Published : 16 Mar 2026, 03:07 PM
ইরানের শত্রুদের সঙ্গে তথ্য শেয়ার করার অভিযোগে দেশটির কর্তৃপক্ষ ৫০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানিয়েছেন ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটির পুলিশ প্রধান।
রোববার পুলিশ প্রধান আহমদরেজা রাদান বলেছেন, এসব মামলার অর্ধেকই গুরুতর ঘটনা ছিল।
“এদের মধ্যে থাকা লোকজন আঘাতে যেসব লক্ষ্যবস্তু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেগুলোর তথ্য পাচার করেছে আর অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ভিডিও করে সেগুলো পাঠিয়ে দিয়েছে,” বলেছেন তিনি।
এর আগে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছিল, এসব অভিযোগে রোববার ইরানের বেশ কয়েকটি অঞ্চল থেকে বহুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ইরানের আধা-স্বায়ত্তশাসিত বার্তা সংস্থা তাসনিম জানায়, ইসরায়েলের কাছে ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা অবস্থানের বিস্তারিত তথ্য পাঠানোর অভিযোগে উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় প্রাদেশিক প্রসিকিউটরের দপ্তর ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। আর উত্তরপূর্বাঞ্চল থেকে আরও ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরা স্পর্শকাতর এলাকা ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোর তথ্য সংগ্রহ করছিল বলে অভিযোগ।
“জায়নবাদী শত্রু (ইসরায়েল) আর যুক্তরাষ্ট্র ইরান দখল করার চেষ্টা করছে আর পাশাপাশি পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে দাঙ্গা বাঁধিয়ে দেওয়ার জন্য গুপ্তচর ও ভাড়াটেদের সক্রিয় করছে,” ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের গোয়েন্দা সংস্থার এক প্রাদেশিক শাখা এমনটি বলেছে বলে তাসনিম জানিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা স্টুডেন্ট নিউজ নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, ‘জনমতকে বিরক্ত করার চেষ্টা ও শোকের প্রতীক পোড়ানোর’ জন্য পশ্চিমাঞ্চলীয় লোরেস্তান প্রদেশে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
ইসরায়েলের সামরিক কৌশলের বিষয়ে অবগত এক সূত্র চলতি সপ্তাহে রয়টার্সকে জানায়, মাটিতে থাকা চরদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইসরায়েল নিরাপত্তা চেকপয়েন্টগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার মাধ্যমে ইরানে আক্রমণের এক নতুন পর্ব শুরু করেছে।
জানুয়ারিতে ইরানে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছিল। তখন প্রাণঘাতী দমনপীড়নের মাধ্যমে সরকারবিরোধী ওই অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ করেছিল ইরানি কর্তৃপক্ষ। ইরানের ইসলামিক শাসন উচ্ছেদের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই ‘হিংসাত্মক দাঙ্গা’ উস্কে দিয়েছিল বলে অভিযোগ তেহরানের।