Published : 07 May 2026, 04:54 PM
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন আলোচনা চলছে বলে যেসব খবর এসেছে তাকে ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ।
ইরানে ‘আগ্রাসন’ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে যা বলছে, তাকে কড়া ভাষায় বিদ্রুপও করেছেন তিনি, বলেছে ইরানি গণমাধ্যম তাসনিম।
এ নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের দেওয়া খবরের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এক্সে কলিবফ লেখেন, “অপারেশন ট্রাস্ট মি ব্রো ব্যর্থ হয়েছে। এখন আগের রুটিনে চলছে অপারেশন ফোসিওস।”
তিনি মূলক ফরাসী শব্দ ফো (যার অর্থ মিথ্যা) এবং অ্যাক্সিওস-কে একত্রিত করে এই ফোসিওস শব্দটি লেখেন; যার মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছেন—মার্কিন এ গণমাধ্যমটি হোয়াইট হাউসের হয়ে মিথ্যা সংবাদ ছড়ায়।
যে খবরটি নিয়ে কলিবফের এ মন্তব্য, সেখানে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জারেড কুশনারের সঙ্গে ইরানি কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ আলোচনায় যুদ্ধ বন্ধে একটি ‘এক পৃষ্ঠার সমঝোতা স্মারক’ প্রায় চূড়ান্ত হওয়ার কাছাকাছি রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছিল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর তেহরানও ইসরায়েল এবং পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানান সামরিক, বেসামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলায় নামে।
যুদ্ধের শুরুতেই মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের তখনকার সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন, এর প্রতিক্রিয়ায় লেবাননের হিজবুল্লাহও যুদ্ধে যোগ দেয়, যা যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত করে।
এদিকে যুদ্ধের প্রথমদিকেই তেহরান হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি তার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিলে পশ্চিম এশিয়া থেকে তেল-গ্যাস রপ্তানি ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হওয়া শুরু হয়। হরমুজ এখনও কার্যত ইরানেরই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, এর পাল্টায় পরে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করে।
টানা ৪০ দিনের যুদ্ধের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরান যুদ্ধবিরতিতে রাজি হলেও হরমুজকে ঘিরে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবরোধ এখনও বহাল রয়েছে। এ কারণে যুদ্ধের শুরু থেকে তেলের দামে যে অস্থিরতা তা কাটেনি, যার প্রভাব সারা বিশ্বের প্রায় সবার অর্থনীতির ওপর পড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা ইরানের সঙ্গে নানাভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার তারা হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের পাহারায় চালু করা ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ অভিযান স্থগিতও করে। ইরান চুক্তি চূড়ান্ত করে তাতে স্বাক্ষর করে কিনা তা দেখতে এ বিরতি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
এদিকে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা অস্বীকার করে আসছে। তারা বলছে, যুক্তরাষ্ট্র যতক্ষণ পর্যন্ত ইরানি বন্দর ও নৌযানের ওপর অবরোধ প্রত্যাহার না করছে, ততক্ষণ তারা আলোচনায় ফিরবে না।