Published : 16 Jul 2026, 02:51 PM
আরও একটি ম্যাচ গেল, লিওনেল মেসির অর্জনের মুকুটে যুক্ত হলো আরও পালক। কোথাও পেলে, কোথাও মারাদোনা, কোথাও কিলিয়ান এমবাপেকে ছাড়িয়ে গেলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।
দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের বিভিন্ন রেকর্ড ও অর্জন তুলে ধরা হলো-
১
ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন এবং কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে বিশ্বকাপের ফাইনালে। এবারই প্রথম দুই মহাদেশের দুই শিরোপাধারী দল বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে।
১
সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে স্পেনের বিপক্ষে ১৪ ম্যাচে ৬টি করে জয় ও হার দেখেছে আর্জেন্টিনা। দুই ম্যাচ ড্র হয়েছে। বিশ্বকাপে দুই দলের একমাত্র দেখা ১৯৬৬ সালে গ্রুপপর্বে। সেবার ২-১ ব্যবধানে জয় পায় বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
১
বিশ্বকাপের এক আসরে একাধিকবার দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে ম্যাচজয়ী গোল করা একমাত্র দল আর্জেন্টিনা।
২
ইতালি (১৯২৪ ও ১৯৩৮) ও ব্রাজিলের (১৯৫৮ ও ১৯৬২) পর একমাত্র দল হিসেবে টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি আর্জেন্টিনার সামনে।
১ ও ২
১৯৯২ সালে ফিফা র্যাঙ্কিং প্রচলনের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে মুখোমুখি হবে শীর্ষ দুই দল। বিশ্বকাপ শুরুর আগে র্যাঙ্কিংয়ের ১ নম্বরে ছিল আর্জেন্টিনা আর দুইয়ে ছিল স্পেন।
৭
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সপ্তমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা। সমান সংখ্যকবার ফাইনাল খেলেছে ব্রাজিল। সবচেয়ে বেশি ৮ বার ফাইনাল খেলেছে জার্মানি।
১৯৮৬ ও ১৯৯০ বিশ্বকাপের পর প্রথমবার টানা দুইবার বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলবে আর্জেন্টিনা।
১৩
টানা ১৩ বিশ্বকাপ ম্যাচে দুই বা ততোধিক গোল করেছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপে টানা সবচেয়ে বেশি ম্যাচে দুই বা ততোধিক গোলের রেকর্ড এটি। এর আগে উরুগুয়ে ১৯৩০ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত টানা ১১ বিশ্বকাপ ম্যাচে দুই বা ততোধিক গোল করেছিল।
১২
২০১৪ বিশ্বকাপের পর এই ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ১২ বার ডুয়েল জিতেছেন লিওনেল মেসি। অতিরিক্ত সময়ে যায়নি, শুধু এমন ম্যাচ বিবেচনা করলে ২০১০ সালের পর এটিই সর্বোচ্চ।
১১
২০২২ বিশ্বকাপ থেকে টানা ১১ ম্যাচে গোল কিংবা অ্যাসিস্ট করেছেন লিওনেল মেসি। গত ৬০ বছরের মধ্যে যা সর্বোচ্চ।
১০
গত ৬০ বছরে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সবচেয়ে বেশি ১০ অ্যাসিস্ট করেছেন মেসি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ চারটি করে অ্যাসিস্ট করেছেন পেলে ও অঁতোয়ান গ্রিজমান।
৯
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নয়টি সফল ড্রিবল করেছেন মেসি। চলতি আসরে কোনো ম্যাচে যা কোনো খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ।
৮ ও ৪
বিশ্বকাপের এবারের আসরে ৮ গোল করে কিলিয়ান এমবাপের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় সবার উপরে আছেন লিওনেল মেসি। আর চার অ্যাসিস্ট করে যৌথভাবে দুই নম্বরে আছেন (একটি বেশি অ্যাসিস্ট করে চূড়ায় মাইকেল ওলিসে)।
গত বিশ্বকাপে গোল ও অ্যাসিস্ট- দুই তালিকাতেই দুই নম্বরে ছিলেন মেসি। সেরাদের চেয়ে একটি করে গোল ও অ্যাসিস্ট কম ছিল তার।
২০১০ বিশ্বকাপে টমাস মুলার ৫ গোল ও ৩ অ্যাসিস্ট করেন, এতে সবশেষ ফুটবলার হিসেবে সর্বোচ্চ গোল ও অ্যাসিস্ট- দুই তালিকাতেই একক বা যৌথভাবে শীর্ষে ছিলেন তিনি।
৮/১৩
আর্জেন্টিনা দলের হয়ে খেলা ১৩ মেজর টুর্নামেন্টের ৮টিতে ফাইনালে পৌঁছেছেন মেসি। শতাংশের হিসেবে ৬১.৫ শতাংশ।
৪
