Published : 14 Jul 2025, 05:13 PM
দক্ষিণ কোরিয়া বোয়িং জেট ব্যবহার করা সব এয়ারলাইনকে ওই বিমানগুলোর জ্বালানি সুইচ পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জুনে হওয়া প্রাণঘাতী এয়ার ইনডিয়া দুর্ঘটনার তদন্তে জ্বালানি সুইচের প্রসঙ্গ উঠে আসার পর তারা এ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ভারতের গুজরাটে এয়ার ইনডিয়ার ওই বোয়িং ড্রিমলাইনার ৭৮৭-৮ উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় ২৭৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
এই দুর্ঘটনা নিয়ে প্রাথমিক প্রতিবেদনে ২০১৮ সালে মার্কিন কেন্দ্রীয় বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (এফএএ) দেওয়া নির্দেশনার কথা উল্লেখ করার পর জ্বালানি সুইচের লকগুলোর দিকেই সবার দৃষ্টি গিয়ে পড়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, তারা ২০১৮ সালের এফএএ-র নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে বলা হবে, তবে কতদিনের মধ্যে এই পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করতে হবে তার কোনো সময়সীমা বলেননি তিনি।
এ নিয়ে রয়টার্স বোয়িংকে কিছু প্রশ্ন করলে উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি সেসবের উত্তর এফএএ-র কাছ থেকে নিতে বলেছে। দিনের নির্ধারিত সময়ের বাইরে প্রশ্ন করায় তাৎক্ষণিকভাবে এফএএ-র কাছ থেকেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
গুজরাটে দুর্ঘটনায় পড়া এয়ার ইনডিয়ার বোয়িংটির জ্বালানি সুইচগুলো উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরেই ‘রান’ (চালু) অবস্থান থেকে ‘কাটঅফ’ (বন্ধ) অবস্থানে চলে যায়। চলন্ত অবস্থায় কী করে ওই সুইচগুলো অবস্থান বদলাল প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে সে সম্বন্ধে কিছু বলা হয়নি।
‘কাটঅফ’ অবস্থানে যাওয়ার অর্থ হল- উভয় ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া। সাধারণত উড়োজাহাজ অবতরণ করার পর জ্বালানি সুইচ ‘কাটঅফ’ অবস্থানে নামিয়ে দেওয়া হয়।
২০১৮ সালে এফএএ-র নির্দেশনায় ৭৮৭সহ বোয়িংয়ের বেশ কয়েকটি মডেল ব্যবহারকারীদের জ্বালানি ‘কাটঅফ’ সুইচের লকিং ব্যবস্থাপনা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয়, যেন সেগুলো ভুলবশত সরানো না যায়।
এফএএ-র এই পরামর্শ বাধ্যতামূলক ছিল না।
একটি নথি ও একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে রোববার রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানায়, নির্দেশনা থাকলেও উড়োজাহাজ নির্মাতা কোম্পানি বোয়িং ও এফএএ গোপনে বিভিন্ন এয়ারলাইন্স ও নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোকে জানিয়েছিল যে, বোয়িংয়ের জ্বালানি সুইচের লকগুলো নিরাপদ এবং এগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার দরকার নেই।
এয়ার ইনডিয়ার প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাধ্যতামূলক না হওয়ায় তারা এফএএ-র ২০১৮ সালের ওই পরামর্শ মেনে জ্বালানি সুইচের লক পরীক্ষা করে দেখেনি।
কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের নথি বলছে, দুর্ঘটনায় পড়া উড়োজাহাজটির থ্রটল কন্ট্রোল মডিউল ২০১৯ ও ২০২৩ সালে দুইবার বদলানো হয়েছিল। এই থ্রটল কন্ট্রোল মডিউলেই জ্বালানি সুইচগুলো থাকে।
সোমবার এক অভ্যন্তরীণ নথিতে এয়ার ইনডিয়ার প্রধান নির্বাহী ক্যাম্পবেল উইলসন বলেছেন, দুর্ঘটনার তদন্ত শেষ হতে এখনও অনেক বাকি এবং প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর এখনই তড়িঘড়ি কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।
এয়ার ইন্ডিয়ার উড়োজাহাজ দুর্ঘটনা: ককপিটের অডিওতে কেন রহস্য আরও গভীর হয়েছে