Published : 06 Jul 2026, 09:12 PM
শ্রীলঙ্কার একটি কারাগারে দুই দিনের ভয়াবহ দাঙ্গায় সাতজন রক্ষীসহ অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও শতাধিক।
দেশটির রাজধানী কলম্বো থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরের উপকূলীয় শহর নেগোম্বোর একটি কারাগারে রোববার সাজাপ্রাপ্ত ও আটক বন্দিদের মধ্যে এ সংঘর্ষ শুরু হয়।
সোমবারও সহিংসতা অব্যাহত থাকলে হতাহতের সংখ্যা বাড়তে থাকার খবর দিয়েছে বিবিসি।
বিবিসি বলছে, রোববার বন্দিরা কারাগারের আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেয়। সেদিনই দুইজন নিহত এবং আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হন। এরপর সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে, যা পরদিনও অব্যাহত থাকে।
দেশটির বিচার ও কারাগার বিষয়ক মন্ত্রী হর্ষনা নানায়াক্কারা পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।
পরে কারাবন্দি বেশ কয়েকজন পুরুষ এবং পাশের ইউনিটে অবস্থানরত নারীরা মুক্তির দাবিতে কারাগারের ছাদে উঠে পড়েন।
এরপর সোমবার বন্দিরা কারাগারের প্রধান ফটকের দিকে ধেয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং কারাগারের ভেতর থেকে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দও শোনা যায়।
কারা-অভ্যন্তরে একটি মাদক চোরাচালানের তথ্য ভেতরের এক বন্দি ফাঁস করে দেওয়ায় এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় বলে প্রতিবেদনে বলেছে বিবিসি।
আহতদের কয়েকজনকে নেগোম্বো হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এএফপির বরাতে বিবিসি বলেছে, আহতদের কারও শরীরে গুলির ক্ষত রয়েছে, আবার কেউ কেটে যাওয়ার ক্ষত ও মারাত্মক জখম নিয়ে এসেছেন। বাকিদের কলম্বো ন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
পুলিশের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দাঙ্গার সময় কারাগারের ছাদের একটি অংশ ধসে পড়ে। এসময় কয়েকজন নারী বন্দি আহত হন।
সোমবার পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করলে কারাগারের বাইরে বন্দিদের স্বজনদের বিশাল ভিড় জমে।
কয়েকজন স্বজন বিবিসি সিনহলাকে বলেন, তাদের স্বজনেরা কোথায় আছেন কিংবা বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো তথ্যই দেওয়া হচ্ছে না।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলেছে, কারাগারের ভেতরের এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশের অনুরোধে সেনাবাহিনীকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
কারা কমিশনারের মুখপাত্র এসি গাজানায়েকে বলেছেন, বন্দিদের অন্য কারাগারে স্থানান্তরের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বন্দিতে ঠাসা কারাগারগুলোতে মাঝেমধ্যেই দাঙ্গা লেগে থাকে, তবে রবি ও সোমবারের এই সহিংসতা বিগত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ।
এর আগে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে অন্য একটি কারাগারে দাঙ্গায় ১১ জন নিহত এবং ১১৭ জন আহত হয়েছিলেন।
গত রোববার পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার কারাগারগুলোতে মোট ৪১ হাজার ২৫০ জন বন্দি ছিলেন, যা ধারণক্ষমতার চেয়ে চারগুণ বেশি।