে আর এরজন্য পুরস্কারও ঘোষণা করেছে, জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম।   

চ্যাথাম হাউজের যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর আমেরিকা কার্যক্রমের পরিচালক লরেল র‌্যাপ বিবিসির রেডিও ফোরকে বলেন, ইরান যদি ওই মার্কিন ক্রুকে ধরতে পারে তাহলে তা তাদের জন্য ‘বিরাট পুরস্কার’ হবে আর তা তাদের জন্য ‘দরকষাকষির অত্যন্ত শক্তিশালী উপায় হয়ে উঠবে’।  

আরও পড়ুন: 

ইরানে একদিনে দুই মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত, পাইলটের খোঁজে চলছে অভিযান