Published : 08 Sep 2025, 04:08 PM
পরাঘাতের সময় পর্বতগুলোতে ভূমিধস হয়ে পাথরের ঢল নেমে আসতে পারে, এমন শঙ্কায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া গ্রামে ফিরে যেতে চান না আফগানিস্তানের ভূমিকম্প দুর্গতরা। গ্রামে না ফিরে মাঠে ও নদীর তীরে শিবির স্থাপন করে থেকে যেতে চান তারা।
যদিও সেখানে বৃষ্টি থেকে বাঁচার মতো যথেষ্ট তাঁবু তাদের কাছে নেই, জানিয়েছে রয়টার্স।
আফগানিস্তানের কুনার প্রদেশের মাসুদ গ্রামে গত সপ্তাহের ভূমিকম্প ও পরবর্তী পরাঘাতে ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে কৃষক আদম খান (৬৭) বলেন, “আমাদের কোনো আশ্রয় নেই। এমনকী একটি তাঁবুও নেই।”

তিনি বলেন, “গত রাতে বৃষ্টি হয়েছিল। আড়াল নেওয়ার মতো কোনো জায়গা ছিল না আমাদের। আমাদের সবচেয়ে বড় ভয় হল, যে কোনো সময় বড় বড় পাথর নেমে আসতে পারে।”
৩১ অগাস্টের মধ্যরাত থেকে এ পর্যন্ত হওয়া দুটি ভূমিকম্পে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় কুনার ও নানগারহার প্রদেশে ২২০০ জনেরও বেশি নিহত এবং অন্তত ৩৬০০ জনের মতো আহত হয়েছেন। ভূমিকম্পে হাজার হাজার বাড়ি ধসে পড়ে। ভূমিকম্পের পর হওয়া পরাঘাতে নতুন করে ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এতে ওই অঞ্চলের পরিবারগুলো ভঙ্গুর পর্বত ও ফুলে ফেঁপে ওঠা নদীর মাঝখানে আটকা পড়েন।
দাতব্য সংস্থাগুলো দ্রুত হেলিকপ্টারযোগে খাবার ও অন্যান্য সরবরাহ পৌঁছে দিচ্ছে। কিন্তু দুর্গতদের অভিযোগ, সাহায্য পৌঁছতে দেরি হচ্ছে ও সেগুলো এলোমেলোভাবে দেওয়া হচ্ছে।
আফগানিস্তানের দারিদ্র ও অপর্যাপ্ত অবকাঠামোর কারণে অনেক গ্রাম নিকটবর্তী রাস্তা থেকে কয়েক ঘণ্টা দূরে অবস্থিত। আবার এসব গ্রামের অধিকাংশ বাড়ি কাদা ও পাথর দিয়ে তৈরি, ভূমিকম্প শুরু হলে এগুলো তাৎক্ষণিকভাবে ভেঙে পড়ে।
এলাকাজুড়ে অস্থায়ী শিবিরগুলোতে পরিবারগুলো জড়ো হচ্ছে। শাহীদান গ্রামের কৃষক শামসউর রহমান (৪০) জানান, তিনি তার ছয়জন আত্মীয়কে হারিয়েছেন আর পরিবারের নয় সদস্যকে নিয়ে পালিয়েছেন। এখন তারা একটি রাস্তার পাশে খোলা আকাশের নিচে বসে আছেন, পাশে তাদের অল্প কিছু মালপত্র রাখা।
রহমান বলেন, “তারা যে তাঁবু দিয়েছে সেটিতে আমাদের সন্তানদেরই জায়গা হয় না। পর্বতম থেকে নেমে আসার পথে, আমার ছেলের কোনো জুতা ছিল না, তাই নেমে আসার সময় আমার জুতাজোড়া ওকে দিয়েছি।”

কিছু মানুষের জন্য এই বাস্তুচ্যুতি স্থায়ী হয়ে যেতে পারে। প্রখর সূর্যের আলোর মধ্যে গুল আহমদ (৫১) তার আত্মীয়দের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। পরিবারের নারীরা কাছে দেয়ালের ছায়ায় উবু হয়ে বসেছিলেন।
আহমদ বলেন, “যদি কোনো ভূমিকম্প নাও হয়, শুধু বৃষ্টিপাতের কারণেই পাথর ধসে আমাদের ওপর পড়তে পারে। আমরা আর ফিরে যাবো না। সরকারকে আমাদের একটা জায়গা দিতে হবে।”
আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো বলছে, পর্যাপ্ত খাবার, স্যানিটেশন ও আশ্রয় ছাড়া ভূমিকম্পের এই আঘাত মোকাবেলা করা যাবে না। এভাবে চলতে থাকলে বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র ও ভূমিকম্পপ্রবণ এই দেশটিতে রোগ ও দারিদ্র ছড়িয়ে পড়বে।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে শিশুরাও আছে। ১২ বছর বয়সী সাদিক ধ্বংসস্তূপের নিচে ১১ ঘণ্টা আটকে থাকার পর তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তার পাশেই ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তার দাদী ও চাচাতো ভাই নিহত হয়ে পড়েছিল।
একটি দড়ির বিছানায় শান্তভাবে বসে থাকা সাদিক বলেন, “ভেবেছিলাম আমি মারা যাবো। মনে হচ্ছিল, যেন কেয়ামতের দিন।”