Published : 03 Jan 2026, 12:20 AM
সুইজারল্যান্ডের পানশালয় নতুন বছর বরণের পার্টিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানি হয়েছে অন্তত ৪০ জনের। আহত হয়েছে ১১৯ জন মানুষ। কী ভাবে লেগেছিল এই আগুন?
প্রাথমিক তদন্তে যে তথ্য বেরিয়ে এসেছে তাতে বলা হচ্ছে, শ্যাম্পেনের বোতলের মুখে লাগানো ফোয়ারা মোমবাতি জ্বালানো এবং তা সিলিংয়ের খুব কাছে থাকার কারণেই হয়ত আগুন ধরে গিয়েছিল।
সুইজারল্যান্ডের ক্র্যানস-মন্টানা রিসর্টের ‘লা কনস্টেলেশন’নামের ওই পানশালায় বর্ষবরণের উদ্যাপনে নানা বয়সের প্রচুর মানুষ জড়ো হয়েছিলেন।
মধ্যরাতে যখন নতুন বছরকে বরণ করে নিতে শ্যাম্পেনের ফোয়ারা ছুটছে, ঠিক তখনই ঘটে যায় ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। আনন্দের পার্টি নিমেষেই বদলে যায় মৃত্যুপুরীতে।
আগুন এত দ্রুত ছড়ায় যে, অনেকেই পানশালা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি। ফলে ঝলসে মৃত্যু হয় তাদের।
ঘটনার প্রাথমিক তদন্তের পর স্থানীয় কৌসুলি বিয়াট্রিস পিলোদ বলেন, পানশালাতে আগুনের সূত্রপাত হয় স্ফুলিঙ্গ মোমবাতি সিলিংয়ের খুব কাছে চলে যাওয়ার পর।
এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “সবকিছু দেখে শুনে মনে হয়েছে, আগুন জ্বলন্ত মোমবাতি থেকে লেগেছে, আর সেই মোমবাতি লাগানো ছিল শ্যাম্পেনের বোতলে।”
তবে তিনি বলেন, আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে এটি একটি অনুমান মাত্র, বিষয়টি এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সিলিংয়ে যে ফোম ছিল, সেটির কারণে আগুন অতি দ্রুত ছড়িয়েছে কিনা সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান কৌসুলি বিয়াট্রিস।
আরও তদন্ত করলে বের হয়ে আসবে এ ঘটনা ঘটার পেছনে কেউ অবহেলা বা গাফিলতির জন্য দায়ী কিনা বা কারও কোনও অপরাধ আছে কিনা।
বিবিসি শ্যাম্পেনের বোতালের মুখে লাগানো ফোয়ারা মোমবাতি জ্বালিয়ে নতুন বছর উদযাপনের যাচাই করা দুটি ছবি প্রকাশ করেছে।
এর একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, পানশালায় উপস্থিত লোকজন শ্যাম্পেনের বোতল হাতে উঁচু করে তুলে ধরে আছে। তাতে লাগানো মোমবাতি। সেটি থেকে আগুনের স্ফুলিঙ্গ বের হচ্ছে। আর সিলিংয়েও আগুন ধরেছে বলে মনে হচ্ছে।
আরেকটি ছবিতে একজনের ঘাড়ের ওপরে উঠে বসে থাকা আরেকজনের হাতে শ্যাম্পেনের বোতলে লাগানো ফোয়ারা মোমবাতি উঁচু করে তুলে ধরে থাকতে দেখা গেছে।
বর্ষশেষের ওই রাতে স্কি রিসর্টের বিলাসবহুল সেই পানশালায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে ভিড় করেছিলেন বিদেশি পর্যটকেরাও। সবাই যখন গান, নাচ, খাওয়াদাওয়ায় মত্ত, এমনই একটা মুহূর্তে প্রবল শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে।
আগুনের লেলিহান শিখা মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন থেকে বাঁচতে সবাই দরজার দিকে ছুটেছিল। মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে ২০০ মানুষ একসঙ্গে ওই সরু পথ দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেছিল। কেউ কেউ বেরিয়ে এসে প্রাণ বাঁচাতে পারলেও অধিকাংশই আটকে পড়ে।