হামাসকে অবশ্যই নির্মূল করতে হবে: বাইডেন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ইরানের প্রতি তার বার্তা হচ্ছে এই সংঘাতকে আর না বাড়ানো।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 16 Oct 2023, 07:04 AM
Updated : 16 Oct 2023, 07:04 AM

ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসকে অবশ্যই নির্মূল করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, তবে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের জন্য একটি পথও থাকা উচিত বলে তিনি বিশ্বাস করেন বলে জানিয়েছেন। 

রোববার সম্প্রচারিত সিবিএস নিউজের ‘সিক্সটি মিনিটস’ সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেছেন, জানিয়েছে রয়টার্স।

বাইডেন মনে করেন, ইসরায়েলের উত্তর সীমান্তে লেবাননের সঙ্গে বাড়তে থাকা সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দু’টি বিমানবাহী রণতরী বহর ভূমধ্যসাগরের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলের দিকে রওনা হলেও   ইসরায়েলের অন্যতম ‘সেরা লড়াকু বাহিনী’ থাকায় মার্কিন সেনাদের স্থলে নামার প্রয়োজন হবে না। 

নয় দিন আগে হামাসের যোদ্ধারা ইসরায়েলে নজিরবিহীন আক্রমণ চালিয়ে প্রায় ১৪০০ ইসরায়েলিকে হত্যা করে। এর জবাবে হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজা ভূখণ্ডে ভয়াবহ বোমা হামলা শুরু করে ইসরায়েল। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ২৭০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে বলে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।    

সাক্ষাৎকারে বাইডেনকে জিজ্ঞেস করা হয়, হামাসকে পুরোপুরি নির্মূল করতে হবে এটি তিনি বিশ্বাস করেন কি না; জবাবে বাইডেন বলেন, “হ্যাঁ, আমি বিশ্বাস করি। কিন্তু একটি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষও থাকা দরকার। একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের জন্য পথ থাকাও দরকার।” 

ইসরায়েলের গাজা দখল করা ভুল হবে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, কিন্তু হামাস ও হিজবুল্লাহকে ‘ধ্বংস করা দরকার’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

তিনি বলেন, “ফের গাজা দখল করা ইসরায়েলের জন্য ভুল হবে।”   

১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে ইসরায়েল ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর, গাজা ও পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নেয়। দেশটি ২০০৫ সালে গাজা ভূখণ্ড থেকে তাদের সেনা ও ইহুদী বসতি স্থাপনকারীদের সরিয়ে নেয়। দুই বছর পর ২০০৭ সালে হামাস গাজার নিয়ন্ত্রণ নিলে ইসরায়েল ভূখণ্ডটি অবরোধ করে। তারপর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েই চলছে। 

রোববার বাইডেনের সাক্ষাৎকার সম্প্রচারের আগে সিবিএসকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেইক সালিভান বলেন, “এই সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে উত্তরে লড়াইয়ের আরেকটি ক্ষেত্র উন্মুক্ত হতে পারে এবং অবশ্যই ইরানের জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আছে।”  

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমানবাহী রণতরী বহরগুলোতে যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান আছে আর আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়া থামাতে প্রয়োজনীয় প্রত্যেকটি পদক্ষেপই নেওয়া হবে। 

বাইডেন বলেছেন, ইরানের প্রতি তার বার্তা হচ্ছে এই সংঘাতকে আর না বাড়ানো।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমিরাব্দুল্লাহ রোববার সতর্ক করে আল জাজিরাকে বলেছেন, তার দেশ পদক্ষেপ নিতে পারে।

তিনি জানান, তারা ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো এক বার্তায় বলেছেন যে ‘তারা যদি গাজায় নৃশংসতা চালানো বন্ধ না করে তাহলে ইরান শুধু পর্যবেক্ষক হয়ে থাকতে পারবে না’। 

“যুদ্ধ যদি ছড়িয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রেরও উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হবে,” সতর্ক করে বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। 

আরও পড়ুন:

Also Read: উত্তেজনা ছড়াবে পুরো অঞ্চলে, ইসরায়েলকে সতর্ক করল ইরান