Published : 27 Aug 2025, 04:40 PM
বিদেশে সক্রিয় ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইংয়ের (র) সাবেক কর্মকর্তা বিকাশ যাদবের নামে জামিন অযোগ্য পরোয়ানা জারি করে তার জামিনদাতাকে নোটিস পাঠিয়েছে দিল্লির এক আদালত।
যুক্তরাষ্ট্রে শিখ নেতা গুরপতবন্ত সিং পান্নুনকে হত্যার ষড়যন্ত্রে অন্যতম পরিকল্পনাকারী হিসেবে এই বিকাশ যাদবের নাম এসেছিল বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
অপহরণ ও মুক্তিপণ চাওয়ার এক মামলায় হাজিরা দিতে যাদবকে বারবার ডেকে পাঠানো হলেও তিনি উপস্থিত না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এ পরোয়ানা জারি করে দিল্লির আদালত।
সোমবার জারি করা ওই আদেশে পাতিয়ালা হাউস কোর্টের অতিরিক্ত সেশন আদালতের বিচারক সৌরভ প্রতাপ সিং লালের জানান, ওইদিন সকাল থেকেই যাদব অনুপস্থিত।
“অভিযুক্ত বিকাশ যাদবের বিরুদ্ধে নন বেইলেবল ওয়ারেন্ট (জামিন অযোগ্য পরোয়ানা) জারি করা হোক, এবং ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ধারা ৪৯১ অনুযায়ী তার জামিনদাতাকে নোটিস পাঠানো হোক, ১৭ অক্টোবরের জন্য,” বলেন বিচারক।
এই মামলায় যাদবের পরিবারের এক সদস্যই তার জামিনদাতা, বলেছে একটি সূত্র।
রোহিনী এলাকার এক বাসিন্দার করা অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর দিল্লি পুলিশের বিশেষ ইউনিট যাদবকে গ্রেপ্তার করেছিল। তার বিরুদ্ধে অপহরণ, মুক্তিপণ চাওয়া এবং গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণইয়ের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ এনেছিলেন ওই বাসিন্দা।
এই গ্রেপ্তারের তিন সপ্তাহ আগেই পান্নুন হত্যাচেষ্টা মামলায় মার্কিন কর্তৃপক্ষ যাদবের নাম সামনে এনেছিল।
রোহিনী এলাকার বাসিন্দার করা মামলায় অভিযোগপত্র দাখিলের পরও যাদব এবং তার সহযোগী বলে খ্যাত একজন পরে জামিনে বেরিয়ে যান।
‘প্রাণনাশের হুমকিকে’ কারণ দেখিয়ে যাদব আদালতে সশরীরে উপস্থিতি থেকে ছাড় চেয়ে আবেদন করলে তাও মঞ্জুর হয়।
কিন্তু সোমবার তিনি নতুন করে কোনো আবেদন করেননি।
এ প্রসঙ্গে যাদবের আইনজীবী আর কে হোন্ডো জানান, তার মক্কেলের একটি শুনানি ছিল কিন্তু জামিন অযোগ্য পরোয়ানা সম্বন্ধে তিনি অবগত নন।
তদন্তকারীরা যাদবের সঙ্গে দুবাইয়ের মহাদেব অনলাইন বুক নামের জুয়া চক্রের এক সদস্যের যোগসাজশ পেয়েছেন বলেও গত ১১ অগাস্ট ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল।
এদিকে রোহিনীর বাসিন্দার করা মামলায় যাদবের সহযোগী খ্যাত আবদুল্লাহ খান তার বাবার ব্লাড ক্যান্সারকে কারণ দেখিয়ে আদালতের কাছে তার পাসপোর্ট জব্দ না করার সময়সীমা আরও বাড়ানোর অনুরোধ করেন। বাবার চিকিৎসা সম্বন্ধে আরও খোঁজখবরের জন্য তাকে দুবাই, সিঙ্গাপুর ও যুক্তরাজ্যে যেতে হবে বলে ভাষ্য তার।
আদালত তার আবেদনে সাড়া দিয়ে ওই সময়সীমা ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ান।