Published : 28 Sep 2025, 03:53 PM
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ওরেগনের পোর্টল্যান্ডে সেনা মোতায়েনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ ও ‘দেশি সন্ত্রাসীদের’ হাত থেকে কেন্দ্রীয় অভিবাসন কেন্দ্রগুলোকে সুরক্ষা দিতে ‘প্রয়োজনে, পূর্ণ শক্তি’ ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছেন।
ডেমোক্র্যাট-নেতৃত্বাধীন নতুন আরেকটি শহরে সেনা নামানোর আদেশ দিয়ে শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ‘যুদ্ধবিধ্বস্ত পোর্টল্যান্ডে অ্যান্টিফা ও অন্যান্য দেশি সন্ত্রাসীদের হাতে আক্রান্ত আইসিই (অভিবাসন ও শুল্ক কার্যকর) কেন্দ্রগুলোকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় সেনা সরবরাহে’ প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে নির্দেশনা দিয়েছেন।
এর প্রতিক্রিয়ায় পোর্টল্যান্ডের মেয়র কিথ উইলসন বলেছেন, “পোর্টল্যান্ড কিংবা যে কোনো আমেরিকান শহরে প্রয়োজনীয় সেনার সংখ্যা হচ্ছে শূন্য। প্রেসিডেন্ট এখানে কোনো অরাজকতা বা সহিংসতা পাবেন না, যদি না তিনি নিজেই এগুলো করার ফন্দি আঁটেন।”
ওরেগন অন্যান্য কর্মকর্তার মতো কিথও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই ট্রাম্পের আদেশের কথা জানতে পারেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
পোর্টল্যান্ডে এ বছরের প্রথম ছয় মাসে সহিংস অপরাধের পরিমাণ অনেক কমেছে বলে তথ্য উপাত্তে দেখা যাচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫১% কমেছে বলে মেজর সিটিজ চিফস এসোসিয়েশন প্রকাশিত মিডইয়ার ভায়োলেন্ট ক্রাইম রিপোর্টে দেওয়া প্রাথমিক তথ্যে দেখা যাচ্ছে।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পোর্টল্যান্ডে এ সময়ের মধ্যে ১৭টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, জনসংখ্যা হিসেবে তুলনীয় টেনেসির মেমফিসে ও কেন্টাকির লুইসভিলে একই সময়ে হত্যাকাণ্ড হয়েছে যথাক্রমে ১২৪ ও ৫৬টি।
শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ওরেগনের ডেমোক্র্যাট গভর্নর টিনা কোটেক সেনা মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তা প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বলেছেন, এ নিয়ে ট্রাম্প ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মন্ত্রী ক্রিস্টি নোয়েমের সঙ্গে তার কথা হয়েছে।
“কোনো বিদ্রোহ নেই, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য কোনো হুমকি নেই, এবং সে কারণে আমাদের বড় বড় শহরগুলোতে সেনারও দরকার নেই।
“আমি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাবো, আশা করছি তিনি তার সেনা মোতায়েনের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার কথা ভাববেন,” বলেছেন কোটেক।
ওরেগনের ডেমোক্র্যাট সেনেটর রন ওয়াইডেন এক্সে লিখেছেন, “ট্রাম্প সম্ভবত ২০২০ সালের কৌশলই নতুন করে খেলছেন এবং এবং সংঘাত ও সহিংসতা উস্কে দেওয়ার লক্ষ্যে পোর্টল্যান্ডে হানা দিচ্ছেন।”
মিনিয়াপোলিসে জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের পর উত্তরপশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত ‘উদারপন্থি শহর’ খ্যাত পোর্টল্যান্ডও ফুঁসে উঠেছিল। বিক্ষোভ চলেছিল কয়েক মাস ধরে। সেসময়কার বিক্ষোভের অনেক নেতাই বলছেন, ট্রাম্পের সেনা মোতায়েন পরিস্থিতি শান্ত না করে উল্টো বিক্ষোভ আরও উসকে দিয়েছিল।
ডেমোক্র্যাটরা সমালোচনা করলেও সেনা মোতায়েনে ট্রাম্পের পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন অনেক রিপাবলিকান কর্মকর্তা।
মার্কিন শ্রমমন্ত্রী লরি চাভেজ-ডিরেমার বলেছেন, ‘অরাজকতা’ কীভাবে পোর্টল্যান্ডকে ‘অপরাধগ্রস্ত যুদ্ধাঞ্চলে’ পরিণত করছে তা দেখেছেন তিনি।
‘আইসিই স্থাপনাগুলো সুরক্ষিত রাখতে এবং আমেরিকাকে মহান করতে’ পদক্ষেপ নেওয়ায় ট্রাম্পকে ধন্যবাদও দিয়েছেন একসময় ওরেগন থেকে প্রতিনিধি পরিষদে যাওয়া রিপাবলিকান চাভেজ-ডিরেমার।
এ বছরের শুরুর দিকে ট্রাম্প লস এঞ্জেলেস ও ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেছিলেন। টেনেসির মেমফিসেও কয়েকদিনের মধ্যে কেন্দ্রীয় এজেন্টদের যাওয়ার কথা।
কাগজপত্রহীন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানকে ঘিরে অস্থিরতা মোকাবেলায় ট্রাম্প লস এঞ্জেলেসে ২০০০ কেন্দ্রীয় সেনা নামানোর নির্দেশ দেন। শহরটিতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কয়েকদিন ধরে সংঘর্ষ দেখা যায়, তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদুনে গ্যাসও ছুড়তে হয়েছিল।
এ মাসের শুরুর দিকে ক্যালিফোর্নিয়ার এক ফেডারেল বিচারক লস এঞ্জেলেসে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন বৈধ নয় জানিয়ে রায় দেন। ওরেগনে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনে প্রেসিডেন্টের আইনি এখতিয়ার আছে কিনা, তা স্পষ্ট হওয়া যায়নি।
ট্রাম্প সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়ার অর্থ কি, সেখানে কি মার্কিন সেনা পাঠানো হবে না ন্যাশনাল গার্ড, তাও স্পষ্ট হওয়া যায়নি। ‘পূর্ণ শক্তি’ বলতে তিনি কী বুঝিয়েছেন তাও পরিষ্কার নয়।
এ বছরের জুন থেকেই পোর্টল্যান্ডের আইসিইর স্থাপনাগুলো ঘিরে একের পর এক বিক্ষোভ হয়েছে, যার কোনো কোনোটিতে সহিংস সংঘাতও দেখা গেছে।
এসব ঘটনায় ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয় ২৬ জনের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এনেছেন তার মধ্যে অগ্নিসংযোগ, পুলিশ কর্মকর্তার ওপর আক্রমণ, গ্রেপ্তারে বাধাসহ একাধিক অপরাধের উল্লেখ রয়েছে।