শেষ ৬০ বছরে চতুর্থ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে একাধিক অ্যাসিস্ট করেছেন মেসি।
৩৩
বিশ্বকাপে ৩৩ ম্যাচে ৩৩ গোলে অবদান রেখেছেন লিওনেল মেসি (২১ গোল ও ১২ অ্যাসিস্ট)। দুই নম্বরে থাকা কিলিয়ান এমবাপে ২৫ গোলে অবদান রেখেছেন।
৯৯
শেষ ৬০ বছরে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি সুযোগ তৈরি করেছেন মেসি। আর একবার সুযোগ তৈরি করলে ‘সেঞ্চুরির’ মাইলফলক স্পর্শ করবেন তিনি। দুই নম্বরে থাকা দিয়েগো মারাদোনা সুযোগ তৈরি করেছেন ৭১ টি।
২৫
বিশ্বকাপে এবারের আসরে মেসি ২৫টি সুযোগ তৈরি করেছেন। শেষ ৬০ বছরে বিশ্বকাপের যে কোনো আসরে সবচেয়ে বেশি ৩১ বার সুযোগ তৈরি করেছেন নেদারল্যান্ডসের ইয়োহান ক্রুইফ (১৯৭৪) ও পর্তুগালের আন্তনিও সিমোয়েশ (১৯৬৬)।
শেষ ৬০ বছরে আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের মধ্যে যে কোনো আসরে সবচেয়ে বেশি ৩০ বার সুযোগ তৈরি করেছেন দিয়েগো মারাদোনা।
৮.৩৫ কিলোমিটার
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মেসি ৮.৩৫ কিলোমিটার দূরত্ব কাভার করেছেন। এবারের আসরে অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়নি, এমন ম্যাচের মধ্যে এটাই তার সবচেয়ে বেশি দূরত্ব কাভার করার ঘটনা।
৩৯ বছর ২১ দিন
সবচেয়ে বয়স্ক আউটফিল্ড ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে খেলেছেন লিওনেল মেসি (৩৯ বছর ২১ দিন)। তৃতীয় সবচেয়ে বয়সী হিসেবে খেলেছেন বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে। সবার উপরে আছেন পিটার শিলটন ( ১৯৯০; ৪০ বছর ২৮৯ দিন) ও দিনো জফ (১৯৮২; ৪০ বছর ১৩০ দিন)।
৩
ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি কাফুর পর দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে মেসি।
২
বিশ্বকাপে প্রথম আর্জেন্টাইন ফুটবলার হিসেবে মেসির কাছ থেকে দুটি অ্যাসিস্ট পেয়েছেন এন্সো ফের্নান্দেস। আর্জেন্টিনা অধিনায়কের আগের ১০ অ্যাসিস্ট ছিল ভিন্ন ১০ খেলোয়াড়কে।
১
বিশ্বকাপে লাউতারো মার্তিনেসকে প্রথমবার কোনো অ্যাসিস্ট করলেন মেসি। তবে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তাকে করা দশম অ্যাসিস্ট এটি। আর্জেন্টাইন সতীর্থদের মধ্যে তাকেই সবচেয়ে বেশিবার অ্যাসিস্ট করেছেন মেসি।
১
বিশ্বকাপের যে কোনো এক আসরে বদলি নেমে একাধিক গোল করা প্রথম আর্জেন্টাইন ফুটবলার লাউতারো মার্তিনেস।
৪
বিশ্বকাপের এবারের আসরের নকআউট পর্বে যোগ করা সময়ে চারবার বদলি ফুটবলারের পা থেকে এসেছে ম্যাচজয়ী গোল (শুধুমাত্র ৯০ মিনিটে শেষ হওয়া ম্যাচ)। ১৯৭০ বিশ্বকাপে বদলি নিয়ম চালুর পর সবগুলো আসর মিলিয়ে হয়েছিল ৩ গোল।
৫
সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচ পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পেল আর্জেন্টিনা। এর আগে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে ইংলিশদের বিপক্ষে সবশেষ জয় পেয়েছিল তারা।
৩/৪
বিশ্বকাপে চারবার সেমি-ফাইনালে খেলে তিনবারই ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ ইংল্যান্ড। শুধুমাত্র ১৯৯৬ সালে সেমি-ফাইনালের বাধা পেরিয়েছিল, সেবার ঘরের মাঠে হওয়া বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিল তারা।
৫
শেষ ৬০ বছরে বিশ্বকাপের যে কোনো ম্যাচে সবচেয়ে কম ৫ শট নিয়েছে ইংল্যান্ড।
১২%
৫৫ মিনিটে ইংল্যান্ডের অ্যান্থনি গর্ডনের গোলের পর থেকে ৯০+২ মিনিটে আর্জেন্টিনার লাউতারো মার্তিনেসের গোল হওয়া পর্যন্ত, ইংল্যান্ডের বলের দখল ছিল ১২ শতাংশ সময়। এবারের আসরের যে কোনো ম্যাচে এই একই সময়সীমায় সবচেয়ে কম বল দখলে রেখেছিল কাতার। কানাডার বিপক্ষে ৬-০ গোলে হারের ম্যাচে এই সময়ে ৯ জনের দলে পরিণত হওয়া কাতারের বলের দখল ছিল ১১ শতাংশ।
১২১
ওয়েইন রুনিকে টপকে ইংল্যান্ডের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা আউটফিল্ড ফুটবলার হলেন হ্যারি কেইন। ইংলিশদের হয়ে সবচেয়ে বেশি ১২৫ ম্যাচ খেলেছেন পিটার শিলটন।