Published : 26 Feb 2026, 09:36 PM
যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াত কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন ফাইলস প্রকাশ্যে আসার পরে বিতর্কের মুখে পড়ে ক্ষমা চাইলেন মাইক্রোসফ্টের সহ‑প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস।
দাতব্য সংস্থা গেটস ফাউন্ডেশনের কর্মীদের কাছে এক বৈঠকে তিনি এই ক্ষমা চেয়েছেন। গেটস বলেন, অতীতে জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ‘বড় ভুল’ করেছিলেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ এ খবর জানিয়েছে। খবরে বলা হয়, ফাউন্ডেশনের ওই বৈঠকে এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার ক্ষেত্রে গেটস ‘দায় নিজের কাঁধে নিয়েছেন’ এবং কর্মীদের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।
তিনি বলেন, এপস্টেইনের সঙ্গে সময় কাটানো এবং ফাউন্ডেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরকে তার সঙ্গে বৈঠক করানো ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।
গেটস বলেন, “আমি যে ভুল করেছি, আমার এই ভুলের কারণে অন্য যারা এতে জড়িয়ে পড়েছেন, তাদের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি।”
এপস্টেইন ফাইল নিয়ে বিতর্ক নতুন করে শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশিত নথি এবং ছবি সামনে আসার পর।
সেই নথিতে গেটসের সঙ্গে এপস্টেইনের একাধিক বৈঠকের উল্লেখ রয়েছে। কিছু ছবিতে গেটসকে এমন কিছু নারীর সঙ্গেও দেখা যায়, যাদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।
গেটস জানান, এপস্টেইন পরে দুই রুশ নারীর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কর বিষয়টি জানতে পেরেছিলেন। তবে গেটস স্পষ্ট করে জানান, ওই সম্পর্কর সঙ্গে এপস্টেইনের অপরাধ বা তার ভুক্তভোগীদের কোনও যোগ নেই।
তিনি কর্মীদের বলেন, “আমি কোনও বেআইনি কাজ করিনি। আমি কোনও বেআইনি কিছু দেখিনি। আমি কখনও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে সময় কাটাইনি।”
এপস্টেইন ফাইলে কিছু নারীর সঙ্গে তোলা ছবি পাওয়া যাওয়ার বিষয়ে গেটস ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, বৈঠকের পর এপস্টাইনের অনুরোধে তার সহকারীদের সঙ্গে ওই ছবিগুলো তুলেছিলেন তিনি।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১১ সালে জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে প্রথম দেখা করেন বিল গেটস। তখন অপ্রাপ্তবয়স্ক নারীদের যৌনকর্মে বাধ্য করার অভিযোগে এপস্টেইন ইতোমধ্যেই অপরাধী সাব্যস্ত হয়েছিলেন।
বিল গেটস আরও জানান, ২০১৪ সাল পর্যন্ত তাদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল এবং তারা দেশের বাইরেও দেখা করেছেন। তবে গেটস জোর দিয়ে বলেন, তিনি কখনও এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপে যাননি এবং তার বাড়িতে রাত কাটাননি।
গেটস এর তৎকালীন স্ত্রী মেলিন্ডা এই সম্পর্কের বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলেও গেটস যোগাযোগ চালিয়ে গিয়েছিলেন। সে কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, “এপস্টেইনের বিষয়ে মেলিন্ডা শুরু থেকেই সন্দিহান ছিল। এজন্য তাকে কৃতিত্ব দিতে হয়।”
২০২১ সালে মেলিন্ডার সঙ্গে গেটসের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার কারণ হিসেবে গেটস জানান, এপস্টেইন নিজেকে প্রভাবশালী ধনকুবেরদের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে নিজের পরিচয় দিতেন।
এপস্টেইন দাবি করতেন, বিল গেটসের দাতব্য কাজের জন্য বড় অংকের তহবিল সংগ্রহ করে দিতে তিনি সহায়তা করতে পারবেন।
গেটস ফাউন্ডেশন এক বিবৃতিতে বলেছে, “এপস্টেইন বড় অংকের দাতব্য তহবিল সংগ্রহ করে দিতে পারেন বলায় ফাউন্ডেশনের কয়েকজন কর্মী তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।
“তবে শেষ পর্যন্ত তার সঙ্গে কোনও ধরনের লেনদেন হয়নি বা কোনও তহবিলও নেওয়া হয়নি। এমনকি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এপস্টেইনকে কোনও অর্থ দেওয়া হয়নি কিংবা তাকে কখনও ফাউন্ডেশনের কাজও দেওয়া হয়নি।”