Published : 15 Jun 2026, 05:32 PM
ইউক্রেইনজুড়ে রাতভর রাশিয়ার বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত নয়জন নিহত হয়েছে। এই হামলার ফলে এক লাখ ৪০ হাজার বাড়ি বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে এবং রাজধানী কিইভের ঐতিহাসিক ডরমিশন গির্জা অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সোমবার ইউক্রেইনের কর্মকর্তারা বলেছেন, কিইভসহ অনেকগুলো শহরে হামলা চালানো হয়েছে আর কয়েক মাসের মধ্যে এটি রাজধানীর সাংস্কৃতিক ও বেসামরিক অবকাঠামোতে হওয়া অন্যতম সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক বোমাবর্ষণ।
আল জাজিরা জানিয়েছে, হামলা চলাকালে সোমবার ভোররাতে ১১ শতাব্দীতে নির্মিত ডরমিশন ক্যাথেড্রালে আগুন লাগে, এটি ইউক্রেইনের অর্থোডক্সির আধ্যাত্মিক প্রাণকেন্দ্র। জরুরি বিভাগের কর্মীরা দ্রুত এ আগুন নেভাতে কাজে নেমে পড়ে।
ইউক্রেনের বৃহত্তম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক জাদুঘর কমপ্লেক্স কিয়েভ-পেচেরস্ক লাভরা ন্যাশনাল প্রিজার্ভ এর পরিচালক মাকসিম ওস্তাপেনকো ইউক্রেইনের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম সুস্পিলনেকে জানান, রাশিয়ার একটি কামাকাজি (আত্মঘাতী) ড্রোন ক্যাথেড্রালের ছাদে সরাসরি আঘাত হানে, এতে প্রায় ৮০০ বর্গমিটার এলাকাজেুড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
গির্জার মঠের সন্ন্যাসী ও উদ্ধার কর্মীরা মানব শিকল গড়ে তুলে ভেতর থেকে অমূল্য সব স্মারক ও আইকন সরিয়ে নেন। পরে দমকল কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
ইউক্রেইনের সংস্কৃত মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ হামলায় নিকটবর্তী অলেক্সান্দ্র দভজেন্কো ন্যাশনাল ফিল্ম স্টুডিওজও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলায় এর সংগ্রহশালার প্রধান পোশাক ভান্ডার ধ্বংস হয় আর এক লাখ পোশাকের এক অমূল্য সংগ্রহ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

স্থানীয় একটি নিউজ চ্যানেল জানিয়েছে, শুধু কিইভ লক্ষ্য করে কয়েক ডজন শাহেদ কামাকাজি ড্রোন ও অন্তত ১৫টি অত্যন্ত উচ্চ-গতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়।
কিইভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর কাচেনকো রয়টার্সকে জানিয়েছেন, রাতভর এ হামলায় রাজধানীতে চারজন নিহত ও আরও ৩৪ জন আহত হয়েছে। কিইভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানিয়েছেন, এ হামলায় আহত আরেকজন হাসপাতালে মারা গেছে।
উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ শহরে ‘ডাবল-ট্যাপ’ হামলায় রাষ্ট্রীয় জরুরি বিভাগের চার সদস্য নিহত হয়েছে বলে ইউক্রেইনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন।
প্রথম এক ড্রোন হামলার পর শুরু হওয়া আগুন নেভাতে জরুরি বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে দ্বিতীয় আরেকটি ড্রোন হামলা চালানো হয়। দ্বিতীয় এই হামলায় পাঁচজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি আরও পাঁচজন আহত হয়।