Published : 16 Jul 2026, 02:53 PM
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একের পর এক পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ পুনরায় কার্যকর করার প্রথম দিন ছিল বুধবার। জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, অবরোধের প্রথম দিনেই এই জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়।
জাহাজ চলাচলের তথ্য ও উপাত্ত প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘কেপলার’-এর তথ্য অনুযায়ী, যেখানে মঙ্গলবার ১৩টি জাহাজ এই প্রণালি পার হয়েছিল, সেখানে বুধবার তা কমে মাত্র ৭টিতে দাঁড়ায়।
এই জাহাজগুলোর বেশির ভাগই ইরানের নির্ধারিত নৌপথ ব্যবহার করেছে।
শনিবার রাতে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়।
বর্তমানে দুই পক্ষের সামরিক অভিযানের কারণে এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
চলমান সংঘাতের আগে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ হওয়া মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় এক পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।
কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে পারস্য উপসাগরে মাত্র চারটি খালি জাহাজ প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে তিনটি ছোট তেল ট্যাংকার এবং একটি খাদ্যশস্য বহনের উপযোগী ড্রাই বাল্ক ক্যারিয়ার।
অন্যদিকে, ওই দিন এই প্রণালি দিয়ে বের হয়ে যাওয়া তিনটি জাহাজে এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস), কয়লা এবং জ্বালানি তেল পরিবহন করা হচ্ছিল।
এর আগে মঙ্গলবার ১০ লাখ ব্যারেল সৌদি অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি ‘সুয়েজম্যাক্স’ ট্যাংকার পরিচয় গোপন করতে যোগাযোগ যন্ত্র বা ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে এই প্রণালি পার হয়েছিল।
তবে বুধবার কোনো 'ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার' (ভিএলসিসি) বা এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) ট্যাংকারকে এই বিপজ্জনক রুটে চলাচল করতে দেখা যায়নি।
আরও পড়ুন:
ইরানের ওপর একাধিক হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, পাল্টা হামলা তেহরানের