Published : 08 Jun 2026, 11:25 PM
লোহিত সাগর দিয়ে পার হওয়ার চেষ্টা করা ইসরায়েলি জাহাজগুলোর ওই পথে চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী।
ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে আবার ওই সমুদ্রপথে হামলার নিশানা করা হবে বলে জানিয়েছে গোষ্ঠীটি। সুয়েজ খাল অভিমুখী লোহিত সাগর জাহাজ চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। হুতিদের এই ঘোষণায় সেখানে জাহাজ চলাচলে নতুন করে বিঘ্নের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিরা এর আগে ইসরায়েলের সঙ্গে গাজায় ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী গোষ্ঠী হামাসের লড়াই চলাকালে লোহিত সাগরে ইসরায়েলিসহ অন্যান্য পণ্যবাহী জাহাজেও হামলা চালিয়েছিল। এতে সেখানে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়।
আর এখন তারা আবার লোহিত সাগরে নৌ অবরোধের এই হুমকি দিল। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জাহাজ চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি বহুদিন থেকেই অবরুদ্ধ হয়ে আছে।
এর মধ্যেই গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি হামলার কয়েকঘণ্টা পরই ইয়েমেনের হুতিরা লোহিত সাগরে শত্রুদেশ ইসরায়েলের জাহাজ চলাচল আটকে দেওয়ার ওই ঘোষণা দিয়েছে।
ইয়েমেনের হুতি সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি বলেছেন, “আমরা উত্তেজনা বৃদ্ধির জবাব উত্তেজনা বাড়িয়েই দেব। লড়াই বাড়তে থাকার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সামরিক অভিযানও বাড়বে এবং সেটি হবে আমাদের জিহাদ ও প্রতিরোধের অক্ষের সঙ্গে মিলিয়ে একযোগে।”
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আমরা লোহিত সাগরের জলপথে ইসরায়েলের নৌ চলাচল সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করছি। এ পথে শত্রু নৌযানের কোনওরকম গতিবিধি দেখা গেলেই আমরা সেগুলোকে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসাবে গণ্য করব। এই বিবৃতি প্রকাশের পর থেকেই সেটি করা হবে।”
হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি লোহিত সাগর হয়ে সুয়েজ খাল পাড়ি দিয়ে এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্য পরিবহন করা হয়। হুতিদের নিষেধাজ্ঞার কারণে ওই অঞ্চলের প্রধান এই বাণিজ্য পথে নতুন করে অচলাবস্থা দেখা দেওয়া এবং বিশ্বব্যাপী পণ্য সরবরাহ শৃঙ্খল বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হুতিরা এই নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পাশাপাশি ইসরায়েলের উপকূলীয় শহর জাফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোরও দাবি করেছে। ইরান, ফিলিস্তিন, লেবানন, ইরাক এবং ইয়েমেনে ইসরায়েলের হামলার জবাবে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।