Published : 14 May 2026, 12:14 PM
লেবাননজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছে বলে দেশটির ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে।
এদের মধ্যে দুটি শিশুসহ আটজন রাজধানী বৈরুত ও দক্ষিণ লেবাননের মধ্যে সংযোগকারী এক প্রধান মহাসড়কে ইসরায়েলের তিনটি ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছে।
এনএনএ-র শেয়ার করা একটি ছবিতে ওই মহাসড়কে বুধবার বোমা হামলার শিকার কয়েকটি গাড়ি দেখা গেছে। ঘটনাস্থল জিয়েহ এলাকাটি বৈরুত থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে। বোমার আঘাতে গাড়িগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এগুলোর বাইরের অংশ পুড়ে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে।
আল জাজিরার এক প্রতিনিধি দক্ষিণ লেবাননের টায়ার থেকে জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লড়াই ‘শুধু বেড়েই চলেছে’।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
দক্ষিণ লেবাননের একটি অংশ দখল করে রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে ও দখলদার বাহিনীর সেনাদের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালাচ্ছে লেবাননের প্রতিরোধকারী শক্তি হিজবুল্লাহ। এই সশস্ত্র রাজনৈতিক সংগঠনটি জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনার বিরোধিতা করে।
বুধবার সকালে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের ছয়টি গ্রামের বাসিন্দাদের অবিলম্বে এলাকা ছেড়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তারা শিগগিরই এই গ্রামগুলোর বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করবে বলে সতর্ক করেছে। বাসিন্দাদের অন্তত এক কিলোমিটার দূরে ‘খোলা জায়গায়’ সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যারা থেকে যাবে তারা তাদের ‘জীবনকে বিপন্ন করবে’ বলে হুঁশিয়ার করেছে।
গত এক সপ্তাহ ধরে প্রায় প্রতিদিন এ ধরনের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। ওই এলাকাগুলো যে অল্প কয়েকটি হাসপাতাল এখনও অক্ষত আছে তার মধ্যে একটি নতুন নির্দেশিত এলাকায় পড়েছে।
আল জাজিরার প্রতিনিধি বলেছেন, “পুরো টায়ার জেলায় মাত্র তিনটি হাসপাতাল অক্ষত আছে। আর সেখানে এখনও লোকজন বসবাস করে। অন্তত এক লাখ মানুষ সেখানে বসবাস করছে।”
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি শহরে ইসরায়েলি হামলায় ১৩ জন নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে হুসেইন জাবের ও আহমেদ নৌরা নামের দুজন স্বাস্থ্যকর্মী আছেন।
১৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫১২ জন নিহত হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়টি জানিয়েছে। আর ২ মার্চ থেকে লেবাননে ইসরায়েলি আক্রমণ ও বোমাবর্ষণ শুরু হওয়ার পর থেকে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮৯৬ জনে। এর পাশাপাশি ইসরায়েলি হামলা, ঘরবাড়ি ছাড়ার নির্দেশ ও গ্রামের পর গ্রাম ধ্বংস করায় বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।