Published : 24 May 2025, 10:47 PM
যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তিতে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার কারণে অন্য অনেক শিক্ষার্থীর মতোই বিপাকে পড়েছে বেলজিয়ামের রাজ পরিবারও।
অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বেলজিয়ামের ভবিষ্যৎ রানি রাজকুমারী এলিজাবেথের পড়াশুনা। ২৩ বছর বয়সী এলিজাবেথ কেবল হার্ভার্ডে মাস্টার্স ডিগ্রি প্রথম বছরের পড়া শেষ করেছেন।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের প্রশাসন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষমতা বাতিল করে। এতে বর্তমান বিদেশি শিক্ষার্থীরা হয় অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরিত হওয়া অথবা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধতার মর্যাদা হারানোর ঝুঁকিতে আছে।
যদিও ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে হার্ভার্ড মামলা করেছে এবং আপাতত আদালতের নিষেধাজ্ঞা আরোপ হয়েছে। তবে অন্যান্য কলেজগুলোতেও প্রশাসন একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা আছে। তাছাড়া, সামনে কি হতে চলেছে তা নিয়েও বিদেশি শিক্ষার্থীরা আছে অনিশ্চয়তার ঘেরাটোপে।
বেলজিয়ামের রাজপ্রাসাদের মুখপাত্র লোর ভ্যানডোর্ন ‘দ্য গার্ডিয়ান’ পত্রিকাকে বলেছেন, “প্রিন্সেস এলিজাবেথ কেবল তার প্রথম বছরের পড়া শেষ করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রভাব আগামী দিন বা সপ্তাহগুলোতে আরও স্পষ্ট হবে। আমরা বর্তমানে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা এ মুহূর্তে বিষয়টি বিশ্লেষণ করে দেখছি। পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করব। আগামী দিন ও সপ্তাহগুলোতে অনেক কিছুই ঘটতে পারে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, বেলজিয়ামের ভবিষ্যৎ রানি এলিজাবেথ হার্ভার্ডে জননীতি নিয়ে দুই বছরের মাস্টার্স প্রোগ্রামে পড়াশোনা করছেন। এই প্রোগ্রাম শিক্ষার্থীদের দৃষ্টিভঙ্গির প্রসার ঘটায় এবং জনসেবায় সফল কর্মজীবনের জন্য দক্ষতা বাড়ায়।
বেলজিয়ামের সিংহাসনের উত্তরাধিকারি এলিজাবেথ রাজা ফিলিপ ও রানি ম্যাথিলদের চার সন্তানের মধ্যে সবার বড়। হার্ভার্ডে পড়ার আগে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস ও রাজনীতিতে ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।
গত এপ্রিলেই ট্রাম্প প্রশাসন হার্ভার্ডের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসাধারী কয়েকজনের তথ্য চেয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, তা না দিলে বিশ্ববিদ্যালয়টি বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ হারাতে পারে।
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউজে ফেরার পর থেকেই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তার প্রশাসনের টানাপড়েন শুরু হয়। হার্ভার্ডের পাশাপাশি নিউ ইয়র্কের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ও ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগে ট্রাম্প প্রশাসনের নিশানায় পরিণত হয়েছে।