Published : 06 Jul 2026, 03:26 PM
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার মূল শোক মিছিল সোমবার সকালে তেহরানে শুরু হয়েছে।
ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিম ও গণমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, খামেনির এই শেষ যাত্রার মিছিলে যোগ দিতে লাখ লাখ মানুষ তেহরানের রাস্তায় নেমে এসেছে।
প্রেস টিভি জানিয়েছে, কর্মকর্তারা এই শোক মিছিলকে ‘আধুনিক ইরানের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জনসমাগম’ বলে বর্ণনা করেছেন।
আলি খামেনির শেষকৃত্যের এই অনুষ্ঠান শুক্রবার থেকে শুরু হয়। এদিন বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিরা ও পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর প্রতিনিধিরা ও অন্যান্য কর্মকর্তারা প্রয়াত খামেনিকে শ্রদ্ধা জানান।
এরপর শনি ও রোববার তেহরানের ইমাম খোমেনি মুসাল্লামে (মসজিদ কমপ্লেক্স) খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে লাখ লাখ ইরানি সমবেত হয়েছিল। এ সময় মসজিদে কোরান তেলওয়াত করা হয়। এরপর শোকগীতিতে মুখরিত হয়ে ওঠা প্রাঙ্গণটিতে গভীর শোকের আবহ তৈরি হয়।

রোববার সকালে মুসাল্লামে খামেনির পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জনসমুদ্রে পরিণত হওয়া জানাজায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পার্লামেন্টের স্পিকার বাকের কলিবফসহ ঊধ্র্বতন নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
সোমবার মূল শোক মিছিলের পর খামেনির ও তার সঙ্গে নিহত তার পরিবারের সদস্যদের কফিনগুলো ইরানের পবিত্র শহর কোমে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখান থেকে খামেনির কফিন বুধবার ইরানের নাজাফ ও কারবালা শহরে নেওয়া হবে আর এ দুটি শহরেও জানাজা ও শ্রদ্ধাজ্ঞাপন অনুষ্ঠান হবে।
তাসনিম জানিয়েছে, ইরাকের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতাদের অনুরোধে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরানের কর্তৃপক্ষ।

এর পরদিন বৃহস্পতিবার আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলি খামেনিকে ইরানের মাশহাদ শহরে ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গনে দাফন করা হবে।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে ৪০ দিন ধরে চলা আগ্রাসী যুদ্ধের সূচনালগ্নে ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে তেহরানের নিজ বাসভবনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় খামেনি নিহত হন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনির শেষকৃত্যানুষ্ঠানের মধ্যে রোববার লাল পতাকা উড়িয়ে তাকে হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার শপথ নিয়েছে লাখো ইরানি জনতা। খামেনির হত্যাকাণ্ডকে কোনোভাবেই ‘জবাবহীন’ ছেড়ে দেওয়া হবে না বলেও ঘোষণা এসেছে তেহরানের এই জমায়েত থেকে।
আরও পড়ুন:
খামেনির শেষকৃত্যে লাল পতাকা উড়িয়ে প্রতিশোধের শপথ
'ভাবতাম মানুষ তাকে ঘৃণা করে', খামেনির শেষকৃত্যে ইরানিদের কান্না