Published : 05 Jan 2026, 03:16 PM
ইরানে এক সপ্তাহ ধরে চলা অস্থিরতায় অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে অধিকার আন্দোলনকারী গোষ্ঠীগুলো জানিয়েছে।
তীব্র মুদ্রাস্ফীতিতে জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় হয়ে ওঠার পর গত সপ্তাহের রোববার থেকে ইরানজুড়ে প্রতিবাদ শুরু হয়। কয়েক দিন ধরে অব্যাহত প্রতিবাদের মধ্যে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে সহিংসতা ছড়ায়।
রয়টার্স জানিয়েছে, সপ্তাহজুড়েই মৃত্যু ও গ্রেপ্তারের খবর দিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম ও অধিকার আন্দোলনকারী গোষ্ঠীগুলো, তবে পরিসংখ্যান ভিন্ন ছিল। রয়টার্স এসব সংখ্যা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করতে পারেনি।
২০২২ সালে পুলিশের নিরাপত্তা হেফাজতে ২২ বছরের কুর্দি ইরানি তরুণী মাশা আমিনির মৃত্যুর পর দেখা দেওয়া গণবিক্ষোভের পর এটিই ইরানে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ; যদিও ওই সময়ের তুলনায় এবারের বিক্ষোভের তীব্রতার মাত্রা কম ছিল।
তবে এবার জনগণের অসন্তোষের ব্যাপারে দেশটি শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সুর তুলনামূলকভাবে অনেকটা নরম ছিল। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিক্ষোভকারীদের ‘প্রতিনিধিদের’ সঙ্গে বৈঠকে বসার নির্দেশ দিয়ে ‘সমস্যা সমাধানে’ পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছিলেন।
খোলা বাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের রেকর্ড দরপতনের পর গত সপ্তাহের রোববার তেহরানের গ্রান্ড বাজারের দোকানিরা ধর্মঘট শুরু করে। এই ধর্মঘট থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরে দেশজুড়ে ছড়ায়।
দেশটির সরকারি হিসাব অনুযায়ী দেশজুড়ে অস্থিরতায় এ পর্যন্ত অন্তত ১০ জন নিহত হওয়ার খবর হলেও কুর্দি অধিকার আন্দোলনকারী গোষ্ঠী হেঙ্গাও বলছে, বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। অপরদিকে অধিকার আন্দোলনকারী গোষ্ঠী হরানা জানিয়েছে, অন্তত ১৬ জন নিহত ও ৫৮২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ইরানের পুলিশ প্রধান আহমদ-রেজা রাদান দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শুধু রাজধানী তেহরান থেকে ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আর এরা প্রায় সবাই প্রতিবাদের নেতৃত্ব পর্যায়ের লোক।