Published : 21 Mar 2026, 10:03 AM
তেলের মূল্যের লাগাম টেনে ধরতে সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে সাগরে ইরানি তেল বিক্রির ওপর ৩০ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে ট্রাম্প প্রসাশন।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধের কারণে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বেড়ে চলেছে, পরিস্থিতি মোকাবেলায় অবশেষে শুক্রবার এ পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হল মার্কিন প্রশাসন।
সামাজিক মাধ্যম এক্স এ এক পোস্টে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেস্যান্ট বলেছেন, নিষেধাজ্ঞার এই ছাড়ে প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল তেল বিশ্ব বাজারে আসবে আর তা জ্বালানি সরবরাহের ওপর তৈরি হওয়া চাপ কমাতে সাহায্য করবে।
শুক্রবার বাজারে লেনদেনের সময় শেষ হওয়ার পর মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের ওয়েবসাইটে পোস্ট করা ছাড়পত্রে বলা হয়, এই ছাড়ের অধীনে প্রয়োজন অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে ইরানি তেল আমদানি করা যাবে।
রয়টার্স লিখেছে, ইরানে তিন সপ্তাহ ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার কারণে তেলের মূল্য বেড়ে গেছে, এতে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা ও ক্রেতারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন সম্ভাবনায় হোয়াইট হাউজ উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে, এ পদক্ষেপে তারই প্রতিফলন ঘটেছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনেও মার্কিন কংগ্রেসে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে চান প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সহকর্মী রিপাবলিকানরা।
ইরান যুদ্ধ চলাকালে নিষেধাজ্ঞায় তৃতীয় ছাড়
১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লব হওয়ার পর দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ওয়াশিংটন। তারপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র সে অর্থে আর ইরানি তেল আমদানি করেনি। নিষেধাজ্ঞায় এই ছাড়ের কারণে শেষ পর্যন্ত ইরানি তেল যুক্তরাষ্ট্রে যাবে কি না, তা পরিষ্কার হয়নি।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের এ ছাড়পত্র ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তবে এতে কিউবা, উত্তর কোরিয়া ও ক্রাইমিয়া অঞ্চলকে এর আওতা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপে ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা চীন লাভবান হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেছেন, তিন থেকে চারদিনের মধ্যে এশিয়ায় অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ প্রবেশ করতে পারে আর দেড় মাসের মধ্যে পরিশোধিত হয়ে বাজারে আসতে পারে।
এই নিয়ে দুই সপ্তাহেরও কিছু বেশি সময়ের মধ্যে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষদের তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় তৃতীয়বারের মতো সাময়িক ছাড় দিল। যুক্তরাষ্ট্র এর আগে রাশিয়ার তেলে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছিল। ট্রাম্প প্রশাসন বুধবার দেশটির জোন্স অ্যাক্ট শিপিং আইনের ক্ষেত্রে ৬০ দিনের এক ছাড়ারে ঘোষণা দেয়, এতে অন্য দেশের পতাকাবাহী জাহাজগুলো মার্কিন বন্দরগুলোর মধ্যে জ্বালানি, সার ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনের অনুমতি পায়।
সর্বশেষ শুক্রবার ইরানি তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় সাময়িক ছাড় দিল মার্কিন প্রশাসন। তাদের প্রকাশ করা সাধারণ ছাড়পত্রে শুক্রবারের মধ্যে জাহাজে লোড করা ইরানি অপরিশোধিত তেল ও পেট্রলিয়াম পণ্য সাগর থেকে বিক্রয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
ইরান যুদ্ধের কারণে ২০২২ সালের পর বিশ্ব বাজারে প্রথমবারের মতো তেলের মূল্য ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। জ্বালানির মূল্য নাগালের মধ্যে রাখতেই মার্কিন প্রশাসন এসব পদক্ষেপ নিয়েছে।
তবে মার্কিন অর্থমন্ত্রী বেস্যান্ট জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপ নেওয়া হলেও এর মধ্য দিয়ে ইরানের পক্ষে রাজস্ব আয় করা সহজ হবে না, কারণ ওয়াশিংটন ইরানের ওপর ও আন্তর্জাতিক অর্থ ব্যবস্থায় দেশটির প্রবেশের সামর্থ্য সীমিত রাখতে সর্বোচ্চ চাপ বজায় রাখবে।