Published : 06 Jan 2026, 11:49 AM
ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুলাওয়েসিতে হড়কা বানের তোড়ে ভেসে গিয়ে অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও চারজন নিখোঁজ রয়েছেন।
সোমবার স্থানীয় সময় সকালে ভারি বৃষ্টির মধ্যে সিয়াউ দ্বীপে আকস্মিক বন্যার এ ঘটনাটি ঘটে বলে এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন।
স্থানীয় সিয়াউ তাগুলানডাং বিয়ারো অঞ্চলের উদ্ধারকারী সংস্থার মুখপাত্র নুরিয়াদিন গুমেলেং মঙ্গলবার জানান, নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তাদের খোঁজে ১৬ জন উদ্ধারকারী নিয়োগ করা হয়েছে।
হড়কা বানের এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, “আমরা স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রেখেছি যদি ঘটনাক্রমে আরও কেউ নিখোঁজ থাকেন।”
গুমেলেং জানান, দুর্গত এলাকাগুলোর প্রধান সড়কগুলো এখনও পাথর, আবর্জনা ও ঘন কাদায় ঢাকা পড়ে আছে।
ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার মুখপাত্র আব্দুল মুহারি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, হড়কা বানের পর ওই এলাকাগুলোর অন্তত ৪৪৪ জনকে সরিয়ে স্থানীয় স্কুল ও গির্জাগুলোতে রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, কাদা ও আবর্জানার কারণ বন্ধ হয়ে থাকা রাস্তা পরিষ্কার করতে কর্তৃপক্ষ কয়েকটি এক্সকেভেটর নিয়োগ করেছে।
উত্তর সুলাওয়েসির গভর্নর ইউলিউস সেলভানাস জানান, আকস্মিক এ বন্যা কয়েকশ বাড়ি ও সরকারি ভবন ধ্বংস করে দিয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসিতে এখন বর্ষাকাল চলছে। এই ঘোর বর্ষাকালেই সেখানে হড়কা বানের মতো ঘটনাগুলো ঘটে।
দেশটির আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, এ বছর জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে জাভা, সুলাওয়েসি, মালুকু এবং পাপুয়ায় বর্ষা সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকবে আর তা আরও বন্যার ঝুঁকি বয়ে নিয়ে আসবে।
সুমাত্রা ও বোর্নিওর মতো ইন্দোনেশিয়ার অন্য অংশে গত বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়ে গেছে। নভেম্বরে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও ভূমিধসে সুমাত্রায় এক হাজার জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয় এবং এখনো কয়েকশ নিখোঁজ রয়েছেন।
পরিবেশবাদী গোষ্ঠীগুলো বলছে, খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানের জন্য বন ধ্বংস ও কাঠের জন্য গাছ উজারের কারণে এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ দিন দিন আরও তীব্র হয়ে উঠছে ও ক্ষয়ক্ষতি বেশি হচ্ছে।