Published : 18 Jan 2026, 10:19 AM
যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রিনল্যান্ড কেনার অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত ইউরোপের মিত্রদের ওপর ক্রমবর্ধমান হারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, তবে এতে ‘পরিস্থিতির বিপজ্জনক অবনতি’ হবে বলে সতর্ক করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারা।
শনিবার এক্স এ এক পোস্টে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন ও ইইউ কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা বলেন, “শুল্ক ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ককে অবমূল্যায়ন করবে এবং পরিস্থিতির বিপজ্জনক অবনতির ঝুঁকি তৈরি করবে। ইউরোপ তার সার্বভৌমত্ব ধরে রাখতে ঐক্যবদ্ধ, সমন্বিত ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।”
ইইউয়ের শীর্ষ কূটনীতিক কায়া কাল্লাস বলেছেন, শুল্ক আটলান্টিকের উভয়পাশের সমৃদ্ধির ক্ষতির পাশাপাশি ইউক্রেইনে রাশিয়ার যুদ্ধ শেষ করার ‘মূল কাজ’ থেকে ইউরোপের মনোযোগ সরিয়ে দেবে।
এক্স এ কাল্লাস বলেছেন, “চীন ও রাশিয়া সুযোগের সদ্ব্যবহার করে অতিরিক্ত সুবিধা ভোগ করবে। মিত্রদের মধ্যে বিভাজনের ফলে তারাই লাভবান হবে।
“শুল্ক ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রকে আরও দরিদ্র করে তোলার ঝুঁকি তৈরি করবে আর আমাদের সমৃদ্ধির অংশীদারিত্ব ক্ষুণ্ণ করবে। যদি গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকে, আমরা নেটোর ভেতর থেকেই এটির মোকাবেলা করতে পারি।”
ইইউয়ের ২৭ দেশের রাষ্ট্রদূতরা যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক হুমকির প্রতি তাদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করার জন্য রোববার এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন।
শনিবার ট্রুথ সোশালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ফিনল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে।”
ট্রাম্প লেখেন, এসব শুল্ক ১ জুন থেকে বেড়ে ২৫ শতাংশে পৌঁছাবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড কেনা নিয়ে কোনো চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে।
ট্রাম্প বারবার বলেছেন, কৌশলগত অবস্থান ও বিপুল খনিজ সম্পদের কারণে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন:
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে বিরোধিতা: ইউরোপের ৮ দেশে শুল্ক আরোপ ট্রাম্পের
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে সংকটে ইউরোপ: যুক্তরাষ্ট্রকে চাই, আবার বিরোধিতাও