Published : 22 Oct 2025, 01:22 AM
যুক্তরাষ্ট্রে সেপ্টেম্বরে এইচ-১বি ভিসায় কড়াকড়ির পর উদ্বেগ বেড়েছে বিদেশি নাগরিকদের। দক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ১ লাখ ডলার নেওয়ার নিয়ম করেছে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সরকার।
কোন কোন ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে আর কারা ছাড় পাবেন সে বিষয়েই এবার বিস্তারিত তথ্য দিল ট্রাম্প প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব এবং অভিবাসন সংস্থা ‘ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস’ (ইউএসসিআইএস) এ বিষয়ে বিবৃতি প্রকাশ করেছে।
এতে জানানো হয়েছে, যে বিদেশিরা ইতোমধ্যেই কলেজ গ্র্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী বা কর্মরত হিসাবে এইচ-১বি বৈধ ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন, তাদেরকে এই ভিসার বিপুল পরিমাণ ফি দিতে হবে না।
সোমবার প্রকাশিত নির্দেশিকায় ইউএসসিআইএস খোলাসা করে বলেছে, যারা আগে থেকেই অন্য কোনও ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে বাস করছেন এবং সেদেশে থাকার মেয়াদ বৃদ্ধি বা সংশোধনের আবেদন করেছেন কিংবা যারা যুক্তরাষ্ট্রে বাসের মেয়াদ বাড়ানোর অনুমোদন পেয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের পর এইচ-১বি ভিসার আবেদন করা হলেও প্রতিষ্ঠানগুলোকে কোনও অর্থ দিতে হবে না।
বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এফ-১ ভিসা বা কোনও পেশাদারের জন্য এল-১ ভিসার ক্ষেত্রেও এই ছাড় থাকবে।
এইচ-১বি ভিসায় থাকা কোনও বিদেশি নাগরিক যদি যুক্তরাষ্ট্র থেকে চলে যাওয়ার পর আবার পূর্ব অনুমোদিত আবেদনের ভিত্তিতে ভিসার আবেদন করে তাদের ক্ষেত্রেও কোনও অর্থ দিতে হবে না।
২১ সেপ্টেম্বর রাত ১২টার আগে যেসব এইচ-১বি ভিসা দেওয়া হয়ে গেছে সেগুলোর জন্যও কোনও অর্থ দিতে হবে না বলে জানিয়েছে ইউএসসিআইএস।
তবে ২১ সেপ্টেম্বর রাত ১২টার পরে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে রয়েছেন, এমন কারও জন্য এইচ-১বি ভিসা চাইলে সেক্ষেত্রে ১ লাখ ডলার ফি দিতে হবে।
তাছাড়া, কোনও ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন খারিজ হয়ে থাকলে নিয়োগকর্তাকে ওই কর্মী নিয়োগের জন্য এক লাখ ডলার ফি দিতে হবে।
মূলত, দক্ষ বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ করতে যুক্তরাষ্ট্রের সংস্থাগুলিকে ওই কর্মীর জন্য এইচ-১বি ভিসার ব্যবস্থা করতে হয়। নতুন নিয়মানুসারে, বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে সংস্থাগুলিকে এক লাখ ডলার ফি দিতে হবে ট্রাম্প সরকারকে।
ট্রাম্প প্রশাসন গত ২০ সেপ্টেম্বরে ভিসা সংক্রান্ত নতুন এ নীতিমালা ঘোষণা করে। তখন বলা হয়েছিল, এটি কেবল নতুন ভিসা আবেদনকারীদের জন্যই প্রযোজ্য হবে। তবে যারা ২১ সেপ্টেম্বরের আগে ভিসার জন্য আবেদন করেছেন, তাদের ছাড় রয়েছে।
কিন্তু ঘোষণাটি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে গেলে এই বিরাট অঙ্কের ফি দিতে হবে কিনা, তা নিয়ে বিভ্রান্তি ছিল দেশটিতে থাকা বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে। তবে সোমবার প্রকাশিত ইউএসসিআইএস এর বিবৃতিতে সেই ধোঁয়াশা কেটেছে।
সূত্র: এনডিটিভি।