Published : 05 Jul 2026, 09:45 PM
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষকৃত্যানুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে লাল পতাকা উড়িয়ে তাকে হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার শপথ নিয়েছে লাখো জনত।
খামেনির হত্যাকাণ্ডকে কোনোভাবেই ‘জবাবহীন’ ছেড়ে দেওয়া হবে না বলেও ঘোষণা এসেছে তেহরানের এই জমায়েত থেকে।

ইরানের তাসনিম নিউজ এসেন্সির খবরে বলা হয়, শনি ও রোববার লাখ লাখ শোকাতুর মানুষ তেহরানের গ্র্যান্ড মুসাল্লায় সমবেত হন। সেখানে গভীর শোক প্রকাশের পাশাপাশি খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়।

এ সময় তাদের হাতে ছিল লাল পতাকা, যেখানে আরবি অক্ষরে লেখা ছিল ‘হে হোসেনের রক্তের প্রতিশোধ গ্রহণকারীরা’। এই পতাকা কারবালায় ইমাম হোসেনের শাহাদাতের সঙ্গে জড়িত শিয়া ঐতিহ্যের একটি গভীর ও ঐতিহ্যগত প্রতীক।

তাসনিম নিউজের ভাষ্য, ঐতিহাসিকভাবে লাল ব্যানার বা পতাকা দিয়ে বোঝানো হয়, নির্দোষ মানুষের রক্ত অন্যায়ভাবে ঝরানো হয়েছে এবং এর বিচার এখনো বাকি আছে। সাধারণত মহররমের শোক অনুষ্ঠানের সময় শিয়া মুসলমানরা এ পতাকা দেখান।

এ পতাকা দিয়ে ন্যায়ের সন্ধান এবং ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার দৃঢ় সংকল্পও বোঝানো হয়।

গ্র্যান্ড মুসাল্লার জমায়েতে শোকাহত মানুষরা বারবার ‘প্রতিশোধ’, ‘প্রতিশোধ’ স্লোগান দেন। এ সময় তাদের হাতে লাল পতাকা ছাড়াও ইরানের জাতীয় পতাকা, খামেনির প্রতিকৃতি, দেশটির বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ মোজতবা খামেনির ছবি এবং মুষ্টিবদ্ধ হাতের প্রতীক ছিল।

ইরান যুদ্ধের প্রথম দিন গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন–ইসরায়েলি হামলায় ৮৬ বছর বয়সী খামেনি নিহত হন। হামলায় খামেনির মেয়ে সাইয়্যেদা বুশরা হোসেইনি খামেনি, জামাতা মেসবাহ-উল-হুদা বাকেরি, পুত্রবধূ (বর্তমান সর্বোচ্চ নেতার স্ত্রী) জাহরা হাদ্দাদ আদেল, ১৪ মাস বয়সি নাতনি (বুশরাকন্যা) জাহরা মোহাম্মাদি গোলপায়েগানিও নিহত হয়।
পুরনো খবর