Published : 23 May 2026, 12:36 AM
ইউরোপের দেশ পোল্যান্ডে সেনা না পাঠানোর ঘোষণা দিয়েও পরে অতিরিক্ত ৫ হাজার সেনা পাঠানোর যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণায় বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার মধ্যে নেটা জোটভুক্ত মিত্রদেশগুলোকে নতুন করে আশ্বস্ত করার চেষ্টা নিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
শুক্রবার সুইডেনে নেটোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিয়ে তিনি মিত্রদের এ বিষয়ে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসাবে মার্কিন সেনা উপস্থিতির বিষয়টি অনবরতই পুনর্মূল্যায়ন করে চলেছে।
রুবিও বলেন, পোল্যান্ডে বাড়তি সেনা পাঠানোর অঙ্গীকারই দেখিয়ে দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বজায় রেখেছে, যা নিজেদের বাহিনী মোতায়েন করে পূরণ করা প্রয়োজন।
তবে সেনা মোতায়েনের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে দেখা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।
সম্প্রতি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প পোল্যান্ডে অতিরিক্ত পাঁচ হাজার মার্কিন সেনা পাঠানোর ঘোষণা দেন।
তবে এর মাত্র এক সপ্তাহ আগে পোল্যান্ডে চার হাজার মার্কিন সেনা পাঠানোর পূর্বঘোষিত পরিকল্পনা বাতিল করার কথা জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষাবিভাগ।
আর এই ঘোষণার আগে চলতি মাসের শুরুতে জার্মানি থেকে পাঁচ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণাও দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
এমন সব পরস্পরবিরোধী ঘোষণায় ট্রান্স-আটলান্টিক সামরিক জোট নেটো মিত্র দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
চলমান রাশিয়া-ইউক্রইন সংঘাতের মধ্যে নেটোর পূর্বাঞ্চলীয় দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তায় শূন্যতা সৃষ্টির আশঙ্কা উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
তাছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র আসলে ইউরোপে সেনা কমাতে চায় নাকি বাড়াতে চায় তা নিয়ে দেখা দেয় বিভ্রান্তি।
এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নতুন ঘোষণায় জানান, পোল্যান্ডে আরও পাঁচ হাজার সেনা মোতায়েন করা হবে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোকির সঙ্গে সুসম্পর্কের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত বছর পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় নাভরোকিকে সরাসরি সমর্থন দিয়েছিলেন ট্রাম্প।
তবে অতিরিক্ত এ সেনারা আগের বাতিল হওয়া পরিকল্পনার অংশ, নাকি ভিন্ন কোনও অভিযানের আওতায়, সে বিষয়ে ট্রাম্প বিস্তারিত কিছু জানাননি।
তাছাড়া, পোল্যান্ডে মোতায়েন হতে চলা এই সেনারা জার্মানি থেকে প্রত্যাহার করা সেনা নাকি ভিন্ন কোনও সেনাদল তাও স্পষ্ট নয়।
জার্মানিতে সবচেয়ে বেশি মার্কিন সেনা উপস্থিতি আছে। সেখানে সেনা সংখ্যা ৩৬ হাজারেরও বেশি। ইতালিতে মার্কিন সেনা সংখ্যা ১২ হাজার এবং যুক্তরাজ্যে ১০ হাজার। আর পোল্যান্ডে আছে আনুমানিক ১০ হাজার মার্কিন সেনা।
ট্রাম্প বরাবরই নেটোর সমালোচনা করে এসেছেন। এই জোটে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ইউরোপীয় মিত্রদেশগুলোর অর্থনৈতিক অবদান কম হওয়ার কারণে ট্রাম্প নেটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়ার হুমকিও দিয়েছেন।
এর ফলে বর্তমানে অনেক নেটো দেশই নেটো নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াতে একমত হয়েছে।
এর মধ্যে সম্প্রতি ইরান যুদ্ধে নেটো দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করতে অস্বীকৃতি জানানোয় ট্রাম্প আরেকদফায় ক্ষিপ্ত হয়েছেন মিত্রদেশগুলোর ওপর।
সম্প্রতি হোয়াইট হাউজ ‘আমেরিকা সর্বাগ্রে’ নীতির আওতায় ইউরোপে সামগ্রিকভাবে মার্কিন সেনা উপস্থিতি কমানোর অভিপ্রায়েরও ইঙ্গিত দয়েছে।
এর মধ্যেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পোল্যান্ডে অতিরিক্ত মার্কিন সেনা পাঠানোর সাম্প্রতিক ঘোষণা এবং ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক সামরিক উপস্থিতির বিষয়ে নেটো মিত্রদের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও বিভ্রান্তি নিরসনে কাজ করছেন।
তবে রুবিও এও স্পষ্ট করেন যে, ইরান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপে কিছু নেটো মিত্রদেশের দুর্বল সমর্থন এবং সহযোগিতা না করার কারণে ওয়াশিংটন ‘অত্যন্ত হতাশ’।
তিনি বলেন, নেটোকে কেবল ইউরোপের সুরক্ষার জন্য সীমাবদ্ধ না থেকে সব সদস্য দেশের জন্য উপকারী হতে হবে।
রুবিওর কথায়, “যে কোনও জোটের মতো, নেটোতেও যারা জড়িত তাদের সবার জন্য এই জোটকে ভাল হতে হবে। দেশগুলোর প্রত্যাশা কি সে বিষয়ে স্পষ্ট বোঝাপড়া থাকতে হবে।”